ইতিহাসের আয়নায় ডাকসু'র রাজনীতিকে দেখা
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু শুধুমাত্র ছাত্রপ্রতিনিধিত্বের প্রতিষ্ঠান নয়। এখান থেকে সূচনা হয়েছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক দীর্ঘ প্রতিচ্ছবি।
সেই ডাকসুতে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্ককে নিছক একটি ছবি টাঙানো বা সরানোর প্রশ্ন হিসেবে না দেখে; এর ভেতরে লুকিয়ে থাকা ইতিহাস, পরিচয়, ভাষা ও রাজনৈতিক চেতনার পুরোনো দ্বন্দ্বকেও দেখতে হবে।
আপনারা অবগত আছেন, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের নেতৃত্বে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান স্থপতি। কিন্তু সেই পাকিস্তানই শেষ পর্যন্ত ভেঙে জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ। ইতিহাসের এই পরিহাসকে আমাদের স্বীকার করতেই হয়।
১৯৪৮ সালে ঢাকায় এসে জিন্নাহ রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার অবস্থান ব্যক্ত করেছিলেন। তাঁর সেই অবস্থানের ফলে তৎকালীন পূর্ব বাংলার ছাত্র-জনতার সঙ্গে সংঘাত এবং পরবর্তী সময় ভাষা আন্দোলনের রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটকে আরও তীব্র করে তোলে।
আজকের বাংলাদেশে তাই জিন্নাহকে নিয়ে বিতর্ক হওয়াটাই স্বাভাবিক। প্রশ্ন হচ্ছে- ইতিহাসকে আমরা কি পছন্দমতো চরিত্র বেছে নিয়ে পড়ব নাকি তার আলো-অন্ধকার দুটোই স্বীকার করব?
ডাকসুতে জিন্নাহর ছবি টাঙানো ইতিহাসকে জানার জন্যই আহ্বান করা হয়েছে। সেটাকে ইতিহাস পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ নেই। কারণ স্বাধীন বাংলাদেশের আত্মপরিচয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন আছে।
এই অবস্থায় নতুন প্রজন্মকে মনে রাখতেই হবে, ইতিহাস কোনো রাজনৈতিক দলের পোস্টার নয়। আবার কোনো প্রজন্মের রাগের ডাস্টবিনও নয়। ইতিহাসকে সরিয়ে ফেললে কিংবা ছবি ভাঙলেই সত্য বদলাবে না। এতে বরং সত্যের আয়নাটাই ভেঙে যাবে।
আর সেই ভাঙা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চেহারা দেখতে চাইলে শেষ পর্যন্ত নিজেরই খণ্ড-বিখণ্ড প্রতিচ্ছবি দেখা যাবে।
আমরা চাই, ইতিহাসকে যাচাই করা হোক ভ্রান্ত আবেগের বাইরে এসে সত্যের কষ্টিপাথরে এবং নির্মোহ বিশ্লেষণে।
১২২ বার পড়া হয়েছে