সর্বশেষ

সারাদেশ

দৌলতপুরে মেলার আড়ালে জুয়ার আসর, প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

আতিয়ার রহমান, দৌলতপুর, কুষ্টিয়া
আতিয়ার রহমান, দৌলতপুর, কুষ্টিয়া

মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ ১১:১৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় মেলার আড়ালে রাতের বেলায় জুয়ার আসর পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার রিফাতপুর ইউনিয়নের ঝাউদহ বাবলুর বাজার ও খলিশাকুন্ডি ইউনিয়নের শ্যামপুর বাজারসংলগ্ন একটি বাগানে পৃথকভাবে এসব আসর বসছে বলে দাবি স্থানীয়দের। সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলা এসব আসরে অংশ নিয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন অনেকে। দীর্ঘদিন ধরে এমন অভিযোগ থাকলেও কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান না হওয়ায় প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে রাতের আঁধারে জুয়ার আসর পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, উপজেলার দুটি পৃথক স্থানে মেলার আড়ালে নিয়মিত জুয়া খেলা চলছে। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, বিশেষ করে নিম্নআয়ের শ্রমজীবীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রিফাতপুর ইউনিয়নের ঝাউদহ বাবলুর বাজার এলাকায় মেলার নামে একটি জুয়ার আসর বসানো হয়েছে। একই ধরনের আয়োজন চলছে খলিশাকুন্ডি ইউনিয়নের শ্যামপুর বাজারসংলগ্ন একটি বাগানে। অভিযোগ রয়েছে, দিনের বেলায় মেলার স্বাভাবিক কার্যক্রম চললেও সন্ধ্যার পর সেখানে জুয়ার আসর জমে ওঠে, যা গভীর রাত পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, এসব আসরে বিভিন্ন বয়সের মানুষ অংশ নেন। কেউ অল্প টাকা নিয়ে খেলা শুরু করলেও একপর্যায়ে বড় অঙ্কের অর্থ হারিয়ে ফেলেন। এতে দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষেরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাঁদের কষ্টার্জিত অর্থ জুয়ায় হারিয়ে যাওয়ায় পরিবারে আর্থিক সংকট তৈরি হচ্ছে।

মেলার আড়ালে জুয়ার আসর পরিচালিত হওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে। তাঁদের প্রশ্ন, মেলার অনুমতি দেওয়ার পর সেখানে কী ধরনের কার্যক্রম চলছে, তা তদারকির দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। অনুমোদিত আয়োজনের আড়ালে রাতভর জুয়ার আসর চললে আয়োজকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন?

সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, জুয়ার প্রভাব শুধু ব্যক্তির আর্থিক ক্ষতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর কারণে ঋণগ্রস্ততা, পারিবারিক বিরোধ ও সামাজিক অস্থিরতা বাড়তে পারে। উপার্জনের অর্থ জুয়ায় হারিয়ে অনেক পরিবার দুর্ভোগে পড়ছে। ব্যাহত হচ্ছে সন্তানদের পড়াশোনা ও স্বাভাবিক জীবনযাপন।

স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্র মেলার নাম ব্যবহার করে এসব জুয়ার আসর পরিচালনা করছে। প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তিকে ম্যানেজ করে কার্যক্রম চালানোর চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলেছেন কেউ কেউ।

তবে প্রশাসনের কর্মকর্তা কিংবা রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা পাওয়া যায়নি। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দায়ী করা সমীচীন নয়।

দৌলতপুরে মাদকের পাশাপাশি জুয়ার বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাঁদের মতে, জুয়ার কারণে আর্থিক সংকট, ঋণগ্রস্ততা, পারিবারিক বিরোধ এবং অপরাধপ্রবণতা বাড়তে পারে। একজন শ্রমজীবী মানুষ সারাদিন পরিশ্রম করে উপার্জিত অর্থ জুয়ায় হারালে তার প্রভাব পড়ে পুরো পরিবারের ওপর।

এলাকাবাসীর দাবি, রিফাতপুর ইউনিয়নের ঝাউদহ বাবলুর বাজার এবং খলিশাকুন্ডি ইউনিয়নের শ্যামপুর বাজারসংলগ্ন বাগানে সরেজমিন তদন্ত করা হোক। মেলার অনুমতিপত্র, আয়োজকদের পরিচয়, অনুমতির শর্ত ও রাতের কার্যক্রম খতিয়ে দেখে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

একই সঙ্গে এসব আয়োজনের পেছনে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা চক্র জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

দৌলতপুর উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে এলাকাবাসীর প্রশ্ন, মেলার নামে জুয়ার আসর পরিচালনার অভিযোগ ওঠার পরও কেন দৃশ্যমান অভিযান নেই? এসব কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের পদক্ষেপ কী?

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, “আমি অনবগত নই। আপনারা বললেন, আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

অন্যদিকে, এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

১৩৫ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০