রাশিয়ার কামচাটকায় ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামির শঙ্কা নেই
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ৫:৩৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটে এ ভূমিকম্প হয়। তবে এ ঘটনায় সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র। প্রাথমিক হিসাবে, কয়েক লাখ মানুষ কমবেশি কম্পন অনুভব করেছেন।
রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের কামচাটকা উপদ্বীপে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১৩০ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার গভীরে। তবে ভূমিকম্পের পর সুনামির কোনো আশঙ্কা পাওয়া যায়নি।
ওয়াচার্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটে এ ভূমিকম্প হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) ভূমিকম্পটির মাত্রা ৬ দশমিক ৯ এবং উৎপত্তিস্থল ১৩৫ কিলোমিটার গভীরে বলে জানিয়েছে। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প কেন্দ্রও ভূমিকম্পটির মাত্রা ৬ দশমিক ৯ উল্লেখ করেছে। তবে সংস্থাটির হিসাবে, এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১৩০ কিলোমিটার গভীরে।
ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, কামচাটকা অঞ্চলের কয়েকটি শহর থেকে বিভিন্ন দূরত্বে ছিল ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল। ওজেরনোভস্কি শহর থেকে ৭৬ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে, ভিলিউচিনস্ক থেকে ১৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পেত্রোপাভলভস্ক-কামচাটস্কি থেকে ১৫১ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ছিল এর অবস্থান।
এ ছাড়া এলিজোভো শহর থেকে ১৫৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং ক্লিউচি শহর থেকে ৫৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে ছিল ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল।
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ভূমিকম্পে প্রায় ১৪ হাজার মানুষ মাঝারি মাত্রার কম্পন অনুভব করেছেন। এ ছাড়া আরও প্রায় ২ লাখ ১৪ হাজার মানুষ হালকা কম্পন অনুভব করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া দপ্তরের অধীন প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র জানিয়েছে, ভূমিকম্পের বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে সুনামির কোনো আশঙ্কা পাওয়া যায়নি। সমন্বিত বিশ্ব সময় অনুযায়ী রাত ৩টা ৪৩ মিনিটে এ তথ্য জানায় সংস্থাটি।
ভূমিকম্পে প্রাণহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা বিবেচনায় সবুজ সতর্কতা জারি করেছে ইউএসজিএস। সংস্থাটির মূল্যায়ন অনুযায়ী, এ ঘটনায় প্রাণহানি ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা কম।
ইউএসজিএস জানিয়েছে, ওই অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ এমন ভবনে বসবাস করেন, যেগুলো ভূমিকম্পের কম্পন সহ্য করতে সক্ষম। তবে কিছু ঝুঁকিপূর্ণ ভবনও রয়েছে। বিশেষ করে মাটির ইটের ব্লক ও সাধারণ ইট দিয়ে তৈরি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকতে পারে।
সংস্থাটির ধারণা, ভূমিকম্পের কারণে মাটি তরল হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা বা তরলীকরণে বিস্তীর্ণ এলাকা প্রভাবিত হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে জনবসতি কম, কোথাও কোথাও একেবারেই নেই। এ ছাড়া ভূমিকম্পের কারণে ভূমিধসের আশঙ্কাও কম বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। সম্ভাব্য ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, এমন এলাকাও সীমিত এবং সেখানে মানুষের বসবাস খুবই কম।
১১৫ বার পড়া হয়েছে