সর্বশেষ

ফিচার

সংবাদকর্মী থেকে সম্পাদক: খাজা কাওছারীর বৌদ্ধিক অভিযাত্রা

ইঞ্জিনিয়ার এইচ এম সাব্বির আহমেদ
ইঞ্জিনিয়ার এইচ এম সাব্বির আহমেদ

শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ২:৩২ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
সাংবাদিকতা, সাহিত্য সম্পাদনা, গবেষণাধর্মী লেখালেখি ও মানবাধিকার কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ কর্মযাত্রা গড়ে তুলেছেন খাজা মাসুম বিল্লাহ কাওছারী। ১৯৯৭ সালে বরগুনার আমতলী উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু করে তিনি কাজ করেছেন বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে। বর্তমানে দৈনিক ‘কালের কথা’র সম্পাদক এবং ত্রৈমাসিক গবেষণাধর্মী পত্রিকা ‘শিক্ষালয়’-এর নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা, আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য, ইতিহাস ও দর্শনভিত্তিক চিন্তাচর্চা এবং মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে তাঁর এই দীর্ঘ পথচলা একজন সংবাদকর্মী থেকে সম্পাদক হয়ে ওঠার পাশাপাশি বুদ্ধিবৃত্তিক অভিযাত্রারও পরিচয় বহন করে।

খাজা মাসুম বিল্লাহ কাওছারী

বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরে এমন কিছু মানুষ রয়েছেন, যাঁদের কর্মজীবন কেবল সংবাদ সংগ্রহ, প্রতিবেদন রচনা কিংবা মতামত প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা সমাজ, ইতিহাস, সংস্কৃতি, দর্শন ও নৈতিকতার নানা প্রশ্ন নিয়ে নিজস্ব চিন্তার জগৎ গড়ে তোলেন। খাজা মাসুম বিল্লাহ কাওছারী তেমনই একজন সাংবাদিক, লেখক, গবেষণামনস্ক চিন্তক ও সম্পাদক। তাঁর দীর্ঘ কর্মযাত্রা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকতা থেকে শুরু করে সাহিত্য সম্পাদনা, গবেষণাধর্মী লেখালেখি এবং একটি সংবাদপত্রের সম্পাদক হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ প্রতিটি পর্যায়েই তিনি অভিজ্ঞতা, অধ্যবসায় ও সৃজনশীলতার পরিচয় দিয়েছেন।
তাঁর এই অভিযাত্রা কেবল একটি পেশাগত উত্তরণের গল্প নয় বরং সামাজিক সচেতনতা থেকে বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্বে পৌঁছানোর এক ধারাবাহিক প্রচেষ্টা।

আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য ও চিন্তার ভিত্তিঃ
খাজা মাসুম বিল্লাহ কাওছারীর চিন্তাজগতের অন্যতম ভিত্তি তাঁর পারিবারিক আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য। তিনি এমন একটি ধর্মীয় ও সুফি-ঐতিহ্যবাহী পরিবারে বেড়ে উঠেছেন, যেখানে আধ্যাত্মিক আলোচনা, নৈতিক শিক্ষা এবং মানবিক মূল্যবোধ পারিবারিক সংস্কৃতির অংশ ছিল। তাঁর পারিবারিক উত্তরাধিকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব সুফি সাধক হযরত শাহ সুফি খাজা ফয়েজ উদ্দিন (রহ.) ও হযরত মৌলভী খাজা নাছের আলী (রহ:) । পারিবারিক ঐতিহ্য অনুযায়ী, তাঁর আধ্যাত্মিক বংশধারা কাদেরিয়া তরিকার মহান সাধক হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) এর সিলসিলার সঙ্গে সম্পর্কিত।
এই ঐতিহ্য তাঁর চিন্তা ও মননকে প্রভাবিত করেছে। বিশেষত সুফিবাদ, মানবিকতা, নৈতিকতা, আত্মশুদ্ধি এবং সমাজের আধ্যাত্মিক পুনর্গঠনের প্রশ্ন তাঁর লেখালেখিতে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

