সর্বশেষ

আন্তর্জাতিক

নেতানিয়াহুকে সরাতে সমর্থন দিতে চান আরব নেতা

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিরোধী জোটকে বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন আরব রাজনৈতিক নেতা ইউসুফ জাবারিন। তবে গাজায় যুদ্ধ ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের নীতির কারণে সরাসরি কোনো জোট সরকারে যোগ দিতে রাজি নন তিনি। নতুন সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিরোধী জোটকে বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন দেশটির আরব রাজনৈতিক নেতা ইউসুফ জাবারিন। তবে গাজায় চলমান যুদ্ধ এবং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের নীতি অব্যাহত থাকায় কোনো জোট সরকারের অংশ হতে চান না তিনি।

সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাবারিন বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সরাসরি সরকারে যোগ দেওয়া সম্ভব নয়। তবে নেতানিয়াহু সরকারের পতন ঘটিয়ে বিকল্প সরকার গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলে বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ইসরায়েলের আরব রাজনৈতিক দলগুলোর জোট ‘জয়েন্ট লিস্ট’-এর প্রধান জাবারিন বলেন, গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ এবং পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁরা কোনো ইসরায়েলি জোট সরকারের অংশ হতে চান না। তবে বর্তমান সরকারের পরিবর্তে বিকল্প সরকার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে সমর্থন করতে পারেন।

নেতানিয়াহু ও তাঁর কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক অংশীদারদের ক্ষমতা থেকে সরাতে বিরোধীদের সঙ্গে সমঝোতার পথ খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। এ ক্ষেত্রে প্রধান বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন পরিবর্তনকামী জোটের সম্ভাব্য সরকারও আরব দলগুলোর সমর্থন পেতে পারে।

নির্বাচনের ৮৫ শতাংশের বেশি ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে প্রধান দুই আরব দল জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আমের সম্ভাব্য ১৯টি আসন সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আরব নাগরিক। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নেতানিয়াহু সরকারের নীতির কারণে আরব সম্প্রদায়ের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।

ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং বিরোধী জোটের নেতা সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট—দুজনই পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন।

জাবারিনের মতে, নেতানিয়াহুর শাসনের বিপরীতে কার্যকর বিকল্প গড়ে তুলতে হলে বিরোধীদের আরব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে। তিনি বলেন, ইসরায়েলকে বর্ণবাদ, বর্জন ও শ্রেষ্ঠত্ববাদের পথে চলতে দেওয়া হবে, নাকি ইহুদি ও আরবদের মধ্যে বাস্তব অংশীদারত্ব গড়ে তোলা হবে, এখন সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়।

ভোট গণনার মধ্যেই নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলেছে। ভোটের দিন মঙ্গলবারও নেতানিয়াহু একই অভিযোগ করে সমর্থকদের বেশি সংখ্যায় ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান।

লিকুদ পার্টির এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, কয়েকটি আরব দল ঘুষ, হুমকি, জালিয়াতি ও নিষিদ্ধ সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে। এ-সংক্রান্ত প্রমাণ হিসেবে নগদ অর্থভর্তি খামসহ বিভিন্ন আলামত পুলিশের কাছে জমা দেওয়ার কথাও জানায় দলটি।

ভোটের দিন রাতে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের কাছ থেকে ২৪ হাজার শেকেল বা প্রায় ৭ হাজার ৯০০ ডলার এবং রা’আম দলের ব্যালট উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

তবে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক দিন লিভনে ঘটনাটিকে ব্যতিক্রমী ও বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজনদের ভোটকেন্দ্রে পৌঁছানোর আগেই তাঁদের বাড়ির পাশ থেকে আটক করা হয়। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।

রা’আম দলের প্রধান মনসুর আব্বাস নেতানিয়াহুর অভিযোগকে মিথ্যা ও উসকানিমূলক বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, আইজেনকোটের দল বলেছে, নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কা থেকেই নেতানিয়াহু ফলাফলকে আগেভাগে বিতর্কিত করার পরিবেশ তৈরি করছেন।

নির্বাচনী প্রচারণায় নেতানিয়াহু বিরোধীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়েছেন। ‘হয় ডানপন্থী, নয় ফিলিস্তিন’ স্লোগান সামনে রেখে তিনি দাবি করেন, বিরোধীরা ক্ষমতায় এলে আরব দলগুলোকে সরকারে জায়গা দেবে।

বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট নিজে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়ে অনাগ্রহী ছিলেন। তবে তাঁর জোটের শরিক এবং ইসরায়েলের প্রধান বামপন্থী দলের নেতা ইয়াইর গোলান ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন। বিরোধী শিবিরের প্রথম নেতা হিসেবে তিনি প্রকাশ্যে আরব দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠনের পক্ষে মত দেন।

গোলান বলেন, নেতানিয়াহু হেরে গেছেন। ইহুদি ও আরব ভোটারদের মধ্যে নেতানিয়াহুর তৈরি করা বর্ণবাদী বিভাজন আর মেনে নেওয়া যায় না।

তবে আইজেনকোটের জোটে থাকা কট্টর ডানপন্থী প্রতিনিধিরা আরব আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতার সম্ভাবনা এখনো নাকচ করছেন। ফলে নতুন সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করছে বিরোধী জোটের অভ্যন্তরীণ সমঝোতা ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর।

১২৭ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
আন্তর্জাতিক নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০