পোশাকশ্রমিক বিক্ষোভের ঘটনায় বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬ ৩:১০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানী ঢাকা, গাজীপুর, সাভার ও আশুলিয়ায় বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনায় উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে রোববার সকাল থেকে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুরের কালিয়াকৈর, সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকেরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন। বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া এবং যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতির কারণে এসব এলাকার প্রায় ৩০০টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, ঢাকা ও গাজীপুরে শ্রমিকদের সহিংস বিক্ষোভে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা যুক্ত হয়েছেন। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ছাত্রলীগের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সাজমুল ইসলামকে একটি মিছিলের নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে। তাঁর মিছিলের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এ ঘটনায় গাজীপুর থেকে আওয়ামী লীগ, শ্রমিক লীগ ও ছাত্রলীগের নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীর মিরপুর থেকে এসব সংগঠনের ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
গাজীপুরে সকাল নয়টার দিকে পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ ও অবরোধ শুরু করেন। সহিংসতার কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ছয় ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর বেলা তিনটার দিকে মহাসড়কটিতে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
অন্যদিকে, রাজধানীর মিরপুরেও একই দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন পোশাকশ্রমিকেরা। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে মিরপুর ১১ নম্বর মেট্রোস্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেন বিক্ষোভকারীরা।
সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে মিরপুর ১০, মিরপুর ১১ ও পল্লবী মেট্রোস্টেশন দুপুর ১২টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়।
এ পরিস্থিতিতে শ্রমিক অসন্তোষ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং বিএনপির শ্রমিক সংগঠন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
এর আগে রোববার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বৈঠকে পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। শ্রমিক আন্দোলনের কারণে মন্ত্রীর পূর্বনির্ধারিত সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরও বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে, রোববার সকালে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন শ্রমমন্ত্রী।
সংবাদ সম্মেলনে আরিফুল হক চৌধুরী জানান, সরকার আগে থেকেই সংবাদমাধ্যম এবং শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় রোববার মজুরি বোর্ড গঠনের কথা জানিয়েছিল। এরপরও শ্রমিকদের সড়কে অবস্থানের কারণে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে আন্দোলনরত শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
১১১ বার পড়া হয়েছে