সর্বশেষ

মতামত

বাংলাদেশের আত্মপরিচয়ে সংকট এবং আদর্শ অন্বেষণ

ফারূক মাহমূদ
ফারূক মাহমূদ

শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ৫:৫০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
বাংলাদেশের ঐতিহাসিক আত্মপরিচয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জাতীয় সংহতির ভিত্তিতে একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ফারূক মাহমূদ। তাঁর মতে, রাজনৈতিক মেরুকরণ, দুর্নীতি, বৈষম্য ও জবাবদিহির ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ, সংবিধান সংশোধন এবং সব নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা।
ফারূক মাহমূদ

প্রাচীন বঙ্গ, পুণ্ড্র, সমতট ও হরিকেলের জনপদ থেকে পাল-সেন যুগ, বাংলার সুলতানি শাসন, মুঘল ও নবাবি আমল; বহু সভ্যতা, নানাবিধ ধর্ম ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতির মিথস্ক্রিয়ায় গড়ে উঠেছে এই ভূখণ্ডের ঐতিহাসিক সত্তা।

ঔপনিবেশিক শাসন, দেশভাগ, ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার সংগ্রাম ও ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের আত্মপরিচয়কে স্বাধীন রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। কিন্তু আজ সেই রাষ্ট্রের সামনে আমাদের প্রশ্ন-
আমরা কি ইতিহাসের আত্মত্যাগকে মাণ্যতা দিয়েছি?
দেশের সবখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি?

আর এদেশের সাধারণ মানুষকে সত্যিকারভাবে নাগরিক হিসেবে
মর্যাদা দিতে পেরেছি?

রাষ্ট্র এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে অস্বস্তি আরো বাড়তে পারে।
কারণ...

আজ রাষ্ট্র ব্যবস্থার রন্ধ্রে রন্ধ্রে রাজনৈতিক মেরুকরণ।
দপ্তরে দপ্তরে দুর্নীতির বিষবাষ্প।
বৈষম্যের থাবা সবখানে। সেইসাথে যুক্ত হয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতার ঘাটতি। মানুষে মানুষে ধর্মে-বর্ণে অসহিষ্ণুতা যেনো ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়েছে। আর ইতিহাসের খণ্ডিত পাঠ, ইতিহাসের অসত্য পাঠ জাতীয় সংহতির পথে ইতিমধ্যেই গভীর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে।

সেইসাথে যুদ্ধ-বিদ্ধস্ত বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, জলবায়ুর বিপর্যয় ও অর্থনৈতিক চাপও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎকে জটিল করে তুলছে।

এই সংকট থেকে উত্তরণ ঘটাতে হলে কোনো একক ব্যক্তি, দল বা মতাদর্শের মাধ্যমে সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন সার্বজনীন উদ্যোগ। সকলের ঐক্যমতে প্রথমেই প্রয়োজন সংবিধান সংশোধন। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য জুলাই বিপ্লবে আহত-নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা। সমতল থেকে পাহাড়, সবখানে ধর্ম পালনের অবাধ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। আর বহুমুখী সাংস্কৃতিক চর্চা এবং নারীর উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করা। একইসাথে বাস্তুচ্যুত মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং মানুষের আয় বৈষম্য হ্রাস করা ও ধনী-দরিদ্র সবার জন্য সমান নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা।

কেবলমাত্র ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্বকে স্বাধীনতার চূড়ান্ত সূচক হিসেবে বিবেচনা করলে হবেনা। সুখী-সমৃদ্ধ ও উন্নত দেশ গড়তে হলে এমন রাষ্ট্র কাঠামো নির্মাণ করতে হবে, যেখানে আইনী ভিত্তির উপর থাকবে মানুষের মর্যাদা; ব্যক্তি, বংশ বা পদমর্যাদাকেন্দ্রিক পরিচয়ের উপর নয়।

যেহেতু বাঙালি ইতিহাসের উত্তরাধিকার হিসেবে আমাদের এই বাংলাদেশ এবং ইতিহাসের সেই শান্তিময় ও গৌরবের সমান্তরালে বর্তমান বাংলাদেশকে শ্রেষ্ঠত্বের আঙিনায় আনতে সম্মিলিতভাবে দৃঢ় অঙ্গিকার করতে হবে।
তবেই এখানে শিল্প বিপ্লব হবে, আর্থিক সঞ্চালন বৃদ্ধি পাবে, রাষ্ট্রীয় বাজেট ঘাটতি দূর হবে এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসেবে আত্মমর্যাদা নিয়ে বিশ্বমানচিত্রে আলোক-ধেনু ছড়াবে।

১১৮ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
মতামত নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০