সাংবাদিকতার সূচনা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের বিকাশঃ
অল্প বয়স থেকেই লেখালেখি, সমাজ পর্যবেক্ষণ এবং সমসাময়িক ঘটনাবলির প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। এই আগ্রহই পরবর্তীকালে তাঁকে সাংবাদিকতার জগতে নিয়ে আসে। ১৯৯৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজধানী ঢাকা থেকে প্রকাশিত একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার বরগুনার আমতলী উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকতা শুরু করেন তিনি।
সাংবাদিকতার প্রাথমিক পর্যায়েই তিনি উপলব্ধি করেন, সাংবাদিকতা শুধু সংবাদ পরিবেশনের পেশা নয়। এটি মানুষের অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার, জনস্বার্থ এবং রাষ্ট্র ও সমাজের জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ফলে তাঁর সাংবাদিকতার লক্ষ্য কেবল ঘটনার বিবরণ দেওয়ায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। বরং ঘটনার অন্তর্নিহিত কারণ, সামাজিক প্রভাব এবং মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে তার সম্পর্ক অনুসন্ধানেও তিনি মনোযোগী হন।
সত্যনিষ্ঠ ও নির্ভীক সংবাদচর্চার কারণে পেশাগত জীবনের শুরুতেই তাঁকে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। স্থানীয় সন্ত্রাসীদের হেনস্থার শিকার হওয়ার ঘটনাও তাঁর কর্মজীবনের অংশ। কিন্তু এসব প্রতিবন্ধকতা তাঁর পেশাগত দায়িত্ববোধকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। বরং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে টিকে থাকার অভিজ্ঞতা তাঁকে আরও বাস্তববাদী, সতর্ক ও দায়িত্বশীল সাংবাদিক হিসেবে গড়ে তুলেছে।

এ পর্যায়ে তাঁর সাংবাদিকতার সঙ্গে সামাজিক কর্মকাণ্ডের একটি স্বাভাবিক যোগসূত্র তৈরি হয়। সমাজের অসংগতি, মানুষের অধিকার, শিক্ষা, নৈতিকতা এবং জনসচেতনতার বিষয়গুলো তাঁর চিন্তার কেন্দ্রে স্থান পায়। পরবর্তীকালে জাতীয় মানবাধিকার সংস্থা ‘লাইট হাউজ’ এর সিনিয়র ভাইস- প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন তাঁর এই সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের পরিসরকে আরও বিস্তৃত করেছে।

ছাত্রজীবনেই সম্পাদনার হাতেখড়িঃ
খাজা মাসুম বিল্লাহ কাওছারীর কর্মজীবনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, সাংবাদিকতার পাশাপাশি সাহিত্য ও সাময়িকী সম্পাদনার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা। ছাত্রজীবনেই লিটল ম্যাগাজিন, সাহিত্য পত্রিকা এবং বিভিন্ন মাসিক ও ত্রৈমাসিক প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি সম্পাদনার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
১৯৯৯ সালে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ থেকে প্রকাশিত সৈকত সাহিত্যসেবা পরিষদের মুখপত্র ত্রৈমাসিক ‘চিরহরিৎ’ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর সম্পাদনায় পত্রিকাটি নবীন লেখক ও সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য একটি সৃজনশীল পরিসর হয়ে ওঠে।
পরবর্তীতে যুগশ্রেষ্ঠ ওলি হযরত মাওলানা আজিজুর রহমান নেছারাবাদী কায়েদ ছাহেব হুজুর এর প্রতিষ্ঠিত "নেছারাবাদ কমপ্লেক্স" থেকে প্রকাশিত মাসিক ‘রেনেসাঁ’ পত্রিকার সহ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মরহুম হযরত কায়েদ সাহেব হুজুর কেবলার প্রতিষ্ঠিত এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি বিষয় নির্বাচন, লেখার মানোন্নয়ন এবং বস্তুনিষ্ঠ উপস্থাপনার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
এই অভিজ্ঞতাগুলো পরবর্তী সময়ে তাঁর সম্পাদকীয় দক্ষতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

