পাবনার আকাশে চাঁদ ও শুক্রের অপূর্ব মেলবন্ধন, মহাজাগতিক দৃশ্য
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৯:৫৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পাবনার রাতের আকাশে দেখা মিলেছে চাঁদ ও শুক্র গ্রহের এক অপূর্ব ও নান্দনিক মহাজাগতিক দৃশ্য। সোমবার রাতে মেঘমুক্ত আকাশে চাঁদের একদম কাছাকাছি উজ্জ্বল এই গ্রহটির অবস্থান জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিরল এই দৃশ্যটি ক্যামেরাবন্দি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পাবনা শহরসহ জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের আকাশজুড়ে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে এক অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্যের অবতারণা হয়। চাঁদের ঠিক পাশেই মিটিমিটি জ্বলতে থাকা উজ্জ্বল নক্ষত্রসদৃশ শুক্র গ্রহের এই মেলবন্ধন স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক কৌতুহল ও আনন্দের সৃষ্টি করে। অনেকেই বাড়ির ছাদ বা খোলা জায়গা থেকে এই বিরল দৃশ্য উপভোগ করেন এবং মুঠোফোনে তা ধারণ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মুহূর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে পাবনার আকাশের এই মায়াবী রূপ। অনেকেই ছবিগুলো পোস্ট করে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। ব্যস্ত নাগরিক জীবনের ক্লান্তি ভুলে প্রকৃতির এই অদ্ভুত সুন্দর উপহার যেন এক মুহূর্তের জন্য সবাইকে হারিয়ে যেতে বাধ্য করেছিল অনন্য এক জগতে।
পাবনা কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান পাভেল মৃধা এ প্রসঙ্গে বলেন, আকাশের এমন অপরূপ রূপ সচরাচর দেখতে পাওয়া যায় না। চাঁদ ও তারার মতো জ্বলজ্বলে শুক্রের এই সহাবস্থান এতটাই সুন্দর ছিল যে, তিনি নিজেও ছবি না তুলে থাকতে পারেননি। এই দৃশ্যটি প্রকৃতির প্রতি মানুষের প্রেম আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মহাজাগতিক এই ঘটনার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়ে সেন্টার ফর স্পেস সায়েন্স, এস্ট্রোনমি অ্যান্ড এস্ট্রোফিজিক্সের রিসার্চ ইন্টার্ন সোহানুর রহমান জানান, এটি মূলত চাঁদ ও শুক্র গ্রহের যুগলবন্দি। জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় আকাশমন্ডলে চাঁদ ও কোনো গ্রহের এমন কাছাকাছি অবস্থানকে 'কনজাংশন' বা সংযোগ বলা হয়ে থাকে।
তিনি আরও জানান, যখন চাঁদ সরাসরি কোনো গ্রহ বা তারার সামনে এসে সেটিকে সম্পূর্ণ আড়াল করে ফেলে, তখন তাকে 'লুনার অকালটেশন' বলা হয়। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে শুক্র ও চাঁদের এমন লুকোচুরি খেলার ঘটনা মোট তিনবার ঘটবে, যার মধ্যে সোমবার রাতেরটি ছিল প্রথম পর্ব।
১১২ বার পড়া হয়েছে