সর্বশেষ

সারাদেশ

শাহী মসজিদের টাকা আত্মসাতের বিষয়ে মোতাওয়াল্লীর সংবাদ সম্মেলন

এইচ এম ইমরান, ঝিনাইদহ 
এইচ এম ইমরান, ঝিনাইদহ 

রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ ৩:২৫ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ঝিনাইদহের শৈলকুপা শাহী মসজিদের আয়-ব্যয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ৬১ লাখ টাকা আয়ের খবরকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন মসজিদটির মোতাওয়াল্লী মীর শামসুজ্জামান পান্না। তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, গত ২৫ মাসে মসজিদটির মোট আয় হয়েছে ৫ লাখ ৮০ হাজার ৫৮১ টাকা। একই সময়ে ব্যয় হয়েছে ৫ লাখ ৭৯ হাজার ৭২৫ টাকা। বর্তমানে মসজিদের তহবিলে অবশিষ্ট রয়েছে ৮৫৬ টাকা।

শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুর ২টায় শৈলকুপা শাহী মসজিদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মীর শামসুজ্জামান পান্না।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তিনি শৈলকুপা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে শৈলকুপা শাহী মসজিদের মোতাওয়াল্লীর দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মসজিদের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়মিত সংরক্ষণ করছেন। পাশাপাশি এসব হিসাব বাংলাদেশ ওয়াক্‌ফ স্টেটের অডিট ইন্সপেক্টরের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। নিরীক্ষা দল হিসাব পর্যালোচনা করে সন্তোষ প্রকাশ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

মীর শামসুজ্জামান পান্না বলেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত কয়েকটি খবরে দাবি করা হয়েছে, গত ২৫ মাসে মসজিদে ৬১ লাখ টাকা আয় হয়েছে। এর অর্ধেক খাদেমরা নিয়েছেন এবং বাকি ৩০ লাখ ৪৫ হাজার টাকার কোনো হিসাব নেই। এসব তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।

তিনি জানান, মসজিদের প্রকৃত আয় ৫ লাখ ৮০ হাজার ৫৮১ টাকা এবং ব্যয় ৫ লাখ ৭৯ হাজার ৭২৫ টাকা। আয়-ব্যয়ের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে অবশিষ্ট অর্থের পরিমাণ ৮৫৬ টাকা।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, আয়-ব্যয়ের হিসাবের পাশাপাশি অডিট ইন্সপেক্টরের স্বাক্ষর ও সিলযুক্ত নিরীক্ষা প্রতিবেদন এবং বাৎসরিক কর প্রদানের কপি সাংবাদিকদের দেওয়া হয়েছে। এসব নথি যাচাই করলে মসজিদের আর্থিক লেনদেনের প্রকৃত চিত্র জানা যাবে।

মসজিদের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের ব্যয় সম্পর্কে তিনি বলেন, সর্বসম্মতিক্রমে সীমানার ১১টি ছোট-বড় মেহগনি গাছ বিক্রি করে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। এ ছাড়া মুসল্লিরা অনুদান দিয়েছেন ২ লাখ ১২ হাজার টাকা। এসব অর্থসহ প্রাচীর নির্মাণকাজে এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৩১৫ টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে নির্মাণসামগ্রীর আরও ৩২ হাজার ১৩৫ টাকা পরিশোধ করা বাকি রয়েছে।

মসজিদের ইমামের কাছ থেকে প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগও অস্বীকার করেন মোতাওয়াল্লী। বিষয়টির সত্যতা জানতে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ইমাম ও খাদেমদের সঙ্গে কথা বলার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর দাবি, খাদেমদের সঙ্গে আলোচনা ও বৈঠকের মাধ্যমে মসজিদের বিভিন্ন ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নিজের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে মীর শামসুজ্জামান পান্না বলেন, একটি মহল তাঁকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে বৃহত্তর যশোর ও কুষ্টিয়ার ওয়াক্‌ফ হিসাব নিরীক্ষক মো. নাজমুল হাসান জানিয়েছেন, ইসি নম্বর-১১৩৮, বাদশা হুসাইন শাহ ও/এ শৈলকুপা, ঝিনাইদহের বিগত ও চলতি অর্থবছরের হিসাব নিরীক্ষা করে কোনো অসংগতি পাওয়া যায়নি।

১৩২ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০