জুলাইয়ের চেতনা ধারণে রাজনৈতিক ঐক্যের ওপর জোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬ ৬:১১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সব রাজনৈতিক দল ও জনগণের মধ্যে ঐক্য এবং রাজনৈতিক সমঝোতা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে দেশে স্বৈরতান্ত্রিক বা ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য নিশ্চিত করে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করতে হবে।
শনিবার ঢাকার শেরেবাংলা নগরে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর মনসুন থিয়েটারে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
জাদুঘর আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ সেমিনার সিরিজের প্রথম পর্বের আলোচনার বিষয় ছিল ‘স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংকট ও বাকশাল’।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক এহসান মাহমুদের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান বক্তা ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। আলোচনায় অংশ নেন সংবিধান সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ফিরোজ আহমেদ এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাবিবুর রহমান।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ও তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যেখানে ভবিষ্যতে আর কোনো স্বৈরশাসক বা ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থান ঘটতে না পারে। এ জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর ভারসাম্য নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি রাজনৈতিক ঐকমত্য ও সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করা প্রয়োজন, যাতে এসব পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ী হয়।
তিনি বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার স্থায়ী আইনি কাঠামো এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি। গণতন্ত্রের সুরক্ষায় কার্যকর নজরদারি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাও সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট সাংবিধানিক বিধান থাকা সত্ত্বেও ১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠনের মাধ্যমে দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে দেশের সাংবিধানিক সংকট ও স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের ভিত্তি তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত করা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা দুর্বল হওয়া এবং ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থানের অন্যতম প্রধান কারণ। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি হয়। ওই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার পতন ঘটায়।
সেমিনারে সংবিধান সংস্কারের বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা, নির্বাচনী ব্যবস্থা এবং গণভোটসংক্রান্ত প্রস্তাব বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিরোধী দলসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমঝোতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
১১১ বার পড়া হয়েছে