হিজলায় নৌ-পুলিশ ও জেলেদের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ জেলের মৃত্যু, আহত ৪
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ১:১৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বরিশালের হিজলায় মেঘনা নদীতে নৌ-পুলিশ ও জেলেদের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে আকতার হোসেন হাওলাদার (৪০) নামের এক জেলে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চার জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহত ব্যক্তিরা গোপনে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুর পর্যন্ত নিহতের মরদেহ হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা ছিল। তবে কারা গুলি ছুড়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বরিশালের হিজলা উপজেলার গৌরবদী ইউনিয়নের শাওড়া অরাকুল মাছঘাটসংলগ্ন মেঘনা নদীতে বুধবার (২৮ অক্টোবর) দিবাগত শেষরাতে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মা ইলিশ সংরক্ষণে ২১ দিনের নিষেধাজ্ঞার শেষ দিনে অভিযান চলাকালে এ সংঘর্ষ হয়।
নিহত আকতার হোসেন হাওলাদার হিজলা উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চর মেমানিয়া গ্রামের বাসিন্দা সুলতান হাওলাদারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে আকতার হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা মাছ ধরতে মেঘনা নদীতে যান। শেষরাতের দিকে গৌরবদী ইউনিয়নের শাওড়া অরাকুল মাছঘাটসংলগ্ন এলাকায় তাঁদের সঙ্গে অভিযান পরিচালনাকারী একটি দলের সংঘর্ষ হয়। এ সময় অভিযানে অংশ নেওয়া দলের সদস্যরা গুলি ছোড়েন বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, লক্ষ্মীপুরের রায়পুরসংলগ্ন মেঘনা নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান চালাচ্ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ সময় জেলেদের সঙ্গে অভিযানকারী দলের সংঘর্ষ হয়। আত্মরক্ষার্থে ছোড়া গুলি আকতার হোসেনের বুকে লাগে। এতে আরও চার জেলে গুলিবিদ্ধ হন। পরে আকতারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের বোন সাথী আক্তার স্থানীয় সংবাদকর্মীদের জানান, আহত জেলেদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাতে তাঁর ভাইসহ অন্য জেলেরা মাছ ধরতে নদীতে গিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার ভোরে হিজলার শাওড়া অরাকুল মাছঘাটসংলগ্ন এলাকায় কোস্টগার্ড ও চাঁদপুর নৌ-পুলিশের অতর্কিত গুলিতে তাঁর ভাই গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাঁকে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
সাথী আক্তার আরও বলেন, তাঁদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ নেই। তাঁরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই ভাইয়ের মরদেহ দাফন করতে চান।
তবে ঘটনার সময় মেঘনা নদীতে কোস্টগার্ডের কোনো অভিযান চলছিল না বলে জানিয়েছেন কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের গণমাধ্যমের দায়িত্বে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা। বরিশাল অঞ্চলের নৌ-পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, ওই সময় তাঁদের কোনো অভিযান ছিল না।
হিজলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কে এম মাহফুজুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে তিনি জেলে নিহত হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেছেন। বুধবার রাতে তাঁদের কোনো অভিযানকারী দল মেঘনা নদীতে যায়নি। তাঁদের স্পিডবোট দুই দিন ধরে বিকল থাকায় গত দুই দিন ছোট ট্রলার নিয়ে সীমিত পরিসরে অভিযান চালানো হয়েছে। অন্য কোনো জেলার অভিযানকারী দল সেখানে অভিযান চালিয়ে থাকতে পারে বলে তিনি জানান।
মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন বলেন, বৃহস্পতিবার ভোরে কয়েকজন জেলে তাঁকে খবর দেন, মেঘনা নদীতে একজন জেলেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই জেলেকে উদ্ধার করেন। পরে পুলিশকে জানালে পুলিশ তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তবে কে বা কারা গুলি করেছে, তা এখনো জানা যায়নি।
হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান হোসেন বলেন, পুরো ঘটনা তদন্তাধীন। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১১৭ বার পড়া হয়েছে