সর্বশেষ

মতামত

বঞ্চিত ৯০ শতাংশের মনস্তাত্ত্বিক আনুগত্য ও শাসন কাঠামোর চরিত্র

লিটন আব্বাস
লিটন আব্বাস

সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৮:৩৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ইতিহাসের পাতায় বিপ্লব কিংবা গণঅভ্যুত্থানের দৃশ্যপট দৃশ্যত অমলিন, রোমাঞ্চকর এবং মানব ইতিহাসের অবদমিত সামাজিক শক্তিগুলোর অনবদ্য জাগরণের নিখাঁদ প্রতীক হয়েই বেঁচে থাকে। অমানবিক নিপীড়ন ও শোষণের জগদ্দল পাথর সাধারণ মানুষের অস্তিত্বকে নিষ্পেষিত করতে করতে সীমার বাইরে গেলেই পুঞ্জীভূত দ্রোহ ও ক্ষোভের বিস্ফোরণে স্বৈরাচারী কাঠামোর ভীত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে এবং পতন ঘটে শাসকের সাম্রাজ্য; ফলে সূচিত হয় নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির। কিন্তু বিপ্লব-উত্তর রাষ্ট্র পরিচালনায় যে নির্মোহ, কঠোর ও নিষ্ঠুর বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়, তা ইতিহাসজুড়ে এক গভীর করুণ বৈপরীত সামাজিক পরিবেশের জন্ম দেয়।
লিটন আব্বাস

বিপ্লবের প্রাক্কালে রাজপথে হাজারো মানুষের যে বাঁধভাঙা আকুতি, সীমাহীন রক্তদান এবং বৈষম্যহীন নতুন রাষ্ট্র কাঠামোর স্বপ্নাবেশ পরিলক্ষিত হয়, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী ক্ষমতা হস্তান্তরের পরপরই তা প্রশাসনিক স্থবিরতা, আইনি মারপ্যাঁচ ও রাজনৈতিক অচলাবস্থার দেওয়াল ভেদ করে এগোতে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দেয়। এই নিরবচ্ছিন্ন অচলাবস্থার মূলে রয়েছে শতাব্দীকাল ধরে গড়ে ওঠা বৈষম্যমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব। সমাজের তলানির ৯০ শতাংশ বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর প্রাত্যহিক মানসিকতায় মনস্তাত্ত্বিক আনুগত্য ও দাসত্ব বিরাজ করার কারণেই গভীর ও স্থায়ী স্থবিরতা তৈরি হয়ে থাকে, যাকে মার্কিন মনস্তাত্ত্বিক ও সমাজবিজ্ঞানী মার্টিন সেলিগম্যান 'অর্জিত অসহায়ত্ব' হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিক বিচারহীনতা, প্রশাসনিক নিপীড়ন এবং অর্থনৈতিক শোষণের শিকার হতে হতে মানুষ অবচেতনভাবেই ধরে নেয় যে, বাহ্যিক বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক প্রতিরোধ শেষ পর্যন্ত নিষ্ফল ও অর্থহীন। ইতালীয় সমাজবিজ্ঞানী ও রাষ্ট্রচিন্তাবিদ আন্তোনিও গ্রামসি তাঁর বিখ্যাত 'সাংস্কৃতিক আধিপত্য' তত্ত্বে দেখিয়েছেন, সমাজে ক্ষমতার শীর্ষে অবস্থানরত সুবিধাভোগী ১০ শতাংশ এলিট শ্রেণী কেবল রাষ্ট্রযন্ত্র, আইনি কাঠামো কিংবা পুলিশি দমনপীড়ন দিয়ে সমাজকে অনুগত রাখে না; তারা এমন সাংস্কৃতিক আধিপত্য, সামাজিক মূল্যবোধ ও অর্থনৈতিক জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে, যেখানে শোষিত গণমানুষকে প্রতিনিয়ত প্রাত্যহিক রুটি-রুজির চরম সংকটে জিম্মি থাকতে হয়।

