আত্মবিনাশের নেপথ্যে মানুষ যখন নিজেই নিজের পতনের স্থপতি
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ৪:৩৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
মানুষের পতনের জন্য সব সময় বাইরের শত্রুর প্রয়োজন হয় না; কখনো অহংকার, জেদ, অন্যায় ও আত্মপ্রবঞ্চনাই ডেকে আনে চূড়ান্ত বিপর্যয়। ফারূক মাহমূদের ‘আত্মবিনাশের নেপথ্যে মানুষ যখন নিজেই নিজের পতনের স্থপতি’ শীর্ষক লেখায় উঠে এসেছে বিবেকহীনতা, ক্ষমতার মোহ এবং আত্মোপলব্ধির অভাবে মানুষের নিজের পতন ডেকে আনার গভীর জীবনদর্শন।
মানুষের পতন সব সময় বাইরের আঘাতে ঘটে না। কখনো কখনো নিজের কর্মই তার জন্য খনন করে অতল গহ্বর।
যে মানুষ অহংকারকে প্রজ্ঞা, জেদকে দৃঢ়তা আর অন্যায়কে অধিকার বলে বিশ্বাস করতে শুরু করে; সে নিজের অজান্তেই তার চারপাশে নির্মাণ করে অদৃশ্য বন্দিশালা।
তখন তার পতনের জন্য বাইরের শত্রুর প্রয়োজন হয় না। তার গৃহীত সিদ্ধান্ত আর ঘিরে থাকা সাঙ্গপাঙ্গরাই হয়ে ওঠে নীরব ঘাতক।
নদী যেমন নিজের স্রোতে ভাঙে নিজেরই তীর, তেমনি আত্মপ্রবঞ্চনায় নিমজ্জিত মানুষ একদিন হারায় বিবেকের শেষ আলোকশিখাটুকুও। তখন শত উপদেশ, অগণিত ভালোবাসা কিংবা সহস্র প্রসারিত হাতও তাকে ফিরিয়ে আনতে পারে না; যদি সে নিজেই তার আপন ছন্দে ফিরতে না চায়।
সত্যি বলতে কী-
পৃথিবীর সবচেয়ে বেদনাদায়ক দৃশ্য কারও পতন নয়। বরং তার পতন দেখেও দাঁড়িয়ে থাকা প্রিয়জনের অসহায়ত্ব ।
কারো বিপদে তাকে উদ্ধারে হাত বাড়ানো যায়। কিন্তু স্বয়ং তারই বাঁচার ইচ্ছা জোর করে জাগিয়ে দেওয়া যায় না।
তাহলে বলুনতো,
যে নিজের ডুবন্ত অবস্থা বুঝেও নিজেকে ভাসিয়ে রাখতে চায় না; তাকে ভাসানোর সাধ্যি কার?
কারণ, শেষ অবধি মানুষকে রক্ষা করে তার নিজের বিবেক। আর সেই বিবেকই যখন নিভে যায় কিংবা উন্মত্ত ক্ষমতার কারনে নিজেই যখন দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে, তখন সবচেয়ে গভীর অন্ধকার বাইরে নয়; বরং তার ভেতর থেকেই অন্ধকারটা জাপটে ধরে তার আপন সত্ত্বাকে। যা তাকে ছিটকে ফেলে দেয় ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে।
১৩০ বার পড়া হয়েছে