ফ্যাসিবাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে শুনি বিবেক বিক্রির প্রতিধ্বনি
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ৪:২৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফ্যাসিবাদ কেবল কোনো শাসকের ক্ষমতাকেন্দ্রিক দুঃশাসনের নাম নয়; বরং এর বিস্তার ঘটে অনুগত কণ্ঠের অপপ্রচার, সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষা এবং অন্যায়ের পক্ষে বিবেকহীন সাফাই গাওয়ার মধ্য দিয়ে। শাসকের পতন ঘটলেও তার দোসরদের মানসিকতা ও নিপীড়নের ভাষ্য টিকে থাকলে গণতন্ত্রের জন্য তা গভীর সংকট তৈরি করে।
ফ্যাসিবাদ রাতারাতি শাসকের হাতে জন্ম নেওয়া কোনো দৈত্য নয়। ফ্যাসিবাদপর জন্ম কিংবা পুনর্জন্ম ঘটে শাসকের অনুগত কণ্ঠের নষ্ট ন্যারেটিভ দিয়ে। সুবিধাবাদী গোষ্ঠির প্রাপ্তির তালিকা এবং আশেপাশের চেনা-জানা ন্যায়ের মুখোশে অন্যায়ের পক্ষে সাফাই গাওয়া বিবেক থেকেই ফ্যাসিবাদের বিকাশ ঘটে।
সত্যি বলতে কী, যে কণ্ঠ মানুষের অধিকার হরণ করে বারবার। সুযোগ পেলেই যারা ভিন্নমতকে দমন করে আর রাষ্ট্রকে ব্যক্তিগত সম্পত্তির উত্তরাধিকার ভাবে, সেইসব কণ্ঠের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যারা চাটাচাটি অব্যাহত রাখে, তাদের রাজনৈতিক অবস্থান নিঃসন্দেহে প্রশ্নবিদ্ধ।
কারণ, মতের স্বাধীনতা আর নিপীড়কের অন্যায়ের বৈধতা এক বিষয় নয়।
বাংলাদেশের বাস্তবতায় ফ্যাসিবাদের সহযোগিতা শুধু ক্ষমতার ভাগ নেওয়ায় সীমাবদ্ধ থাকেনা। এরা ফ্যাসিবাদের ভাষ্যকে ঘুরিয়ে পেচিয়ে পুনরুজ্জীবিত করে আর অপরাধকে আড়াল করে এবং ইতিহাসের ক্ষতকেও অস্বীকার করে।
১৯৭১ এবং ২০২৪ সালের দুটি ক্ষত নিয়ে যারা তামাশা করে, তারা ইতিহাসের খলনায়ক এবং সময়ের শোষক ও প্রজন্ম হন্তারক।
এথেকে বোঝা যায়,
শাসকের পতন ঘটলেই ফ্যাসিবাদের অবসান হয় না সহজেই। ফ্যাসিবাদের মানসিকতা যখন তার বশংবদদের কণ্ঠে আশ্রয় পায়, তখনই গণতন্ত্রের পরাজয় সবচেয়ে গভীর হয়।
কারণ নিপীড়কের উচ্ছিষ্টভোগীরা নিজের বিবেক বিকিয়ে অন্যায়ের উত্তরাধিকার বহন করে।
ফলে স্বৈরশাসক ক্রমেই শক্তিশালী হয় এবং জাতির ললাট খুবলে খেতে স্বৈরতন্ত্রকে দীর্ঘমেয়াদে দুর্বৃত্তায়নের ভীত গড়ে দেয়।
১৩১ বার পড়া হয়েছে