সর্বশেষ

জাতীয়

ব্যক্তিস্বার্থ নয়, জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে: আনসার মহাপরিচালক

এম হাফিজ 
এম হাফিজ 

সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬ ২:০৩ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ব্যক্তিগত প্রত্যাশা ও স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। তিনি বলেছেন, বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য, আদর্শ ও দায়িত্বের সঙ্গে ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনা ও কর্মপরিকল্পনার সমন্বয় ঘটাতে হবে।

৪৫তম বিসিএস (আনসার) ক্যাডারের ১৯ জন নবীন কর্মকর্তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান শেষে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরে উপস্থিত হন। এ উপলক্ষে তাঁদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।

পরে সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত স্বাগত ও পরিচিতিমূলক সভায় নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন মহাপরিচালক। এ সময় তিনি তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব, নেতৃত্বের গুণাবলি, সাংগঠনিক দক্ষতা ও বাহিনীর ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রা নিয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।

মহাপরিচালক বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের বৃহত্তম জনসম্পৃক্ত শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনী। প্রায় ৬০ লাখ সদস্যের এই বাহিনী ব্যাটালিয়ন আনসার, অঙ্গীভূত আনসার, সাধারণ আনসার এবং ভিডিপি-টিডিপি সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত।

বাহিনীর প্রতিটি পর্যায়ের সদস্যের দায়িত্ব ও ভূমিকা আলাদা হলেও জাতীয় নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনকল্যাণে তাঁদের সম্মিলিত অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বিপুল সাংগঠনিক শক্তিকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে বাহিনীর সক্ষমতা ও কার্যকারিতা আরও বাড়াতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, প্রত্যেক মানুষের চিন্তাভাবনা, প্রত্যাশা ও কর্মজীবনের লক্ষ্য আলাদা। তবে ব্যক্তিগত উপলব্ধি ও প্রত্যাশাকে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য, আদর্শ এবং দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তোলা প্রয়োজন। ব্যক্তিগত সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি সাংগঠনিক উৎকর্ষ সাধন এবং জাতীয় স্বার্থে অবদান রাখার মানসিকতা থাকতে হবে।

মহাপরিচালক আরও বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কার্যক্রম শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সামাজিক নিরাপত্তা, জনকল্যাণ, দুর্যোগ মোকাবিলা, মানবিক সহায়তা, স্থানীয় পর্যায়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নেও বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

বাহিনীর বিশাল সদস্যভিত্তিকে কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করে এসব কর্মকাণ্ডে আরও ব্যাপক অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মহাপরিচালক বলেন, বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে একটি সুসংগঠিত, দক্ষ ও জনবান্ধব বাহিনী গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের সদস্যদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখা, তাঁদের প্রত্যাশা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা বোঝা এবং সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।

একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনে সততা, নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা, মানবিক মূল্যবোধ ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের পরিচয় দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সভায় নবযোগদানকারী কর্মকর্তাদের বাহিনীর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ধারণ করে নিজেদের জ্ঞান, মেধা ও কর্মদক্ষতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানানো হয়। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং জাতীয় উন্নয়ন ও নিরাপত্তায় অবদান আরও বিস্তৃত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

অনুষ্ঠানে বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশীদসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

১২১ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০