খাজা কাওছারী: আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য, গবেষণা ও মানবকল্যাণের বহুমাত্রিক অভিযাত্রা
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:০৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, গবেষণা, গণমাধ্যম ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডকে সমন্বিত করে বহুমাত্রিক কর্মযাত্রা গড়ে তুলেছেন খাজা মাসুম বিল্লাহ কাওছারী। লেখালেখি, গবেষণা, জনস্বাস্থ্য, মানবাধিকার, সামাজিক উন্নয়ন ও আধ্যাত্মিক দর্শন—বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর চিন্তা ও কর্মকাণ্ডের বিস্তার ঘটেছে।
খাজা মাসুম বিল্লাহ কাওছারী (Khwaja Masum Bellah Kausarey), একাডেমিক নাম মুহাম্মাদ মাসুম বিল্লাহ কাওছারী (Muhammad Masum Bellah Kausarey)। বাংলাদেশের সমসাময়িক লেখালেখি, গবেষণা, গণমাধ্যম, সামাজিক উন্নয়ন,ব্যবসায়িক উদ্যোক্তা ও মানবাধিকারচর্চার সঙ্গে যুক্ত একজন বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর কর্ম ও চিন্তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, গবেষণার অভিজ্ঞতা এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করার আকাঙ্ক্ষাকে একই ধারায় যুক্ত করার চেষ্টা।
তাঁর প্রকাশিত লেখালেখিতে কখনো আত্মশুদ্ধি ও আধ্যাত্মিক দর্শন, কখনো জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক বাস্তবতা, আবার কখনো মানবাধিকার, শিক্ষা, পারিবারিক মূল্যবোধ ও সমকালীন সমাজের নানা সংকট উঠে এসেছে। তাঁর নিয়মিত কলাম ও প্রবন্ধ বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়া, অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়।
আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য ও শৈশবের প্রভাবঃ
খাজা মাসুম বিল্লাহ কাওছারীর চিন্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তাঁর পারিবারিক ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ। তাঁর নিজের প্রকাশিত লেখাগুলোতে নবাব খাজা আহসানুল্লাহ (রহ:), খাজা ফয়েজ উদ্দিন (রহ.) ও খাজা নাছের আলী (রহ.) এর আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকার ও উত্তরসূরি এবং সুফি ঐতিহ্যের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ রয়েছে।
তাঁর লেখায় এই ঐতিহ্যকে কেবল ধর্মীয় পরিচয়ের বিষয় হিসেবে নয় বরং আত্মশুদ্ধি, বিনয়, মানবসেবা, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের একটি জীবনদর্শন হিসেবে উপস্থাপন করতে দেখা যায়। দক্ষিণ বাংলার খানকা, মসজিদ ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য নিয়েও তিনি লিখেছেন। তাঁর “গাউসুল আজম খানকা শরীফ: দক্ষিণবঙ্গে দেড় শতকের ঐতিহ্য” প্রবন্ধে খানকাহকে ধর্মীয় অনুশীলনের পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক সংহতি ও আত্মিক পরিশুদ্ধির কেন্দ্র হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
শিক্ষাজীবন ও গবেষণার ভিত্তিঃ
শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রেও খাজা মাসুম বিল্লাহ কাওছারীর দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিমান। Academia.edu-তে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া থেকে থিওলজি বিষয়ে স্নাতকোত্তর এবং BRAC University থেকে EPDC ডিগ্রি অর্জন করেন। একই সাথে তাঁর শিক্ষা, গবেষণা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে প্রায় ১০ বছরের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ রয়েছে।
এই প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতার একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় ছিল BRAC ও BRAC University তে। তাঁর নিজের লেখা “ব্র্যাক ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে মানবকল্যাণে আমার এক অভিযাত্রা” প্রবন্ধে তিনি ২০০৭ সালে BRAC এ Assistant Researcher হিসেবে কর্মজীবন শুরুর কথা উল্লেখ করেছেন এবং গবেষণার মাধ্যমে দারিদ্র্য, অপুষ্টি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার বাস্তবতা কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন।
