কুষ্টিয়ায় বিএনপিতে ঐক্য ফেরানোর তাগিদ
তৃণমূলের সঙ্গে সমন্বয় ও নেতৃত্বের সেতুবন্ধনে আলোচনায় শেখ সাদী
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৬:৫৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার রাজনীতিতে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করা, অভ্যন্তরীণ দূরত্ব কমানো এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘদিনের বিভিন্ন মতপার্থক্য ও সাংগঠনিক দূরত্ব কাটিয়ে দলকে আরও ঐক্যবদ্ধ ও সক্রিয় করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
কুষ্টিয়ার বিএনপির সাংগঠনিক বাস্তবতা নিয়ে অতীতেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিভাজন ও নেতৃত্বের দ্বন্দ্বের প্রভাব তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছানোর কথা উঠে এসেছে। ২০২৫ সালের একটি প্রতিবেদনে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ে গ্রুপিংয়ের প্রভাব এবং তৃণমূলে বিভক্তির চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল।
এমন প্রেক্ষাপটে দলের ভেতরে ঐক্য, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও তৃণমূলকে সক্রিয় করার প্রশ্নটি গুরুত্ব পাচ্ছে। আর এই আলোচনায় কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. শেখ সাদীর নামও উঠে আসছে।
সাম্প্রতিক এক কর্মীসভায় শেখ সাদী বলেছেন, তৃণমূলের ঐক্য, শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক শক্তিই বিএনপির মূল ভিত্তি। ব্যক্তিগত মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে দলীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও গ্রাম পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ এবং অভিজ্ঞ ও তরুণদের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব কমানোর প্রশ্নঃ
কুষ্টিয়ায় বিএনপির সামনে এখন অন্যতম বড় সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ হচ্ছে তৃণমূলের সঙ্গে নেতৃত্বের কার্যকর যোগাযোগ আরও বাড়ানো। মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মতামত, প্রত্যাশা ও সাংগঠনিক ভূমিকা যথাযথভাবে সমন্বিত না হলে একটি বড় রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক শক্তি ধরে রাখা কঠিন—এমন মত রয়েছে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে।
এই জায়গায় ড. শেখ সাদীর বক্তব্যে তৃণমূলকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট। তাঁর মতে, দলের প্রতিটি কর্মীই সংগঠনের শক্তি। ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও গ্রাম পর্যায়ে নিয়মিত কর্মীসভা, মতবিনিময় এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর তিনি জোর দিয়েছেন।
তৃণমূলের সঙ্গে এমন ধারাবাহিক যোগাযোগ তৈরি হলে স্থানীয় পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও দূরত্ব কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিজ্ঞ ও তরুণদের মধ্যে সেতুবন্ধনের প্রয়োজনঃ
রাজনৈতিক সংগঠনে অভিজ্ঞ নেতৃত্ব যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নতুন প্রজন্মের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততাও সাংগঠনিক ধারাবাহিকতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির ক্ষেত্রেও অভিজ্ঞ ও তরুণ নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।
শেখ সাদী নিজেও সাম্প্রতিক বক্তব্যে অভিজ্ঞ ও নবীন নেতাকর্মীদের সমন্বয়ের মাধ্যমে সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন প্রজন্মকে সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি অভিজ্ঞ নেতাদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো প্রয়োজন।
এ ধরনের সমন্বয় কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়েও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আরও সক্রিয় হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
নেতৃত্ব নিয়ে তৃণমূলে নতুন প্রত্যাশাঃ
কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিতে ড. শেখ সাদী যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন। ২০২৪ সালে অনুমোদিত জেলা আহ্বায়ক কমিটির তালিকায় তাঁর নামও রয়েছে।
পরবর্তী সময়ে জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন এবং গ্রাম পর্যায়ের দলীয় কর্মসূচিতে তাঁর অংশগ্রহণ এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। খোকসা উপজেলা বিএনপির সম্মেলনেও তিনি তৃণমূল রাজনীতিকে সক্রিয় করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন বলে তাঁর প্রকাশিত প্রতিবেদনেও উল্লেখ করা হয়েছে।
ফলে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাংগঠনিক পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনায় তাঁর নাম সামনে আসাকে কেউ কেউ তৃণমূলের প্রত্যাশার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। তবে এই প্রত্যাশা বাস্তবে কতটা সাংগঠনিক পরিবর্তনে রূপ নেয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
ঐক্যই সামনে বড় পরীক্ষাঃ
কুষ্টিয়ায় বিএনপির সাংগঠনিক রাজনীতিতে এখন মূল প্রশ্ন শুধু নেতৃত্বের পরিবর্তন নয়; বরং বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে আস্থা ও সমন্বয় কতটা ফিরিয়ে আনা যায়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব ও গ্রুপিংয়ের প্রভাব তৃণমূল পর্যন্ত যাওয়ার যে আলোচনা হয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে দলীয় কাঠামোর প্রতিটি স্তরে যোগাযোগ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
বিএনপি নেতা ড. শেখ সাদীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে যে বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে—তৃণমূলের ঐক্য, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, অভিজ্ঞ ও তরুণদের সমন্বয় এবং জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ—সেগুলো কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সামনে থাকা সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জগুলোর সঙ্গেই সরাসরি সম্পর্কিত।
তবে নেতৃত্বের কোনো উদ্যোগ কার্যকর করতে হলে শুধু ব্যক্তি-কেন্দ্রিক প্রত্যাশার বাইরে গিয়ে একটি সমন্বিত সাংগঠনিক প্রক্রিয়া গড়ে তোলাই হবে বড় বিষয়। জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ, মতবিনিময় এবং পারস্পরিক আস্থা তৈরির উদ্যোগই পারে সেই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে।
কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির জন্য তাই সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠছে ঐক্য, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও তৃণমূলের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ। আর এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় ড. শেখ সাদীর ভূমিকা ও নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা কতটা বিস্তৃত হয়, সেটিই সময়ের সঙ্গে স্পষ্ট হবে।
২০৩ বার পড়া হয়েছে