সর্বশেষ

জাতীয়

৮ অক্টোবর থেকে ২২ দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৪০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে আগামী ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ থাকবে। এ সময়ে ইলিশ ধরা ছাড়াও পরিবহন, মজুদ, বাজারজাত, কেনাবেচা ও বিনিময় করা যাবে না। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে দেশের ইলিশের প্রধান প্রজনন এলাকাগুলোতে অভিযান ও নজরদারি জোরদার করা হবে।

মা ইলিশ রক্ষায় আগামী ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। নিষেধাজ্ঞার সময়ে ইলিশ পরিবহন, মজুদ, বাজারজাত, কেনাবেচা ও বিনিময়ও নিষিদ্ধ থাকবে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ইলিশ সম্পদ উন্নয়নসংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

সভায় জানানো হয়, নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন মা ইলিশ সংরক্ষণে সারা দেশে অভিযান পরিচালনা করা হবে। ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকা জেলেদের ভিজিএফের আওতায় খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।

সভায় মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, ইলিশের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে মা ইলিশ রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। বরিশাল, চাঁদপুর ও ভোলাসহ ইলিশের প্রধান প্রজনন এলাকাগুলোতে নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করার নির্দেশ দেন তিনি।

নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে জেলা প্রশাসন, নৌ পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও মৎস্য বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। প্রয়োজন হলে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত নৌযান ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

অবৈধভাবে ধরা ইলিশ যেন বাজারে পৌঁছাতে না পারে, সে জন্য বরফকল, আড়ত ও বাজারগুলোতেও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চাঁদপুরের মোহনাসহ ইলিশের প্রজননক্ষেত্রগুলোতে অবৈধ জাল অপসারণে কঠোর অভিযান চালানোর কথাও বলেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, নিষিদ্ধ সময়ে কোনোভাবেই ইলিশ ধরা বা বাজারজাত করার সুযোগ দেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে আগামী মৌসুমে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণ গবেষণার মাধ্যমে চিহ্নিত করতে হবে। কোথায় দুর্বলতা বা কার্যক্রমে ঘাটতি রয়েছে, তা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

অবৈধ জাল বন্ধের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিষিদ্ধ জাল উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি জেলে প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জেলেদের এসব জাল না কেনার বিষয়ে সচেতন করতে হবে।

নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের জন্য দেওয়া সরকারি সহায়তা যেন প্রকৃত জেলেদের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে তদারকি বাড়ানোর কথাও জানান তিনি।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিদেশ থেকে মাছ আমদানি করতে হচ্ছে, যা উদ্বেগের বিষয়। কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

ইলিশকে জাতীয় সম্পদ ও জিআই পণ্য হিসেবে রক্ষা এবং এর উৎপাদন বাড়াতে ভবিষ্যতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. মীর হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. লতিফুল ইসলামসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া জেলা প্রশাসন, র‍্যাব, কোস্ট গার্ড, বিমানবাহিনী, নৌ পুলিশ, বিজিবি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির প্রতিনিধিরাও সভায় অংশ নেন।

১১২ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০