সর্বশেষ

সারাদেশ

কচাকাটা কলেজে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ, অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ

আতাউর রহমান বিপ্লব, কুড়িগ্রাম
আতাউর রহমান বিপ্লব, কুড়িগ্রাম

রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬ ১১:১৫ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা কলেজে চারটি পদে নিয়োগে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় কলেজের অধ্যক্ষ ও পরিচালনা কমিটির সভাপতির অপসারণ এবং বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল করে নতুন করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগের দাবি জানান তাঁরা।

রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে কচাকাটা হাই স্কুল থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন আন্দোলনকারীরা। মিছিলটি কচাকাটা বাজার প্রদক্ষিণ করে কলেজের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় পুলিশি পাহারায় কলেজের প্রধান ফটক তালাবদ্ধ থাকায় বিক্ষোভকারীরা ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন।

পরে কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ডা. মো. ইউনুস আলী ও অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম জুয়েলের ছবি এবং কুশপুত্তলিকায় আগুন দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা। একপর্যায়ে কলেজের ফটক খুলে দেওয়া হলে মাঠে মানববন্ধন করেন আন্দোলনকারীরা।

মানববন্ধনে নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীরা অভিযোগ করেন, মেধাতালিকায় এগিয়ে থাকা প্রার্থীদের বাদ দিয়ে লিখিত পরীক্ষার চার দিন পর ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ডা. ইউনুস আলী ও অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম অর্থের বিনিময়ে কম মেধাবী প্রার্থীদের নিয়োগ দিয়েছেন।

অভিযোগকারীরা এ নিয়োগকে অবৈধ দাবি করে তা বাতিলের পাশাপাশি নতুন করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানান।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর শনিবার সকাল ১০টায় কচাকাটা কলেজে কম্পিউটার কাম অফিস সহকারী, ল্যাব সহকারী, নৈশপ্রহরী ও আয়া পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এসব পদে চাকরির জন্য আবেদন করেছিলেন ৪৫ জন প্রার্থী।

নির্ধারিত সময়ে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে প্রার্থীরা উপস্থিত হলেও পরীক্ষা শুরু হয় দুপুরের পর। লিখিত পরীক্ষা শেষে ফলাফল প্রকাশ না করে সব প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরে পরীক্ষার ফল সেদিন প্রকাশ না করে চার দিন পর ঘোষণা করা হবে জানানো হলে নিয়োগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন চাকরিপ্রার্থীরা। এরপর কচাকাটা থানা-পুলিশের সহায়তায় কলেজ ত্যাগ করেন অধ্যক্ষসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, লিখিত পরীক্ষার মেধাক্রম অনুসরণ করে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হলেও চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয় রাত আটটার দিকে। এরপর পরীক্ষক ও কলেজসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কলেজ ত্যাগ করেন। পরদিন ২৭ অক্টোবর সকালে অধ্যক্ষ কলেজের নোটিশ বোর্ডে ফলাফল টাঙিয়ে দেন। তবে ফলাফলপত্রে ২৪ অক্টোবর তারিখে স্বাক্ষর করা ছিল বলে দাবি করেন তাঁরা।

লিখিত পরীক্ষায় মেধাক্রমে এগিয়ে থেকেও চাকরি না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ক্ষুব্ধ প্রার্থীরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের কর্মসূচি পালন করেন।

এ সময় বক্তব্য দেন অনিছূর রহমান তোলা ব্যাপারী। তিনি অভিযোগ করেন, নিয়োগ বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে ডা. ইউনুস আলী ফ্যাসিবাদী কায়দায় কলেজের সভাপতি হয়েছেন। মাত্র ১০ মাসের মধ্যে তিনি অবৈধভাবে নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন এবং কলেজকে মেধাশূন্য করার চেষ্টা করেছেন।

তিনি বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল করে নতুন করে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানান। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

১০৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০