ফরাসি সমাজবিজ্ঞানী পিয়ের বোরদিয়ুর শ্রেণি-সমাজতত্ত্বের আলোকেও এই পরিস্থিতি অনুধাবন করা সম্ভব। তাঁর মতে, শাসকশ্রেণীর হাতে কেন্দ্রীভূত বিপুল 'রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মূলধন' এর বিপরীতে সংস্কারক কিংবা বৈপ্লবিক অংশটি কেবল কিছু 'সাংস্কৃতিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক মূলধন' নিয়ে লড়াই করে, যা শোষকের দীর্ঘকাল ধরে সুসংগঠিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সামনে অত্যন্ত নড়বড়ে ও ভঙ্গুর প্রমাণিত হয়। ফলে সাধারণ মানুষ বিপ্লবের সূচনাপর্বে ক্ষোভের আগুনে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রদীপ্ত কণ্ঠে সোচ্চার হলেও, বিপ্লবোত্তর ঝড়ের উত্তাপ প্রশমিত হওয়ার পর জীবনধারণের প্রাত্যহিক সংগ্রাম পুনরায় শুরু হলে; তারা আবার চেনা পুরনো ব্যবস্থার ছায়াতলেই আপেক্ষিক সুরক্ষার সন্ধান করে। তারা অন্তরের গভীরে ধরে নেয়—ক্ষমতার শীর্ষে ব্যক্তির চেহারার রূপান্তর ঘটলেও সাধারণের ভাগ্যের কোনো মৌলিক ও স্থায়ী উন্নতি ঘটবে না। এই সামাজিক-মনস্তাত্ত্বিক শৃঙ্খলের কারণেই সাধারণ মানুষ চিন্তার জায়গায় আমূল পরিবর্তন প্রত্যাশা করলেও, প্রাত্যহিক সুরক্ষার বাধ্যবাধকতায় শেষপর্যন্ত সুবিধাভোগী এলিট শ্রেণীর তৈরি করা অনুকম্পাভিত্তিক রাজনীতির তোষামোদ ও আনুগত্যের তখতপোষেই নিজেদের পুনরায় সমর্পণ করে দেয়।

অন্যদিকে, বিপ্লব-পরবর্তী নতুন ক্ষমতার কাঠামোর চরিত্রগত অপপরিবর্তন এই সংকটকে আরও অন্তহীন সামাজিক ট্র্যাজেডিতে রূপ দেয়! সমাজবিজ্ঞানী উইলফ্রেডো প্যারেটোর 'এলিটদের চক্রাবর্তন' এবং রবার্ট মিচেলসের 'অলিগার্কির লৌহবিধি' (তত্ত্ব এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রব্যবস্থার একটি অপ্রিয় সত্য উন্মোচন করে। এই তত্ত্বগুলোর মূল নির্যাস হলো—যেকোনো বড় সামাজিক-  রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরই পুরনো আমলাতন্ত্র, প্রশাসনিক আইনি জটিলতা এবং ক্ষমতার নতুন সুবিধাভোগী গোষ্ঠী একজোট হয়ে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী চক্র গড়ে তোলে, যা দিনশেষে গণমানুষকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল প্রক্রিয়া থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। ১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লব-পরবর্তী ডিরেক্টরি শাসনের উত্থান কিংবা ১৯১৭ সালের বলশেভিক বিপ্লব-পরবর্তী জটিল আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকাশ এর প্রত্যক্ষ ঐতিহাসিক সাক্ষ্য বহন করে। রাজপথে জীবন ও রক্ত দিয়ে যারা বিপ্লবকে সফল করে তোলে—সেই শ্রমিক, কৃষক, মেহনতি মানুষ ও সাধারণ ছাত্র-জনতা—সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রাতিষ্ঠানিক টেবিলে তাদের কোনো সরাসরি কিংবা কার্যকর প্রতিনিধিত্ব থাকে না। তাদের প্রতিনিধি হিসেবে যারা নীতি নির্ধারণী আসনে বসেন, তারাও অতি দ্রুতই কাঠামোগত প্রশাসনিক ছক ও কায়েমী স্বার্থের কাছে বন্দি হয়ে পড়েন।

