লিটনের নেতৃত্বে ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট, বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে নতুন পরীক্ষা
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ৬:২৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ সামনে রেখে নতুন অধিনায়ক লিটন দাসের নেতৃত্বে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানকে নিয়ে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর আইসিসি ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) বাইরে বহুজাতিক প্রতিযোগিতায় নামতে যাচ্ছে দলটি। এই আসরে শিরোপা জয়ের পাশাপাশি বিশ্বকাপের জন্য দলের সমন্বয় গড়ে তোলার সুযোগও কাজে লাগাতে চান লিটন।
বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। বাংলাদেশের সঙ্গে টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজের পাশাপাশি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট সিরিজ থাকায় তিন দলকে নিয়ে একটি ওয়ানডে প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় সিরিজের তুলনায় এই টুর্নামেন্ট দর্শকদের কাছে বেশি আকর্ষণীয় হবে বলে মনে করছে আফগান বোর্ড। এর পেছনে বাণিজ্যিক বিবেচনাও রয়েছে।
বাংলাদেশের জন্যও প্রস্তাবটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বহুজাতিক টুর্নামেন্টে শিরোপা জয়ের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের খুব বেশি নয়। গত ২৯ বছরে ১৩টি ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে দলটি চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মাত্র দুবার। ২০০৭ সালে কানাডা ও বারমুডাকে নিয়ে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় প্রথমবার শিরোপা জেতে বাংলাদেশ। এরপর ২০১৯ সালে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে স্বাগতিক দল ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হয় তারা।
এরপর প্রায় সাত বছর পেরিয়ে গেলেও আইসিসি ও এসিসির বাইরে আর কোনো বহুজাতিক প্রতিযোগিতায় শিরোপা জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এবার সেই অপেক্ষা ঘোচানোর সুযোগ থাকছে নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক লিটন দাসের সামনে।
২০২৭ সালের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আগামীকাল শনিবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নতুন অভিযানে নামতে যাচ্ছেন লিটন। সিকান্দার রাজার নেতৃত্বাধীন দলটির কাছে গত জুলাইয়ে সিরিজ হেরেছিল বাংলাদেশ। ওই সিরিজে লিটন ছিলেন না। মুস্তাফিজুর রহমানও চোটের কারণে একটি ম্যাচ খেলেই ছিটকে পড়েছিলেন। এবার নাহিদ রানা ছাড়া প্রায় পূর্ণ শক্তির দল পেয়েছেন নতুন অধিনায়ক।
মেহেদী হাসান মিরাজের পরিবর্তে লিটনকে ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ওয়ানডে দলের অধিনায়ক করা হয়েছে। এই ফরম্যাটে ভালো ফল পাওয়ার প্রত্যাশা থেকেই তাঁর ওপর দায়িত্ব দিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। যদিও ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা লিটনের নতুন নয়। এর আগে নিয়মিত অধিনায়কের অনুপস্থিতিতে কয়েকবার দলের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি।
২০২২ সালে ভারতের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্মৃতি লিটনের নেতৃত্বের অন্যতম বড় অর্জন। রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির মতো তারকাদের নিয়ে গড়া ভারতকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই সিরিজে অধিনায়ক হিসেবে দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন লিটন, আর তাঁর হাতেই উঠেছিল ঐতিহাসিক ট্রফি।
এরপর ২০২৩ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দেন তিনি। ওই ম্যাচে অপরাজিত ৫৩ রানের ইনিংস খেলে বাংলাদেশের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন লিটন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
ওয়ানডেতে অধিনায়ক হিসেবে আগের সাত ম্যাচে লিটনের অর্জন তিনটি জয় ও তিনটি হার। অন্য ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়েছিল। এই অভিজ্ঞতার সঙ্গে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাসও এবার তাঁর কাজে আসতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে লিটনের সময়টা খুব একটা ভালো যাচ্ছিল না। আবুধাবিতে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে টানা চার ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়ার অস্বস্তি ছিল তাঁর। এশিয়ান গেমসে পদক জিততে না পারার হতাশাও ছিল। তবে আবুধাবি টেস্টে সেঞ্চুরি করার পাশাপাশি উইকেটকিপার হিসেবে ডিসমিসালের রেকর্ড গড়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন তিনি।
এই সাফল্য ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে লিটনকে বাড়তি প্রেরণা জোগাতে পারে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তাঁর নেতৃত্বের সাফল্য বিবেচনায় নিয়েই ওয়ানডে দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী বছরের এই সময়েই নামিবিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। হাতে প্রায় এক বছর থাকায় এর মধ্যে দল গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন লিটন।
বিশ্বকাপের আগে দলের ব্যাটিং ও বোলিং সমন্বয় ঠিক করা হবে তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। বিশেষ করে ওপেনিংয়ে স্থিতিশীল জুটি গড়া, ছয় ও সাত নম্বরে কার্যকর অলরাউন্ডার নির্বাচন এবং স্পিন বিভাগে মিরাজের সঙ্গে উপযুক্ত সমন্বয় তৈরি করার দিকে নজর দিতে হবে।
ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে এসব পরিকল্পনা পরীক্ষা করে দেখার সুযোগ পাবেন লিটন। আবুধাবির পরিবেশও তাঁর কাছে পরিচিত। দুই বছর আগে সেখানে এশিয়া কাপের টি-টোয়েন্টি সংস্করণে লিটনের নেতৃত্বে আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই অভিজ্ঞতা এবার ওয়ানডে ক্রিকেটে কতটা কাজে লাগে, সেটিই দেখার বিষয়।
১০৯ বার পড়া হয়েছে