জাতীয় গণমাধ্যমে কর্মদক্ষতা ও পেশাগত বিস্তারঃ
বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে তাঁর সাংবাদিকতার পরিধি আরও বিস্তৃত হয়। তিনি বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে কাজের মাধ্যমে সংবাদ সংগ্রহ, তথ্য যাচাই, প্রতিবেদন তৈরি, অনুসন্ধানী পর্যবেক্ষণ এবং বিশ্লেষণধর্মী লেখালেখিতে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
তাঁর কর্মসম্পৃক্ত গণমাধ্যমগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো‘নিউএইজ’, জাতীয় বার্তা সংস্থা এনএনবি, দৈনিক ‘আজকের আলো’, দৈনিক ‘আন্দোলনের বাজার’, দৈনিক ‘কুষ্টিয়ার বাণী’ এবং ‘ক্যাম্পাস পরিক্রমা’।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করার ফলে তিনি সংবাদপত্রের ভিন্ন ভিন্ন সম্পাদকীয় নীতি, সংবাদ উপস্থাপনার কৌশল, পাঠকের মনস্তত্ত্ব এবং গণমাধ্যমের পেশাগত বাস্তবতা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকতা তাঁকে দিয়েছে বাস্তবতার পাঠ, আর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতা তাঁকে দিয়েছে পেশাগত বৈচিত্র্য ও সম্পাদনাগত পরিপক্বতা।

সম্পাদক হিসেবে প্রতিষ্ঠা ও নেতৃত্বের কৌশলঃ
বর্তমানে তিনি দৈনিক ‘কালের কথা’ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি গবেষণাধর্মী ত্রৈমাসিক পত্রিকা ‘শিক্ষালয়’ এর নির্বাহী সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
একজন সম্পাদকের প্রধান কাজ কেবল প্রকাশনার দায়িত্ব পালন নয়। বরং একটি গণমাধ্যমের চিন্তাগত অবস্থান নির্ধারণ, বিষয়বস্তুর মান বজায় রাখা, তথ্যের সত্যতা যাচাই, লেখার গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা এবং পাঠকের কাছে দায়িত্বশীল সংবাদ ও মতামত পৌঁছে দেওয়া। এ ক্ষেত্রে তাঁর সাংবাদিকতা ও সাহিত্য সম্পাদনার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।

তাঁর সম্পাদকীয় কর্মকৌশলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো-সংবাদ, মতামত ও গবেষণাধর্মী বিশ্লেষণের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা। তিনি সংবাদকে কেবল তাৎক্ষণিক ঘটনার বিবরণ হিসেবে না দেখে বৃহত্তর সামাজিক বাস্তবতার অংশ হিসেবে বিবেচনা করেন। তাঁর কাছে সম্পাদনা মানে শুধু লেখা সংশোধন নয়, বরং চিন্তার মানোন্নয়ন, তথ্যের যথার্থতা এবং সমাজের প্রতি গণমাধ্যমের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা।

গবেষণামনস্কতা ও ‘সিলেক্টেড কলাম’ঃ
খাজা মাসুম বিল্লাহ কাওছারীর লেখালেখির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তাঁর গবেষণামুখী দৃষ্টিভঙ্গি। তাঁর রচনায় সমসাময়িক ঘটনার পাশাপাশি ইতিহাস, ইসলামি দর্শন, সুফিবাদ ও আধ্যাত্মিকতা, সমাজতত্ত্ব, রাজনীতি ও সমাজনীতি, সামাজিক স্বাস্থ্য, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের বিষয়গুলো উঠে আসে।

তাঁর লিখিত ‘সিলেক্টেড কলাম’ গ্রন্থটি এই চিন্তাচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকলন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। একজন কলামলেখকের দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণ, সময়ের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং সমসাময়িক সমাজের নানা প্রশ্ন নিয়ে তাঁর চিন্তার প্রতিফলন "নির্বাচিত কলাম" গ্রন্থে বিশেষভাবে প্রকাশিত হয়। এ ধরনের সংকলনের গুরুত্ব শুধু লেখাগুলো একত্রে সংরক্ষণে নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট সময়ের সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বাস্তবতাকে পাঠকের সামনে উপস্থাপনের মধ্যেও নিহিত।

