নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?
শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ৭:২৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কোনো নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানোর বিষয়ে শরিয়তে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে প্রয়োজন ছাড়া নারীর একান্ত ব্যক্তিগত বিছানা নন-মাহরাম পুরুষকে ব্যবহার করতে না দেওয়াই উত্তম বলে জানিয়েছেন এক মুফতি। এতে পর্দা ও শালীনতা বজায় রাখার পাশাপাশি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব।
সম্প্রতি এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মতামত দিয়েছেন ঢাকার মুহাম্মদপুরের দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার মুফতি ও মুহাদ্দিস আব্দুল কাইয়ুম।
প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়, কোনো নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষ বসতে বা ঘুমাতে পারবেন কি না। জবাবে মুফতি আব্দুল কাইয়ুম বলেন, নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা কিংবা ঘুমানোর বিষয়ে শরিয়তে নিষেধাজ্ঞা নেই। সে হিসেবে এটি ব্যবহার করা জায়েজ।
তবে প্রয়োজন ছাড়া নারীর একান্ত ব্যক্তিগত বিছানা নন-মাহরাম পুরুষকে ব্যবহার করতে দেওয়া থেকে বিরত থাকা উত্তম। এতে পর্দা ও শালীনতা বজায় থাকে এবং অপ্রয়োজনীয় কুধারণা বা ফিতনার আশঙ্কা কমে।
ব্যক্তিগত জীবন ও শালীনতা রক্ষার পরামর্শ
উত্তরে বলা হয়, নারীর ব্যক্তিগত বিছানা স্বামী-স্ত্রীর একান্ত জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত। সেখানে কোনো নন-মাহরাম পুরুষ বসা বা ঘুমানোর কারণে ওই নারী কিংবা তাঁর স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অনুচিত চিন্তা বা কল্পনা তৈরি হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়িয়ে চলাই উত্তম।
এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের সূরা আল-ইসরার ৩২ নম্বর আয়াত উল্লেখ করা হয়। আয়াতটিতে বলা হয়েছে, ‘তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয়ই তা অশ্লীল এবং নিকৃষ্ট পথ।’
উত্তরে ব্যাখ্যা করা হয়, এই আয়াতে ব্যভিচার থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি এর দিকে নিয়ে যেতে পারে এমন পথ ও পরিবেশ থেকেও সতর্ক থাকার নির্দেশনা রয়েছে।
এ ছাড়া সহিহ বুখারির ৫২ নম্বর হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘যে ব্যক্তি সন্দেহযুক্ত বিষয় থেকে বেঁচে থাকে, সে তার দ্বীন ও সম্মানকে নিরাপদ রাখে।’
প্রয়োজনে ব্যবহার করা যাবে
শুধু কোনো নারী বিছানাটি ব্যবহার করেছেন—এ কারণে তা নন-মাহরাম পুরুষের জন্য হারাম হয়ে যায় না। অতিথির প্রয়োজনে অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকলে ওই বিছানায় বসা বা ঘুমানো যেতে পারে।
তবে অপ্রয়োজনে নারীর একান্ত ব্যক্তিগত বিছানা ব্যবহার না করাই অধিক শালীন ও উত্তম। বিশেষ করে এতে ফিতনা বা অনুচিত কল্পনার আশঙ্কা থাকলে এমন পরিস্থিতি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন মুফতি।
১৩৭ বার পড়া হয়েছে