এসএসসি পরীক্ষার্থী মেয়ের প্রয়োজনে সদরেই থাকতে চান শিক্ষা কর্মকর্তা
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৩১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীনকে নান্দাইল উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। বদলির পর তিনি তাঁর একমাত্র মেয়ে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী উল্লেখ করে পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সদরেই থাকার আবেদন করেছেন। একই বিষয়ে ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে বদলি আদেশ পুনর্বিবেচনার সুপারিশ করেছেন।
সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি প্রশাসনের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। তবে কোনো কর্মকর্তার বদলির সঙ্গে পারিবারিক পরিস্থিতি ও সন্তানের শিক্ষাজীবনের বিষয় যুক্ত হলে সেটি নিয়ে মানবিক দিকটিও সামনে আসে। ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীনের বদলি নিয়েও এখন এমন আলোচনা চলছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ৯ সেপ্টেম্বরের আদেশে মনিকা পারভীনকে ময়মনসিংহ সদর থেকে নান্দাইল উপজেলায় বদলি করা হয়। পরদিনই তিনি অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে বদলি স্থগিতের আবেদন করেন।
আবেদনে মনিকা পারভীন উল্লেখ করেন, তাঁর একমাত্র মেয়ে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী। মেয়ের পড়াশোনা, পরীক্ষার প্রস্তুতি ও মানসিক স্থিতিশীলতার বিষয় বিবেচনা করে এসএসসি পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে ময়মনসিংহ সদরেই দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি।
আবেদনের সঙ্গে বদলি আদেশের কপি ও মেয়ের বিদ্যালয়ের পরিচয়পত্রও সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মনিকা পারভীনের স্বামী ময়মনসিংহ বিভাগীয় ইসলামিক ফাউন্ডেশন কার্যালয়ের পরিচালক হিসেবে কর্মরত। ফলে স্বামী-স্ত্রী দুজনের কর্মস্থল ময়মনসিংহে থাকায় মেয়ের পড়াশোনার বিষয়টি বিবেচনা করে বদলি পুনর্বিবেচনার আবেদন করেছেন বলে তাঁর আবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
বদলির সময় নিয়ে প্রশ্ন
মনিকা পারভীনের বদলির বিষয়টি আলোচনায় আসার আরেকটি কারণ হলো তাঁর কার্যালয়ের দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষের অভিযোগ এবং এ-সংক্রান্ত তদন্তের সময়কাল।
এর আগে ‘ঘুষ.সাইট’-এ শাহেদ শরীফ আহমেদ নামে একজন অভিযোগকারী দাবি করেন, তাঁর মৃত মায়ের সরকারি পাওনা ১০ লাখ টাকা পেতে তাঁদের কাছে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়েছিল।
ওই অভিযোগের পর ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের দুই কর্মচারী এ এইচ এম নাদিরুল হাসান সবুজ ও মুহাম্মদ মজিবুর রহমানকে ৩১ আগস্ট কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। পরে তদন্ত কমিটি ৬ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন জমা দেয়। এর তিন দিন পর, ৯ সেপ্টেম্বর মনিকা পারভীনের বদলির আদেশ আসে।
ঘটনাগুলোর সময়ের কাছাকাছি হওয়ায় বদলিটি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঘুষ দাবির অভিযোগটি সরাসরি মনিকা পারভীনের বিরুদ্ধে করা হয়নি। অভিযোগের পর তাঁর কার্যালয়ের ওই দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার তথ্য রয়েছে।
বদলির কারণ ‘জনস্বার্থ’
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আদেশে মনিকা পারভীনের বদলির কারণ হিসেবে ‘জনস্বার্থ’ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আদেশে জনস্বার্থের সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি।
ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের যেকোনো সময় বদলি করা হতে পারে। মনিকা পারভীনের বদলির পেছনে আলাদা কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তাঁর জানা নেই।
মনিকা পারভীনও বলেছেন, তিনি তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করেছেন। তবে তাঁকে কেন বদলি করা হয়েছে, সেই নির্দিষ্ট কারণ তিনি জানেন না বলে জানান।
সদর উপজেলায় দায়িত্ব পালন
মনিকা পারভীন ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। তাঁর দায়িত্ব পালনের সময় বিদ্যালয় পরিদর্শন, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনা, শিক্ষকদের বিভিন্ন সমস্যা শোনা এবং বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও যাতায়াতসংক্রান্ত বিষয় দেখভালসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে তাঁর ভূমিকার কথা বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে এসেছে।
তাঁর বদলিতে স্থানীয় শিক্ষক ও অভিভাবকদের অনেকে হতাশা প্রকাশ করেছেন বলেও জানা গেছে। তবে তাঁর কর্মদক্ষতা বা অবদানের চূড়ান্ত মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সরকারি নথি, কর্মসম্পাদনের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট স্বীকৃতিকে ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করাই যুক্তিসংগত।
সংসদ সদস্যের সুপারিশ
মনিকা পারভীনের বদলি পুনর্বিবেচনার বিষয়ে ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে ডিও লেটার দিয়েছেন।
সেখানে মনিকা পারভীনের একমাত্র মেয়ের ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা, তাঁর স্বামীর ময়মনসিংহে কর্মরত থাকা এবং পারিবারিক পরিস্থিতির বিষয়গুলো বিবেচনা করে বদলি আদেশ পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করা হয়েছে।
এখন মনিকা পারভীনের আবেদন ও সংসদ সদস্যের সুপারিশের পর তাঁর বদলি আদেশ পুনর্বিবেচনা করা হয় কি না, সেটিই দেখার বিষয়।
১১৮ বার পড়া হয়েছে