গবেষণার দৃষ্টিতে তাঁর কলামগুলো মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের যথার্থতা, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের ব্যবহার, যুক্তির ধারাবাহিকতা, সমসাময়িক বাস্তবতার সঙ্গে অতীতের সম্পর্ক নির্ণয় এবং সমাজের সমস্যার অন্তর্নিহিত কারণ অনুসন্ধান। তাঁর লেখার মূল্যায়নও এসব মানদণ্ডে হওয়া প্রয়োজন।
তাঁর ভাষাশৈলীতে গবেষণাধর্মী বিশ্লেষণের পাশাপাশি সাহিত্যিক ব্যঞ্জনা রয়েছে। তথ্য, যুক্তি, ইতিহাস ও দর্শনের সমন্বয়ে তিনি পাঠককে কেবল কোনো বিষয় সম্পর্কে অবহিত করতে চান না বরং বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবতে উৎসাহিত করেন। বিশেষত পরিবারব্যবস্থার সংকট, যুবসমাজের মানসিক বিভ্রান্তি, নৈতিক অবক্ষয়, সামাজিক বিভাজন এবং আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের অবক্ষয় তাঁর আলোচনার উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্র।

সমাজ, মানবাধিকার ও নৈতিক দর্শনঃ
খাজা মাসুম বিল্লাহ কাওছারীর চিন্তার একটি কেন্দ্রীয় অবস্থান হলো সমাজের স্থায়ী পরিবর্তনের জন্য কেবল প্রশাসনিক সংস্কার যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন শিক্ষা, নৈতিকতা, মানবিকতা এবং আত্মিক উন্নয়নের সমন্বয়।
জাতীয় মানবাধিকার সংস্থা ‘লাইট হাউজ’ এর সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর দায়িত্বও এই মানবিক ও সামাজিক চিন্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। সাংবাদিকতা, সম্পাদনা এবং মানবাধিকারবিষয়ক কর্মকাণ্ড এই তিনটি ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা তাঁকে সমাজের বিভিন্ন স্তরের সমস্যা পর্যবেক্ষণের সুযোগ করে দিয়েছে।
তিনি যে বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসর নির্মাণের চেষ্টা করছেন, তার মূল ভিত্তি হলো সত্য অনুসন্ধান, নৈতিক অবস্থান, ইতিহাসের পাঠ এবং মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়।

খাজা মাসুম বিল্লাহ কাওছারীর জীবন ও কর্মপরিধি পর্যালোচনা করলে একজন সাংবাদিকের ক্রমবিকাশের একটি ধারাবাহিক চিত্র পাওয়া যায়। ১৯৯৭ সালে মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকতা দিয়ে শুরু, ছাত্রজীবনে সাহিত্য সম্পাদনা, জাতীয় গণমাধ্যমে পেশাগত অভিজ্ঞতা, গবেষণামূলক লেখালেখি, "নির্বাচিত কলাম" গ্রন্থ প্রকাশ এবং বর্তমানে সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন-প্রতিটি ধাপ তাঁর কর্মজীবনের স্বতন্ত্র পরিচয় বহন করে।
সাংবাদিক থেকে সম্পাদক হয়ে ওঠা তাঁর ক্ষেত্রে কেবল পদবির পরিবর্তন নয়। এটি অভিজ্ঞতা, চিন্তা, দায়িত্ববোধ ও নেতৃত্বের ক্রমবিকাশ। সংবাদ সংগ্রহের অভিজ্ঞতা তাঁকে বাস্তবতার কাছাকাছি এনেছে, সম্পাদনা তাঁকে চিন্তার শৃঙ্খলা শিখিয়েছে, আর গবেষণামুখী লেখালেখি তাঁকে ইতিহাস ও দর্শনের গভীরে প্রবেশের সুযোগ করে দিয়েছে।
একজন সম্পাদকের প্রকৃত সাফল্য কেবল কতগুলো পত্রিকা প্রকাশিত হলো, তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তিনি কতটা সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতা, জ্ঞানভিত্তিক আলোচনা এবং দায়িত্বশীল চিন্তার পরিবেশ তৈরি করতে পারলেন, তার মধ্যেই তাঁর সার্থকতা নিহিত। সেই বিবেচনায় খাজা মাসুম বিল্লাহ কাওছারীর দীর্ঘ সাংবাদিকতা, সম্পাদনা ও লেখালেখির অভিযাত্রা বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার পরিসরে একটি উল্লেখযোগ্য কর্মপ্রয়াস।

লেখক: প্রকৌশলী ও মানবাধিকার কর্মী।

১২৭ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
ফিচার নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০