গণতন্ত্র
আওয়ামী লীগ ও বিএনপি: মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ, নাকি পরিবর্তনের সম্ভাবনা?
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তি। দুই দলের শাসনামলে যেমন উন্নয়ন ও সাফল্যের দৃষ্টান্ত রয়েছে, তেমনি রয়েছে দুর্নীতি, রাজনৈতিক অধিকার ও জবাবদিহি নিয়ে নানা বিতর্ক। আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের সঙ্গে বিএনপির বর্তমান শাসনকাল তুলনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সময়ের পার্থক্য, শাসনপ্রক্রিয়া ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। প্রশ্ন হলো, বিএনপি কি আওয়ামী লীগের শাসনধারার পুনরাবৃত্তি করছে, নাকি রাষ্ট্র পরিচালনায় নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে?
গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় দীর্ঘ সংগ্রামের কথা বললেন তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের পর দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে। গণতন্ত্রের জন্য এ আন্দোলনে বিএনপির বহু নেতা-কর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন এবং প্রায় ৪০ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
কাজী নজরুল ইসলাম ও রাজনীতি
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে তাঁর অদম্য চেতনা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান এবং বিখ্যাত ‘বিদ্রোহী’ কবিতার জন্য ‘চির-বিদ্রোহী’ বা ‘বিদ্রোহী কবি’ বলেই অবিহিত করা হয়ে থাকে। তাঁর সাহিত্য ও জীবন সবসময় নিপীড়িত মানুষের মুক্তির কথা বলে। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙতে তিনি তার সাহিত্য ও কবিতার মাধ্যমে তরুণ সমাজকে জাগিয়ে তুলেছিলেন। তিনি ধর্ম, বর্ণ বা গোত্রভেদের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষে মানুষে সাম্য প্রচার করেছেন। কাজী নজরুল ইসলামকে শুধু একজন কবি হিসাবে স্মরণ নয়, আমাদের রাজনৈতিক ও মানবিক চেতনারও পুনরাবিষ্কারের ক্ষেত্রেও তার ভুমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সাম্য, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি ও প্রতিরোধের যে স্বপ্ন নজরুল দেখেছিলেন, আজকের সময়েও তা গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।
ফ্যাসিস্টের তকমা: ইতিহাস, রাজনীতি ও বাংলাদেশের নতুন বিতর্ক
বাংলাদেশের রাজনীতিতে কিছু শব্দ আছে, যেগুলো কেবল রাজনৈতিক অভিধানের অংশ নয়—ক্ষমতার লড়াইয়ে এগুলো অস্ত্র হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। ‘ফ্যাসিস্ট’ এখন তেমনই একটি শব্দ। প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে, তার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে কিংবা জনগণের কাছে তাকে অগ্রহণযোগ্য করে তুলতে শব্দটির ব্যবহার ক্রমেই বেড়ে চলেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ‘ফ্যাসিস্ট’ বললেই কি সে ফ্যাসিস্ট হয়ে যায়? নাকি কোনো দল বা সরকারের রাজনৈতিক আচরণ, প্রতিষ্ঠানবিরোধী অবস্থান, ক্ষমতা প্রয়োগের ধরন এবং ভিন্নমতের প্রতি মনোভাবের ভিত্তিতেই এই পরিচয় নির্ধারিত হওয়া উচিত?
মহাকালের রাজপথে গণতন্ত্রের প্রদীপ্ত মশাল: বেগম খালেদা জিয়া
ইতিহাসের মানচিত্রে কিছু নাম কেবল অক্ষরের সমষ্টি হয়ে থাকে না, তারা হয়ে ওঠে একটি পুরো যুগের অনুরণন, কোনো এক ঝোড়ো দিগন্তের অবিনাশী মহাকাব্য। বাংলাদেশের রাজনীতির উত্তাল রক্তিম ক্যানভাসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এমনই এক সুদীর্ঘ ইতিহাস, যা একদিকে যেমন মাতৃত্বের মমতা আর নিভৃত গৃহকোণের স্নিগ্ধতা বহন করে, অন্যদিকে তেমনি বহন করে রাজপথের অনমনীয় আর আপসহীন দৃঢ়তা। ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্টের এক সোনালী প্রভাতে, তৎকালীন দিনাজপুর জেলার এক স্নিগ্ধ প্রহরে যাঁর ধরণীতে আগমন, তিনি হয়তো সেদিন ভাবেননি যে, ইতিহাস তাঁকে একদিন নিয়ে দাঁড় করাবে এক বিশাল জাতির গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার একেবারে কেন্দ্রবিন্দুতে।
রাজপথের পাশাপাশি অ্যালগরিদমেও চলছে রাজনৈতিক লড়াই
বাংলাদেশ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী এমন এক সময়ে পালন করছে, যখন রাজনৈতিক আন্দোলনের চিত্র ও চরিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে। একসময় জনসমুদ্রভরা মিছিল বা সমাবেশ ছিল রাজনৈতিক শক্তির প্রধান প্রতীক। এখন সেই জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে একটি স্মার্টফোন। কারণ একটি ভিডিও, লাইভ সম্প্রচার বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো পোস্ট মুহূর্তেই লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যায় এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থেকেও মানুষ আন্দোলনের অংশীদার হয়ে ওঠে।