Academia র তথ্য অনুযায়ী আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, BRAC ও BRAC University-তে তিনি ৫৫টিরও বেশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট কাজে যুক্ত ছিলেন। ২০০৯–২০১৪ সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত Food Security and Nutritional Project-এ BRAC University র পক্ষে নেতৃস্থানীয় ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেন। একই সাথে BRAC Institute of Global Health, James P. Grant School of Public Health এবং Department of Midwifery and Nursing এর মত ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে তাঁর নেতৃত্ব দান এবং সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ রয়েছে।
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডঃ
তাঁর সামাজিক কর্মকাণ্ডের সূত্রপাত প্রাতিষ্ঠানিক কর্মজীবনের অনেক আগে। তিনি তার লেখা উল্লেখ করেছেন যে, ১৯৯৭ সালে শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় সামাজিক শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধ বিস্তারের উদ্দেশ্যে “Samaj Kallyan Samiti and Islamic Pathagar” প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন ৯০ র দশকে। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৮ সালে BM College-এ ইংরেজি বিষয়ে অনার্স অধ্যয়নকালে “Saikat Sahitya Seba Parishad” নামে একটি সাহিত্য ও গবেষণাধর্মী সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংগঠনের আওতায় চিরহরিৎ নামে একটি ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেন।
এই পর্যায় থেকেই তাঁর কর্মকাণ্ডে তিনটি প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে—শিক্ষা, সাহিত্য এবং সমাজকল্যাণ। পরবর্তী জীবনে এই তিনটি ক্ষেত্রই তাঁর গবেষণা, সাংবাদিকতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন পর্যায়ে ভিন্ন ভিন্নভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
সাংবাদিকতা, কলাম ও চিন্তাশীল লেখালেখি:
খাজা মাসুম বিল্লাহ কাওছারীর পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তাঁর লেখালেখি। তিনি ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতা থেকে শুরু করে শিক্ষা, পরিবার, জনস্বাস্থ্য, মানবাধিকার এবং সমকালীন সামাজিক সমস্যা নিয়ে নিয়মিত লিখে থাকেন।
তাঁর “আত্মজিজ্ঞাসার আলোকে আধ্যাত্মিক অভিযাত্রা” প্রবন্ধে আত্মপরিচয়, মৃত্যুচেতনা, অহংকার, বিনয়, নৈতিক দায়িত্ব ও আত্মশুদ্ধির প্রশ্নকে কেন্দ্র করে একটি দার্শনিক আলোচনা উঠে এসেছে। প্রবন্ধটি ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়।
আবার “সুর ও আত্মার সাধনা: সঙ্গীত ও ধর্মীয় আরাধনার অন্তর্গত আর্তি” লেখায় তিনি সুর, মানুষের অন্তর্জগৎ এবং ধর্মীয় অনুভূতির পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেছেন।
সমাজ ও পারিবারিক জীবন নিয়েও তাঁর লেখায় বাস্তবমুখী বিশ্লেষণ পাওয়া যায়। “সন্তান বিপথে কেন? সামাজিক প্রেক্ষাপটে অভিভাবকত্বের ব্যর্থতা” শিরোনামের লেখায় তিনি পরিবার, সন্তান প্রতিপালন ও সামাজিক পরিবেশের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেছেন।
জনস্বাস্থ্য ও আধ্যাত্মিকতার সংযোগ খাজা মাসুম বিল্লাহ কাওছারীর লেখার একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হলো জনস্বাস্থ্য ও আধ্যাত্মিকতার মধ্যে সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে তাঁর আগ্রহ।
তাঁর “Muraqabah in the Perspective of Public Health and Global Health” প্রবন্ধে তিনি মুরাকাবাকে ইসলামী আধ্যাত্মিক অনুশীলন হিসেবে ব্যাখ্যা করে আধুনিক mindfulness ও meditation ভিত্তিক আলোচনার সঙ্গে এর সম্ভাব্য সম্পর্ক অনুসন্ধান করেছেন। লেখাটিতে উদ্বেগ, বিষণ্নতা, অনিদ্রা, উচ্চ রক্তচাপসহ মানসিক ও শারীরিক চাপের মতো জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে আধ্যাত্মিক অনুশীলনের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
এখানে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তিনি আধ্যাত্মিকতাকে আধুনিক স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে সরলভাবে উপস্থাপন না করে জনস্বাস্থ্য, মানসিক প্রশান্তি ও মানুষের সামগ্রিক কল্যাণের সঙ্গে এর সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেছেন।
পরিবার, দাম্পত্য ও সামাজিক স্বাস্থ্য:
দাম্পত্য সম্পর্ক ও পারিবারিক সুস্থতাও তাঁর লেখার একটি উল্লেখযোগ্য বিষয়। “দাম্পত্য ঘনিষ্ঠতার অবক্ষয়: পাবলিক হেলথের দৃষ্টিতে বিশ্লেষণধর্মী আলোচনা” শিরোনামের প্রবন্ধে তিনি বিবাহিত জীবনে আবেগ, পারস্পরিক আকর্ষণ, মানসিক সংযোগ ও ঘনিষ্ঠতার সংকটকে সামাজিক ও জনস্বাস্থ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করেছেন।
Academia তথ্য অনুযায়ী Marital Intimacy নামে একটি লেখা তালিকাভুক্ত রয়েছে।
