সাভার-আশুলিয়ায় শ্রমিক আন্দোলনের মুখে ১৭৭ কারখানায় ছুটি
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:৫১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চল। শ্রমিকদের কর্মবিরতি, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের মুখে অন্তত ১৭৭টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে রয়েছে পুলিশ।
শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়ায় পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, কালো তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া বন্ধ এবং অন্যায়ভাবে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধের দাবিতে রোববার (১ নভেম্বর) সকাল থেকে বিভিন্ন কারখানায় কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলনের মুখে অন্তত ১৭৭টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, সকাল থেকে পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করছেন। তাদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৭৭টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে।
জানা যায়, সকালে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় আল-মুসলিম পোশাক কারখানা, টাউজার লাইন ও নিউ এইজ পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কর্মবিরতি শুরু করেন। পরে তাঁরা কারখানা থেকে বেরিয়ে সড়কে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে অন্য কারখানার শ্রমিকরাও তাঁদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেন।
দুপুর ১২টার দিকে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় অনন্ত গার্মেন্টসের সামনে সড়কে অবস্থান নেন শ্রমিকরা। তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শ্রমিকরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ ও অবরোধ করেন। পরে বিকেল ৫টার দিকে পুলিশ তাঁদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি, ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত করা বন্ধ করতে হবে এবং বিভিন্ন অজুহাতে ইচ্ছামতো ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে।
কমফোর্ট কালেকশন নামের একটি পোশাক কারখানার অপারেটর রাজু আহমেদ বলেন, তাঁদের কারখানায় হেলপারদের বেতন ৮ হাজার থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকা। অথচ অন্যান্য কারখানায় এই বেতন তুলনামূলক বেশি। অন্য কারখানায় হাজিরা বোনাস ১ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হলেও তাঁদের কারখানায় দেওয়া হয় মাত্র ৫০০ টাকা। ন্যায্য মজুরি ও ভাতার দাবিতেই তাঁরা রাস্তায় নেমেছেন।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, শ্রমিকরা তিনটি প্রধান দাবি নিয়ে আন্দোলন করছেন। এর মধ্যে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ অন্যতম প্রধান দাবি। এ বিষয়ে রোববার মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তবে শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা দাবি আদায়ে সড়কে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
১১১ বার পড়া হয়েছে