সরকারি কর্মচারিদের জন্য ঋণ করে ঘি খাওয়া রাষ্ট্রের বিবেক
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:১১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
“আমাদের অদ্ভুত দেশ! অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর” স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের এই মন্তব্য নিছক রাজনৈতিক বাক্য নয়। এটি রাষ্ট্রের আয়নায় দেখা এক ভয়ংকর মুখচ্ছবি।
প্রশ্ন হলো, আয়নায় যদি মুখের কালিমা দেখা যায়, তাহলে রাষ্ট্র কি মুখ ধোয় নাকি ঋণ করে আয়নাতে আরও দামি ফ্রেম বাঁধায়?
একদিকে সরকারি কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, অন্যদিকে তাঁদের বেতন-ভাতা, গাড়ি, বাড়ি, পেনশন ও নানা রাষ্ট্রীয় সুবিধা ক্রমাগত বাড়ানো হচ্ছে। যুক্তিটি যেন এমন, চুরি কমাতে চোরের বাড়ি আরও বিলাসবহুল করে দাও! এটা নিছক বিলাসী ভাবনা...!
অবশ্য সবাই চোর নন; অসংখ্য কর্মকর্তা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে রাষ্ট্রের সেবা করেন। কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগ যদি এত বিস্তৃত হয়, তাহলে সমস্যাটি কেবল ব্যক্তির চরিত্রে আটকে নেই, ঘুনে ধরা প্রশাসনিক কাঠামো নীরবে ভেঙে পড়েছে নিশ্চয়ই!!!
বেতন বাড়ানো প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে জবাবদিহি না বাড়লে সেটিকে প্রণোদনা বলা যায় না। বরং রাষ্ট্রীয় লোকসানে দুর্নীতির আশংকা বাড়িয়ে তোলা।
দিন শেষে কর্মকর্তা কত দিয়ে পকেট ভরলো, তা বিবেচ্য নয়। বরং কতটা ন্যায়নিষ্ঠতার সাথে দেশ বিনির্মাণে আত্মনিয়োগ করলো, সেটাই তার অবদান হিসেবে স্বীকৃত।
১১১ বার পড়া হয়েছে