ফলস্বরূপ, রাষ্ট্র সংস্কার ও পুনর্গঠনের আলোচনাগুলো প্রায়শই উচ্চপর্যায়ের আইনি রূপরেখা, শাসনতান্ত্রিক বিতর্ক ও সংবিধানের তাত্ত্বিক সীমানায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে; কিন্তু বঞ্চিত ৯০ শতাংশ মানুষের প্রকৃত লড়াইটি আবর্তিত হয় প্রতিদিনের নিত্যপণ্যের বাজারদর, কর্মসংস্থান, চিকিৎসা ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং স্থানীয় স্তরের প্রাতিষ্ঠানিক নির্যাতন থেকে মুক্তির সাথে। প্রাত্যহিক এই বস্তুগত ও মৌলিক চাহিদার সাথে কাঠামোগত রাজনৈতিক রূপকল্পের গভীর বিচ্ছেদ ঘটাই বিপ্লব-উত্তর শাসন ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় বিপর্যয় হিসেবে দেখা দেয়।

—এই নিরবচ্ছিন্ন অচলাবস্থার মাঝে সবচেয়ে বেশি সংক্ষুব্ধ, একাকী ও পীড়িত হন সমাজের সেই সচেতন, প্রগতিশীল ও বিবেকবান অংশটি, যারা তৃণমূলের বঞ্চিত মানুষের প্রতিনিধি হয়ে রাষ্ট্রচিন্তা করেন। সমাজবিজ্ঞানের ভাষায় একে "কাসান্দ্রা সিন্ড্রোম"  বলা চলে—যেখানে আগামীর সামাজিক বিপদ ও সংকটের মাত্রা স্পষ্ট দেখতে পাওয়া সত্ত্বেও সাধারণ জনগণকে একটি সুসংগঠিত ও স্থায়ী রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত করা সম্ভব হয় না। চিন্তাশীল অংশটি কাঠামোগত আমূল পরিবর্তনের প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখার দিকে এগোতে গেলেই, ক্ষমতাসীন ও সুবিধাভোগী শ্রেণী তাদের রাজনৈতিক শত্রু অথবা স্থিতিশীলতার অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করে; আর যে ৯০ শতাংশ মানুষের মুক্তির জন্য এই লড়াই, সেই সাধারণ মানুষও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলে বন্দি থাকার কারণে চিন্তাশীলদের পেছনে সুসংগঠিত না হয়ে পুরনো ক্ষমতার ছায়াতলেই নিবৃত্ত আশ্রয় খোঁজে।

জনসংখ্যার এই বিশাল অংশের কার্যকর প্রতিনিধিত্বের অভাব এবং মনস্তাত্ত্বিক আনুগত্য সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জাতীয় সমৃদ্ধিকেও স্থবির করে দেয়। নীতি নির্ধারণের লাগাম যদি আবারও সুবিধাভোগী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন কেবল কাগজ-কলমে, দৃশ্যমান কিছু পরিকাঠামোয় ও কৃত্রিম প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যানে আবদ্ধ থাকে; সাধারণ মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা, জীবনযাত্রার গুণগত মান কিংবা অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বৃদ্ধি পায় না। একটি রাষ্ট্রের টেকসই ও প্রকৃত উন্নয়ন নির্ভর করে জনগণের সিংহভাগের স্বাধীন উৎপাদিত শক্তি ও সাম্যভিত্তিক মুক্তির ওপর।

জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবারের ক্ষমতার ধরণ সংক্রান্ত তত্ত্ব বিশ্লেষণ করলেও দেখা যায়, যেকোনো বিপ্লবোত্তর সামাজিক পরিস্থিতিতে আবেগী ও 'আকর্ষণীয় নেতৃত্ব' খুব দ্রুতই পুরনো স্থবির 'আইনি ও আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থার' কাছে নতিস্বীকার করতে বাধ্য  হয়। বিপ্লবের প্রাথমিক উত্তাপ কমে গেলে রাষ্ট্রযন্ত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আমলাতান্ত্রিক নিয়মের মারপ্যাঁচে বন্দি হয়ে পড়ে, যা সাধারণ জনগণকে পুনরায় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু থেকে প্রান্তিক অবস্থানে ঠেলে দেয়। এর সাথে যুক্ত হয় 'আকাঙ্ক্ষার আপেক্ষিক সংকট' । বিপ্লবের সময় জনগণ অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে যে আকাশচুম্বী পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখে, বাস্তবতার সীমিত সম্পদে তা অতি দ্রুত অর্জন করা সম্ভব হয় না। ফলে চরম হতাশা ও অনাস্থার জন্ম নেয়। শোষিত সমাজ তখন নতুন কাঠামোর অনিশ্চয়তার চেয়ে চেনা পুরনো শোষণের ছাদকেই বেশি নিরাপদ মনে করতে শুরু করে।

