শেখ হাসিনা বেঁচে থাকতে অস্থিতিশীলতার চেষ্টা চলবে: তথ্য উপদেষ্টা
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ ৯:৫৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
শেখ হাসিনা যত দিন বেঁচে থাকবেন, তত দিন সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তবে এসব চেষ্টা প্রতিহত করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, নাশকতার চেষ্টা মানেই ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পথ সুগম হওয়া নয়।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন ডা. জাহেদ উর রহমান।
পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মতে, এ ধরনের তৎপরতা শুধু ডিসেম্বরকে ঘিরে নয়, শেখ হাসিনা যত দিন বেঁচে থাকবেন, তত দিন চলতে পারে। তবে সরকার এসব অপচেষ্টা মোকাবিলা করবে।
পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত থাকা এবং এতে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে তাঁদের জীবন কঠিন হয়ে পড়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সরকার আগেভাগেই মজুরি কমিশন গঠন করেছে। ফলে আন্দোলনের মূল দাবির সমাধান হওয়ার কথা।
তিনি বলেন, পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পাঁচ বছর পরপর পর্যালোচনার নিয়ম রয়েছে। ২০০৬, ২০১০, ২০১৩, ২০১৮ ও ২০২৩ সালে মজুরি পর্যালোচনা করা হয়েছে। সে হিসাবে ২০২৬ সালে নতুন করে মজুরি কমিশন গঠনের প্রয়োজন ছিল না। এরপরও শ্রমিকদের স্বার্থ বিবেচনায় সরকার কমিশন গঠন করেছে।
আন্দোলনে সহিংস আচরণের বিষয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রকৃত পোশাকশ্রমিকদের দ্বারা সংঘটিত হওয়ার কথা নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর অধীনস্থ বাহিনীগুলোর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব ঘটনার পেছনে সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন থাকার কথা জানিয়েছেন।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক তৎপরতা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দলটি বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে কোনো কিছু করতে পারবে বলে সরকার মনে করে না। তবে দলটির কাছে বিপুল অর্থ রয়েছে, যা ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে। এসব তৎপরতার সঙ্গে ডিসেম্বরের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে নিশ্চিত নন।
শ্রমিক আন্দোলনে প্রকৃত শ্রমিকদের বাইরে অন্যদের অংশগ্রহণ এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার আগের মতো বলপ্রয়োগ করে আন্দোলন দমাতে চায় না। আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণেরাও রাষ্ট্রের নাগরিক। তাই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি ও ভোগান্তি কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যে পরিস্থিতির অবসান হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার তাঁকে ফিরিয়ে আনতে চায়। তিনি নিজে দেশে ফিরুন কিংবা তাঁকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হোক, সরকারের অবস্থান একই। তবে পাসপোর্টের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বা ট্রাভেল পাস দেওয়ার বিষয়ে আগাম কোনো সিদ্ধান্ত জানাতে চাননি তিনি। পরিস্থিতি তৈরি হলে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
পুলিশের বলপ্রয়োগ প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আইন মেনে এবং পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুলিশকে শক্তি প্রয়োগ করতে হবে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের যে চর্চা ছিল, তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সর্বনিম্ন ক্ষয়ক্ষতি নিশ্চিত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার চর্চা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে সরকার।
১৪৬ বার পড়া হয়েছে