সর্বশেষ

লাইফস্টাইল

এইচএসসির ফল খারাপ হলে সন্তানের পাশে থাকবেন যেভাবে

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬ ১১:১৯ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
সন্তানের এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষার ফল প্রত্যাশা অনুযায়ী না হলে হতাশ হয়ে পড়েন অনেক অভিভাবক। কাঙ্ক্ষিত জিপিএ না পাওয়ায় শিক্ষার্থীর মনেও তৈরি হয় উদ্বেগ, হতাশা ও অনিশ্চয়তা। এমন পরিস্থিতিতে বকাঝকা কিংবা অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে সন্তানের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে জরুরি। পরিবারের মানসিক সমর্থন তাকে এই কঠিন সময় কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করতে পারে।

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এইচএসসি পরীক্ষার ফল উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও ভবিষ্যৎ পেশাজীবনের সম্ভাবনার সঙ্গে এই ফলকে অনেকেই মিলিয়ে দেখেন। ফলে প্রত্যাশিত ফল না এলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক উভয়েই সামাজিক চাপ, হতাশা ও মানসিক অস্থিরতার মুখে পড়তে পারেন।

তবে একটি পরীক্ষার ফল সন্তানের মেধা, যোগ্যতা কিংবা ভবিষ্যৎ সাফল্যের চূড়ান্ত মাপকাঠি নয়। ফল প্রকাশের পর অভিভাবকের কিছু সচেতন আচরণ সন্তানের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে পারে।

১. বকাঝকা ও নেতিবাচক মন্তব্য এড়িয়ে চলুন

ফল খারাপ হলে অনেক অভিভাবক রাগ বা হতাশা থেকে সন্তানকে বলে ফেলেন, ‘এত টাকা খরচ করে পড়ানোর ফল কী হলো?’ কিংবা ‘তোমাকে দিয়ে কিছুই হবে না।’

এ ধরনের মন্তব্য সন্তানের মনে অপরাধবোধ ও মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। পরীক্ষার ফল ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। এখন বকাঝকা করে তা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। বরং সন্তানের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে তাকে আশ্বস্ত করুন এবং বোঝান, ভুল বা ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

২. অন্যের সন্তানের সঙ্গে তুলনা করবেন না

‘অমুকের ছেলে এত ভালো ফল করেছে, তুমি কেন পারলে না?’—এ ধরনের তুলনা অনেক পরিবারেই দেখা যায়। কিন্তু এতে সন্তানের মধ্যে হীনম্মন্যতা, ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হতে পারে।

প্রতিটি শিক্ষার্থীর মেধা, শেখার ধরন, আগ্রহ ও সক্ষমতা আলাদা। তাই অন্যের ফলাফলের সঙ্গে তুলনা না করে সন্তানের নিজস্ব অগ্রগতি ও ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরুন। ছোট অর্জনগুলোর প্রশংসা করলেও তার আত্মবিশ্বাস বাড়তে পারে।

৩. সন্তানের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন

পরীক্ষায় আশানুরূপ ফল না হওয়ার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। পরীক্ষার সময় অসুস্থতা, মানসিক চাপ, পারিবারিক সমস্যা কিংবা কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে প্রস্তুতির ঘাটতি এর মধ্যে অন্যতম।

সন্তানের সঙ্গে শান্তভাবে কথা বলুন। কেন এমন ফল হলো, সে কী অনুভব করছে এবং তার কোনো সমস্যা ছিল কি না, তা জানার চেষ্টা করুন। কথা বলার সময় দোষারোপ না করে তার বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনুন। এতে সে নিজের অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ পাবে এবং মানসিক চাপও কমতে পারে।

৪. সন্তানের মানসিক অবস্থার দিকে নজর দিন

ফল প্রকাশের পর কোনো কোনো শিক্ষার্থী চুপচাপ হয়ে যায়, বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দেয় কিংবা নিজেকে ঘরের মধ্যে গুটিয়ে রাখে। এসব পরিবর্তনকে শুধু অভিমান বা সাময়িক মন খারাপ ভেবে উপেক্ষা করা ঠিক নয়।

সন্তানের আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা গেলে তার সঙ্গে কথা বলুন এবং নিয়মিত খোঁজখবর রাখুন। তাকে বোঝান, জীবনের মূল্য কোনো পরীক্ষার ফল দিয়ে নির্ধারিত হয় না। দীর্ঘদিন হতাশা, অতিরিক্ত উদ্বেগ কিংবা মানসিক অস্থিরতা থাকলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, মনোবিজ্ঞানী বা পেশাদার কাউন্সেলরের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।

৫. বিকল্প পথ নিয়ে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা করুন

এইচএসসিতে প্রত্যাশিত জিপিএ না পেলেই উচ্চশিক্ষার সুযোগ শেষ হয়ে যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক, ডিগ্রি কলেজ, কারিগরি ও পেশাভিত্তিক শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক কোর্সের মতো বিকল্প রয়েছে।

সন্তানের আগ্রহ, যোগ্যতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিন। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ শিক্ষক, শিক্ষা পরামর্শক কিংবা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা করুন। সন্তানের ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দিয়ে তাকে পরিকল্পনা তৈরিতে অংশ নিতে দিন।

একটি পরীক্ষার ফলই জীবনের শেষ কথা নয়

এইচএসসি পরীক্ষার ফল জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, তবে পুরো জীবন নয়। ভালো ফলাফল যেমন উচ্চশিক্ষার পথ সহজ করতে পারে, তেমনি প্রত্যাশিত ফল না হলেও সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনেক সুযোগ থাকে।

এই সময়ে সন্তানের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন পরিবারের ভালোবাসা, সহানুভূতি ও নির্ভরতার জায়গা। অভিভাবকের ইতিবাচক ভূমিকা তাকে হতাশা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে ভবিষ্যৎ গড়তে সাহায্য করতে পারে।

১২৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
লাইফস্টাইল নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০