সন্ধ্যা নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ, হাজারো দর্শকের ভিড়
রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ, মাঝিদের জয়ধ্বনি আর কাঁসির আওয়াজে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছিল বরিশালের উজিরপুরের সন্ধ্যা নদী। গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ দেখতে নদীর দুই পাড়ে জড়ো হন কয়েক হাজার নারী-পুরুষ। শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে দ্বিতীয়বারের মতো এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন।
গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে বরিশালের উজিরপুর উপজেলায়। শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার শিকারপুর এলাকার সন্ধ্যা নদীতে অনুষ্ঠিত হয় এই প্রতিযোগিতা। নৌকা বাইচ উপভোগ করতে নদীর দুই তীরে ভিড় করেন শিশু, নারী, পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী কয়েক হাজার মানুষ।
বিকেল চারটায় সন্ধ্যা নদীর শিকারপুর বন্দর এলাকা থেকে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু।
প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন নামের আটটি বিশাল নৌকা অংশ নেয়। উদ্বোধনের পর মাঝিদের একটানা বৈঠা চালানো, কাঁসির আওয়াজ, জয়ধ্বনি ও গানের তালে তালে নদীতে তৈরি হয় রোমাঞ্চকর পরিবেশ। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে প্রতিযোগিতাটি মেজর এম এ জলিল সেতু (ইচলাদী সেতু) এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
নৌকা বাইচ দেখতে নদীর দুই পাড়ে হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে। অনেক দর্শক ছোট নৌকা ও ট্রলার ভাড়া করে নদীতে অবস্থান নিয়ে প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন। অন্যদিকে, বিভিন্ন রঙের পোশাকে সজ্জিত মাঝিরা দলবদ্ধভাবে গান ও জয়ধ্বনি দিয়ে বৈঠা চালিয়ে নিজেদের নৌকাকে সবার আগে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
এ আয়োজনকে ঘিরে পুরো উজিরপুর উপজেলায় উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়। দ্বিতীয় বছরের মতো নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
প্রতিযোগিতা শেষে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলসহ অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ উপলক্ষে মহান মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর এম এ জলিল সেতু সংলগ্ন ইচলাদী প্রান্তে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু। বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) খলিল আহমেদের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার এ.জেড.এম. মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের জনশিক্ষা বিভাগের কীপার আসমা ফেরদৌসি এবং আভাসের নির্বাহী পরিচালক রহিমা সুলতানা কাজল।
নৌকা বাইচের আয়োজক ও পরিকল্পনাকারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা বলেন, এই উৎসব শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি গ্রামীণ সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এমন আয়োজন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ তৈরি করবে। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের মধ্যেও নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে।
তিনি আরও বলেন, সমাজ থেকে মাদক নির্মূল এবং তরুণদের মুঠোফোনের আসক্তি থেকে দূরে রাখতে সুস্থ বিনোদন ও প্রতিযোগিতামূলক আয়োজন বাড়ানো প্রয়োজন। এ ধরনের আয়োজন প্রতিবছর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। অন্য এলাকার মানুষও এ আয়োজন দেখে অনুপ্রাণিত হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উজিরপুর উপজেলা প্রশাসন ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আভাস, বরিশালের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও ইউনেসকো।
১২৪ বার পড়া হয়েছে