মসজিদুল হারামে এক জামাতে নামাজের ১০০ বছর
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ৬:৫৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে একজন ইমামের নেতৃত্বে এক জামাতে নামাজ আদায়ের প্রচলনের ১০০ বছর পূর্ণ হয়েছে। ১৯২৬ সালের ২৭ অক্টোবর তৎকালীন সৌদি শাসক বাদশাহ আবদুল আজিজের উদ্যোগে পৃথক জামাতে নামাজ আদায়ের দীর্ঘদিনের প্রথা বন্ধ করে মুসল্লিদের একই ইমামের পেছনে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা চালু করা হয়। এরপর থেকে মসজিদুল হারামে একই ওয়াক্তে এক জামাতে নামাজ আদায়ের ঐতিহ্য অব্যাহত রয়েছে।
পবিত্র মক্কার মসজিদুল হারাম মুসলিম বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিবছর লাখ লাখ মুসল্লি পবিত্র কাবাকে কেন্দ্র করে এখানে নামাজ আদায় ও ইবাদত করতে আসেন। এই মসজিদে একই ইমামের নেতৃত্বে এক জামাতে নামাজ আদায়ের প্রচলন মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়।
ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, ১৯২৬ সালের ২৭ অক্টোবর মসজিদুল হারামে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়। তৎকালীন সৌদি শাসক বাদশাহ আবদুল আজিজের উদ্যোগে পৃথক জামাতের পরিবর্তে সব মুসল্লিকে একজন ইমামের পেছনে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা চালু করা হয়।
এর আগে মসজিদুল হারামে সুন্নি ইসলামের চার মাজহাব—শাফেয়ি, হানাফি, মালিকি ও হাম্বলি—এর অনুসারীরা পৃথকভাবে নামাজ আদায় করতেন। প্রতিটি মাজহাবের অনুসারীরা নিজ নিজ ইমামের নেতৃত্বে জামাতে অংশ নিতেন।
সাধারণত শাফেয়ি মাজহাবের অনুসারীরা প্রথমে নামাজ আদায় করতেন। এরপর অন্য মাজহাবের অনুসারীরা পর্যায়ক্রমে নিজেদের জামাতে নামাজ পড়তেন। ফলে একই ওয়াক্তের নামাজ একাধিকবার অনুষ্ঠিত হতো।
ঐতিহাসিক বর্ণনায় বলা হয়েছে, ১৯২৬ সালে বাদশাহ আবদুল আজিজের নির্দেশনা এবং হিজাজ ও নজদের আলেমদের সঙ্গে আলোচনার পর এই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়। এর মাধ্যমে বিভিন্ন মাজহাবের অনুসারীদের একই ইমামের পেছনে নামাজ আদায়ের প্রচলন শুরু হয়।
নতুন ব্যবস্থা চালুর পর থেকে মসজিদুল হারামে একই ওয়াক্তের নামাজের জন্য একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। একাধিক যোগ্য ইমাম পালাক্রমে ইমামতির দায়িত্ব পালন করলেও একই ওয়াক্তে পৃথক জামাতের প্রচলন নেই।
ইসলামের প্রাথমিক যুগে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নেতৃত্বে মুসল্লিদের এক জামাতে নামাজ আদায়ের যে ঐতিহ্য ছিল, মসজিদুল হারামের এই ব্যবস্থাকে তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়।
বর্তমানে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা মুসল্লিরা মসজিদুল হারামে একই জামাতে নামাজ আদায় করেন। ভাষা, দেশ ও ভৌগোলিক পরিচয়ের ভিন্নতা সত্ত্বেও পবিত্র কাবাকে কেন্দ্র করে তাঁদের সম্মিলিত ইবাদত মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা বহন করে।
১০৯ বার পড়া হয়েছে