আজ মহাষষ্ঠী
দেবীর বোধন ও দুর্গাপূজার পৌরাণিক সূচনা
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ৬:৪৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গাপূজার মহাষষ্ঠী। দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। পুরাণের বর্ণনা অনুযায়ী, রাবণ বধের উদ্দেশ্যে ভগবান শ্রী রামচন্দ্র শরৎকালে দেবী দুর্গার অকালবোধন করেছিলেন। ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় দেবীর আগমনকে কেন্দ্র করে পূজামণ্ডপগুলোতে ছড়িয়ে পড়বে উৎসবের আমেজ।
আজ শারদীয় দুর্গাপূজার মহাষষ্ঠী। আজ থেকেই শুরু হলো বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। পাঁচ দিনের এই মহোৎসবের প্রথম দিন আজ — দেবী দুর্গার বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাস।
মহাষষ্ঠীর পৌরাণিক বর্ণনা কী?
পুরাণ মতে, দুর্গাপূজার সূচনা হয় ত্রেতা যুগে। রাবণ বধের জন্য ভগবান শ্রী রামচন্দ্র শরৎকালে দেবী দুর্গার অকাল বোধন করেছিলেন।
বছরের দুটি সময় দেবতাদের দিন ও রাত্রি। চৈত্র মাসে বসন্তকালে যে পূজা হয় তা প্রকৃত দুর্গাপূজা, আর শরৎকালে হয় অকাল বোধন। দক্ষিণায়নকে দেবতাদের রাত্রি বলা হয়। এই সময় দেবতারা নিদ্রায় থাকেন। তাই রামচন্দ্র শরৎকালে দেবীকে জাগ্রত করতে ১০৮টি নীল পদ্ম দিয়ে বোধন পূজা করেন।
মহাষষ্ঠীর দিনে দেবীকে ঘুম থেকে জাগানো হয় — একে বলে বোধন। বেল গাছের নিচে বা বেলতলায় দেবীর বোধন হয়। শাস্ত্রে আছে, বিল্ববৃক্ষেই দেবীর অধিষ্ঠান। তাই ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় বিল্ববৃক্ষে দেবীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
এরপর তিনটি পর্ব —
১. আমন্ত্রণ: দেবীকে পূজা মণ্ডপে আসার জন্য আমন্ত্রণ।
২. অধিবাস: দেবী যাতে পূজায় স্থিত হন, তার জন্য অধিবাস পূজা।
৩. বোধন: মন্ত্র উচ্চারণে দেবীর নিদ্রা ভঙ্গ করে জাগরণ।
পৌরাণিক আরেক কাহিনী অনুযায়ী, মহিষাসুরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে দেবতাদের তেজ থেকে সৃষ্টি হন দেবী দুর্গা। ষষ্ঠীর দিনেই তিনি কৈলাস থেকে মর্ত্যলোকে পিতৃগৃহে আগমন করেন তাঁর সন্তান গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতী ও কার্তিককে নিয়ে। ভক্তদের বিশ্বাস, এই পাঁচ দিন তিনি মর্ত্যে থেকে অশুভ শক্তি বিনাশ করে শুভ শক্তির জয় প্রতিষ্ঠা করেন।
আজ থেকেই মণ্ডপে মণ্ডপে ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর “মা আসছে” — এই আনন্দধ্বনিতে মুখরিত হবে সিলেটসহ সারা দেশ।
১২৮ বার পড়া হয়েছে