এই ধরনের লেখার মধ্য দিয়ে তাঁর চিন্তার একটি বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট হয়। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যাকে তিনি বৃহত্তর সামাজিক সুস্থতা ও জনস্বাস্থ্যের আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করে দেখতে আগ্রহী।
সামাজিক উন্নয়ন ও SEDROঃ
সামাজিক উন্নয়ন ও গবেষণার ক্ষেত্রেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাঁর প্রকাশিত লেখাগুলোতে বেসরকারি গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা SEDRO কে তাঁর সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাঁর কাজের বিস্তৃত পরিসরের মধ্যে সামাজিক শিক্ষা, গবেষণা, মানবকল্যাণ, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
তাঁর সামাজিক কর্মকাণ্ডের একটি বাস্তব উদাহরণ হলো রক্তদানভিত্তিক উদ্যোগ। “রক্তের এক ফোঁটায় জীবন, মানবতার বন্ধনে ‘রক্তিম বন্ধন’” প্রতিবেদনে তাঁকে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংগঠনটি SEDRO-এর তত্ত্বাবধানে রক্তদাতা কার্যক্রম পরিচালনা করে।
মানবাধিকার ও শ্রমিক নিরাপত্তাঃ
মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার তাঁর কর্মকাণ্ডের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁকে জাতীয় মানবাধিকার সংস্থা "Lighthouse" এর Senior Vice-President এবং "দৈনিক কালের কথা" পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়েও তিনি মতামত প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন লেখালেখি, বক্তৃতা এবং চিন্তার বহিঃপ্রকাশ দিয়ে । সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের হেলমেট, সেফটি হারনেসসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারের বিষয়টি তিনি তার গবেষণাধর্মী লেখায় তুলে ধরেছেন।
অর্থাৎ তাঁর মানবাধিকারচর্চা কেবল অধিকারবঞ্চিত মানুষের বিষয়েই সীমাবদ্ধ নয়। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, মর্যাদা ও দায়িত্বশীল উন্নয়নও তাঁর আলোচনার অংশ।
গণমাধ্যম ও সম্পাদকীয় দায়িত্বঃ
গণমাধ্যমের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি বাংলা ভাষায় প্রকাশিত "দৈনিক কালের কথা" পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে সাম্প্রতিক প্রকাশিত সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে তাঁর কলাম ও মতামতমূলক লেখা প্রকাশিত হচ্ছে।
তাঁর লেখায় ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক দর্শনের পাশাপাশি সামাজিক অবক্ষয়, নারী নির্যাতন, শিক্ষা, পরিবার, মানবাধিকার, জনস্বাস্থ্য এবং সমকালীন রাষ্ট্র ও সমাজের নানা প্রশ্ন উঠে আসে। ফলে তাঁর সাংবাদিকতা ও লেখালেখি মূলত সমাজ পর্যবেক্ষণ এবং জনসচেতনতা তৈরির একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়।
নতুন প্রজন্ম ও সামাজিক মূল্যবোধঃ
তাঁর চিন্তার একটি পুনরাবৃত্ত বিষয় হলো—শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয়, মানুষের নৈতিক ও মানবিক বিকাশও প্রয়োজন। তাঁর বিভিন্ন লেখায় আত্মজিজ্ঞাসা, নৈতিকতা, মানবিক মর্যাদা, পরিবার, শিক্ষা ও সামাজিক দায়িত্বের বিষয়গুলো পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এসেছে।
এই দৃষ্টিভঙ্গির পেছনে তাঁর আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য এবং গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে অর্জিত বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয় কাজ করেছে বলে তাঁর নিজের লেখালেখি ও পেশাগত প্রোফাইল থেকে ধারণা পাওয়া যায়।
একটি বহুমাত্রিক পরিচয়ঃ
খাজা মাসুম বিল্লাহ কাওছারীর জীবনপথকে একক কোনো পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা কঠিন। তিনি একই সঙ্গে লেখক, কলামিস্ট, গবেষক, সম্পাদক, সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনের নেত্রীস্থানীয় ব্যক্তিত্ব এবং ব্যবসায়িক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত একজন পেশাজীবী।
তাঁর কর্মজীবনের একদিকে রয়েছে BRAC ও BRAC University-তে গবেষণা ও উন্নয়নমূলক কাজের অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে রয়েছে গণমাধ্যম, সামাজিক সংগঠন, মানবাধিকার, আধ্যাত্মিক দর্শন এবং জনসচেতনতামূলক লেখালেখি।
এই বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই তিনি নিজের একটি স্বতন্ত্র চিন্তার ক্ষেত্র নির্মাণের চেষ্টা করেছেন—যেখানে আধ্যাত্মিক আত্মশুদ্ধি, আধুনিক শিক্ষা, গবেষণা, মানবিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক দায়িত্ব পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত।
