মোংলায় শিশু নির্যাতনের অভিযোগ: বন্দর কর্মচারী বরখাস্ত, বাসা বাতিলের নির্দেশ
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রতিবেশী ফ্ল্যাটের শিশুকন্যাকে নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মোংলা থানায় মামলা হয়েছে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর অভিযুক্ত কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে তাঁর নামে বরাদ্দ করা সরকারি আবাসিক ফ্ল্যাটের বরাদ্দও বাতিল করা হয়েছে।
অভিযুক্ত কর্মচারীর নাম ইয়ার মো. সুমির (আইসি নম্বর-২৯৮৭)। তিনি মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সিভিল অ্যান্ড হাইড্রোলিকস বিভাগের সিনিয়র আউটডোর অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মামলার সূত্র ও অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী শিশুটি মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার অ্যান্ড কনজারভেন্সি বিভাগের এক কর্মকর্তার মেয়ে। গত ২৯ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মোংলা থানায় এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বরাবর পৃথক লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ও বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধানে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। এরপর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
রোববার দুপুরে বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আরিফ বিল্লাহ স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা, ১৯৯১-এর প্রবিধি ২(ক) ও ৩৯(খ) অনুযায়ী গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত হিসেবে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই প্রবিধানমালার ৪৫(৫) অনুযায়ী জারি করা আদেশে বলা হয়েছে, সাময়িক বরখাস্ত থাকাকালে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরাকি ভাতা পাবেন। এ ছাড়া কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না।
অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে আরেকটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে তাঁর নামে বরাদ্দ করা সরকারি আবাসিক ফ্ল্যাট বাতিল করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
সম্পত্তি বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক মোস্তফা জামান স্বাক্ষরিত আদেশে স্থায়ী বন্দর মাধবী আবাসিক এলাকার এইচ-২/৬ নম্বর ফ্ল্যাটের বরাদ্দ বাতিল করা হয়।
আদেশ জারির তারিখ থেকে সাত দিনের মধ্যে ফ্ল্যাটটি খালি করে কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফ্ল্যাট খালি না করলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত কর্মচারীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি পলাতক থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আরিফ বিল্লাহ বলেন, প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও সুশাসন বজায় রাখতে শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্তকে সাময়িক বরখাস্ত করার পাশাপাশি তাঁর বরাদ্দ করা আবাসিক ফ্ল্যাট বাতিলের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
মোংলা থানার ওসি (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইন বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তার শিশুকন্যাকে নির্যাতনের ঘটনায় মামলা হওয়ার পর থেকেই পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে তৎপর রয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের দল মাঠে কাজ করছে। এ ধরনের অপরাধে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। দ্রুত গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।
এদিকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মচারীরা। একই দাবি জানিয়েছেন এলাকার সাধারণ বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকেরা।
২০৯ বার পড়া হয়েছে