শ্রমিক অসন্তোষ: জরুরি বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী, সফর বাতিল শ্রমমন্ত্রীর
রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬ ১১:০২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান বিক্ষোভ ও অসন্তোষ মোকাবিলায় জরুরি উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর বাতিল করেছেন। আজ রোববার সন্ধ্যায় শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের নিয়ে বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলন ও মজুরি বৃদ্ধির দাবিকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে ছয় থেকে সাতজন মন্ত্রী ও উপদেষ্টাকে নিজের কার্যালয়ে ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রোববার সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের পর এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে অর্থ, স্বরাষ্ট্র ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীসহ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এবং উপদেষ্টা মাহদী আমিন উপস্থিত থাকতে পারেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, রোববার দুপুর ১টার দিকে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পর্যালোচনার জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার।
সূত্রের দাবি, শ্রমিক অসন্তোষ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী দুই দিন আগেই প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তবে শ্রমিক প্রতিনিধির মনোনীত ব্যক্তির নাম পেতে শ্রম মন্ত্রণালয়ের কিছুটা সময় লাগায় মজুরি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়ায় বিলম্ব ঘটে।
সচিবালয়ে মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিয়ে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, দ্রুততম সময়ে বোর্ডের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে সরকার আশা করছে। এর মাধ্যমে মজুরি নির্ধারণের বিষয়টি একটি পর্যায়ে পৌঁছাবে।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের অন্যতম দাবি ছিল মজুরি বোর্ড গঠন। সরকার সেই দাবি পূরণ করেছে। এখন শ্রমিকরা সড়ক ছেড়ে কলকারখানায় কাজে ফিরে যাবেন বলে আশা করছেন তিনি।
শ্রমিকদের আন্দোলন ও বিভিন্ন কারখানায় ছুটি ঘোষণার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, শ্রমিক নেতারা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে জানিয়েছিলেন, রোববার মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের কারখানায় অবস্থান করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু কিছু কারখানায় অপ্রয়োজনীয়ভাবে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং শ্রমিকদের বলা হয়েছে, মজুরি বোর্ডের ঘোষণা এখনো আসেনি।
অথচ শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেই ওই দিন বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল বলে জানান মন্ত্রী।
চলমান আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠন পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে বলে তাঁর ধারণা। এ বিষয়ে জনগণ ও শ্রমিকরা অবগত হবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ডিসেম্বরকে সামনে রেখে শ্রমিক অসন্তোষ উসকে দেওয়া হচ্ছে কি না, জানতে চাইলে শ্রমমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি স্পষ্ট। ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে চলমান আন্দোলনে একটি ছাত্র সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদককে শ্রমিক পরিচয়ে অংশ নিতে দেখা গেছে বলে তিনি দাবি করেন। এ-সংক্রান্ত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
কোন ছাত্র সংগঠনের নেতার কথা বলছেন, জানতে চাইলে তিনি নিষিদ্ধঘোষিত একটি ছাত্র সংগঠনের নাম উল্লেখ করেন।
এদিকে, মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যানকে মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের পাশাপাশি স্বাধীন সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে বোর্ডের প্রথম বৈঠক কবে অনুষ্ঠিত হবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। একইভাবে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণার সম্ভাব্য সময়সীমাও জানানো হয়নি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান শেখ আশফাকুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে খুদে বার্তায় তিনি তাঁকে পরবর্তী সময়ে ফোন করার অনুরোধ জানান।
১২৬ বার পড়া হয়েছে