সর্বশেষ

জাতীয়

দুর্গাপূজার ছুটিতে ফাঁকা ঢাকা, স্বস্তিতে নগরবাসী

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ ৩:৩৫ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা ছুটিতে রাজধানী ঢাকার চিরচেনা যানজট ও কর্মব্যস্ততার চিত্রে পরিবর্তন এসেছে। প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি—অনেক জায়গাতেই কমেছে যানবাহন ও মানুষের চলাচল। ফলে প্রতিদিনের দীর্ঘ যানজটের ভোগান্তি ছাড়াই তুলনামূলক স্বস্তিতে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন নগরবাসী। তবে সড়কে যানবাহনের চাপ কমায় গণপরিবহনের চালক ও সহকারীদের আয় কমেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

দুর্গাপূজার ছুটিতে অনেকটাই বদলে গেছে রাজধানী ঢাকার চিরচেনা চিত্র। আজ সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) হলেও নেই ট্রাফিক জ্যাম, সড়কে নেই ব্যস্ততা। প্রতিদিনের যানজট, গাড়ির হর্ন আর মানুষের ভিড়ে ব্যস্ত থাকা সড়কগুলোতে এখন তুলনামূলক কম যানবাহন চলছে। কর্মজীবী মানুষের নিয়মিত যাতায়াত কমে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতেও যানজটের পরিচিত দৃশ্য অনেকটা কম দেখা যাচ্ছে। এতে কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন অনেকে।

গতকাল বুধবার (২১ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা যায়, কর্মদিবসের তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা কম। কোথাও কোথাও সড়কে গাড়ি চলছে অনেকটা নির্বিঘ্নে। বাসের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা, অল্প দূরত্ব যেতে দীর্ঘ সময় আটকে থাকা কিংবা সড়ক পারাপারে ভোগান্তির মতো পরিস্থিতিও তুলনামূলক কম। তবে কিছু এলাকায় স্বাভাবিক ব্যস্ততা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দুর্গাপূজার ছুটিতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অনেক কর্মী ছুটিতে থাকায় রাজধানীতে নিয়মিত যাতায়াত কমেছে। অনেকে পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ি কিংবা দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে গেছেন। এতে আবাসিক এলাকা, অফিসপাড়া ও বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে মানুষের উপস্থিতি কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে সড়কে যানবাহন চলাচলেও।

ঢাকায় যানজট এখন অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা জরুরি কাজে বের হলে গন্তব্যে পৌঁছাতে বাড়তি সময় হাতে রাখতে হয়। কখনো অল্প দূরত্ব পাড়ি দিতেও দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থাকতে হয়। ছুটির কারণে সেই ভোগান্তি কমে আসায় স্বস্তি পাচ্ছেন নগরবাসী।

রাজধানীর মালিবাগ এলাকায় কথা হয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী রফিকুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, সাধারণ সময়ে মালিবাগ থেকে মতিঝিল যেতে যানজটে অনেক সময় নষ্ট হয়। গাড়ির চাপ বেশি থাকলে অল্প দূরত্ব যেতেও বিরক্ত লাগে। ছুটির সময়ে রাস্তায় গাড়ি কম থাকায় চলাচল অনেক সহজ হয়েছে। প্রতিদিন এমন পরিবেশ থাকলে যাতায়াতের সময় ও মানসিক চাপ—দুটিই কমত।

যানজট কম থাকায় শিক্ষার্থী ও ব্যক্তিগত কাজে বাইরে বের হওয়া মানুষের যাতায়াতেও সুবিধা হচ্ছে। ছুটির সময় গাড়ি কম থাকায় যাতায়াত সহজ হয়েছে। বিশেষ করে রিকশা বা মোটরসাইকেলে চলাচলের সময় আগের মতো দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকতে হচ্ছে না।

সড়কে যানবাহনের চাপ কমলেও গণপরিবহনের চালক ও সহকারীদের জন্য পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। কর্মদিবসে যেসব বাসে যাত্রী ওঠার জন্য প্রতিযোগিতা দেখা যায়, ছুটির সময়ে সেসব বাসে তুলনামূলক কম যাত্রী উঠছেন। কোনো কোনো রুটে যাত্রী পাওয়ার জন্য বিভিন্ন স্টপেজে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে বাস চলাচল সহজ হলেও আয় কমেছে পরিবহনকর্মীদের।

রাজধানীর সড়কে যানজট কম থাকলে মানুষের কর্মঘণ্টা সাশ্রয় হয়, জ্বালানির অপচয় কমে এবং যাতায়াতের মানসিক চাপও হ্রাস পায়। বিপরীতে, যানজটের কারণে প্রতিদিন নগরবাসীর উল্লেখযোগ্য সময় সড়কে ব্যয় হয়। তাই ছুটির সময়ে ফাঁকা সড়ক অনেকের কাছে স্বস্তির হলেও এই পরিস্থিতি স্থায়ী নয়।

সেগুনবাগিচার বাসিন্দা কাওসার আলম বলেন, টানা ছুটির কারণে অনেকেই পরিবার নিয়ে ঢাকার বাইরে গেছেন। এ কারণে রাজধানী এখন অনেকটাই ফাঁকা। ঢাকায় থাকা মানুষ স্বস্তিতে চলাচল করতে পারছেন। তবে ছুটি শেষে আবারও চিরচেনা যানজট ফিরে আসবে বলে মনে করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, সাময়িক সময়ের জন্য হলেও কিছুটা স্বস্তিতে থাকা কম কথা নয়।

ছুটি শেষে অফিস-আদালত, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হলে সড়কে যানবাহন ও মানুষের চাপ আবার বাড়তে পারে। তখন রাজধানীতে ফিরতে পারে পরিচিত যানজট ও দীর্ঘ যাত্রার ভোগান্তি।

১২১ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০