খাজা মাসুম বিল্লাহ কাওছারীর জীবন ও কর্মকে যদি একটি বাক্যে সংজ্ঞায়িত করতে হয়, তবে বলা যায়—এটি আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য থেকে আধুনিক গবেষণা ও মানবকল্যাণের দিকে একটি চলমান অভিযাত্রা।
তাঁর লেখায় আত্মজিজ্ঞাসা যেমন আছে, তেমনি আছে সমাজের প্রতি প্রশ্ন, আধ্যাত্মিকতা যেমন আছে, তেমনি আছে জনস্বাস্থ্য, গবেষণার অভিজ্ঞতা যেমন আছে, তেমনি আছে মানবাধিকার ও সামাজিক দায়বদ্ধতা। এই সমন্বয়ই তাঁর লেখক ও সমাজচিন্তক সত্তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
ভবিষ্যতে তাঁর চিন্তা, গবেষণা, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং প্রকাশিত লেখাগুলো আরও বিস্তৃতভাবে সংরক্ষণ ও মূল্যায়ন করা হলে বাংলাদেশের সমকালীন সামাজিক ও আধ্যাত্মিক চিন্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত দলিল হিসেবে তা বিবেচিত হতে পারে।
তথ্যসূত্রঃ
১. Academia.edu. (n.d.). Khwaja Masum Bellah Kausarey: Independent researcher. Academia.edu. Retrieved September 22, 2026, from https://independent.academia.edu/MasumBellahKausarey
২. Kausarey, K. M. B. (2025). BRAC and BRAC University: My journey for human welfare. The Muslim Times. https://themuslimtimes-bd.com/details.php?id=82479
৩. Kausarey, K. M. B. (2025). Marital intimacy. The Muslim Times. https://themuslimtimes-bd.com/details.php?id=72055
৪. Kausarey, K. M. B. (2025). Muraqabah in the perspective of public health and global health. The Muslim Times. https://themuslimtimes-bd.com/details.php?id=82837
৫. Kausarey, K. M. B. (2025). Religious education, human values, and fundamental human rights of children in brothels. The Muslim Times. https://themuslimtimes-bd.com/details.php?id=82935
৬. Kausarey, K. M. B. (2026, August 10). আত্মজিজ্ঞাসার আলোকে আধ্যাত্মিক অভিযাত্রা [A spiritual journey through self-inquiry]. Eimattro. https://www.eimattro.com/news/details/1786348213356/
৭. Kausarey, K. M. B. (n.d.). ক্ষমতার চাঁদাবাজি: বাংলাদেশের রাজনৈতিক পচনের মুখোশ উন্মোচন [Extortion in power: Unmasking Bangladesh's political decay]. The Muslim Times. https://themuslimtimes-bd.com/detailsm.php?id=70746
৮. The Muslim Times. (2025, September 17). Felicitations from the SEDRO family on Khwaja Kausarey's victory in the New Town Society Central Election. https://themuslimtimes-bd.com/archive.php?arch_id=2025-09-17
৯. The Muslim Times. (2026, March 17). The state of occupational health and safety in Bangladesh. https://themuslimtimes-bd.com/detailsm.php?id=85243
১০. The Muslim Times. (2025, May 25). SEDRO's role in social development and humanitarian services. https://themuslimtimes-bd.com/archive.php?arch_id=2025-05-25
১১. Eimattro. (2025). রক্তের এক ফোঁটায় জীবন, মানবতার বন্ধনে ‘রক্তিম বন্ধন’ [A drop of blood, a life: “Raktim Bandhan” in the bond of humanity]. https://www.eimattro.com/news/details/1752000042190/
১২. Eimattro. (2026). সন্তান বিপথে কেন?—সামাজিক প্রেক্ষাপটে অভিভাবকত্বের ব্যর্থতা [Why do children go astray? Failure of parenting in the social context]. https://www.eimattro.com/
১৩. Eimattro. (2026). দাম্পত্য ঘনিষ্ঠতার অবক্ষয়: ১২. পাবলিক হেলথের দৃষ্টিতে বিশ্লেষণধর্মী আলোচনা [Decline of marital intimacy: An analytical discussion from a public health perspective]. https://www.eimattro.com/
১৪. Eimattro. (2025). সুর ও আত্মার সাধনা: সঙ্গীত ও ধর্মীয় আরাধনার অন্তর্গত আর্তি [The practice of melody and the soul: The inner yearning of music and religious devotion]. https://www.eimattro.com/
১৫. Eimattro. (2026). গাউসুল আজম খানকা শরীফ: দক্ষিণবঙ্গে দেড় শতকের ঐতিহ্য [Gausul Azam Khanqa Sharif: A century-and-a-half of spiritual heritage in southern Bengal]. https://english.eimattro.com/news/details/1778657689176/
লেখক : সাংবাদিক, স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা ও সমাজসেবক।
১২৪ বার পড়া হয়েছে