এই প্রাতিষ্ঠানিক ও মনস্তাত্ত্বিক অচলাবস্থা থেকে উত্তরণের পথটি তাই সুদূরপ্রসারী এবং অত্যন্ত জটিল। কেবল অনুকম্পাভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনা কিংবা উচ্চমার্গীয় সাংবিধানিক সংশোধনী দিয়ে ৯০ শতাংশ জনসমষ্টির এই অর্জিত অসহায়ত্ব দূর করা সম্ভব নয়। বিপ্লব-উত্তর রাষ্ট্রকে জনতার কাঙ্ক্ষিত মুক্তিসংগ্রামে পরিণত করতে হলে রাজনৈতিক সামাজিকীকরণের প্রাতিষ্ঠানিক ছকে আমূল রূপান্তর আনতে হবে। সাধারণ মানুষকে কেবল ভোটাধিকার কিংবা আন্দোলনের রাজপথের শক্তি হিসেবে ব্যবহার না করে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্থানীয় ও জাতীয় নীতি-নির্ধারণী কাঠামোতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করা অপরিহার্য। অর্থনৈতিক কাঠামোর পুনর্গঠন এমনভাবে হতে হবে যেন তা কেবল ধনকুবের তৈরি না করে মেহনতি মানুষের মৌলিক সঞ্চয়, কর্মসংস্থান ও খাদ্য নিরাপত্তার বস্তুগত নিশ্চয়তা দেয়।

—বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রেণীকেও কেবল তত্ত্ব চর্চার বিলাসী সীমানা পেরিয়ে তৃণমূলের দৈনন্দিন জীবনের রুটি-রুজির লড়াইয়ের সাথে নিজেদের তাত্ত্বিক রাষ্ট্রচিন্তার মেলবন্ধন ঘটাতে হবে। শোষিত জনমানুষ যখন বুঝতে পারবে যে নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা কেবল ক্ষমতার রূপক হাতবদল নয়, বরং তাদের প্রাত্যহিক জীবনের শোষণ, দুর্নীতি ও হয়রানি বন্ধের বাস্তব নিশ্চয়তা দিচ্ছে, তখনই কেবল তাদের দীর্ঘদিনের অর্জিত মনস্তাত্ত্বিক আনুগত্য ও দাসত্ব ভেঙে পড়বে।

সুতরাং, বৈপ্লবিক রূপান্তরকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে বিপ্লব-উত্তর রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে এমনভাবে ঢেলে সাজাতে হবে, যেন তা এলিটদের নতুন চক্রান্তে আবার সাধারণ মানুষের হাতছাড়া না হয়। কেবল আইনি নথিপত্রে কিংবা সংবিধানের সুন্দর বাক্যবন্ধে মুক্তির ঘোষণা দিলে চলবে না; বিচারব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং বাজার অর্থনীতিতে সাধারণ মানুষের বস্তুগত প্রভাব নিশ্চিত করতে হবে। তৃণমূল পর্যায়ে স্থানীয় শাসনব্যবস্থায় শোষিত জনগণের সরাসরি নজরদারি ব্যবস্থা না থাকলে শাসনতন্ত্রের কোনো সংস্কারই দীর্ঘমেয়াদী সুফল দিতে পারে না। আকাঙ্ক্ষা এবং বাস্তবায়নের মাঝখানের এই ঐতিহাসিক ব্যবধানটুকু ঘোচাতে হলে দরকার গণমানুষের নিরবচ্ছিন্ন সচেতনতা এবং রাজনৈতিক সজাগ দৃষ্টি। ইতিহাস সাক্ষী, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত রাজনৈতিক সচেতনতা এবং নিজেদের সাংবিধানিক অধিকারের রক্ষক হিসেবে আত্মপ্রকাশের ব্যতিরেকে কোনো বিপ্লবই দীর্ঘস্থায়ী রূপ পায়নি। যতক্ষণ না পর্যন্ত বঞ্চিত সাধারণ জনগণ শাসকের করুণা পাওয়ার দাসত্বভিত্তিক মানসিকতা থেকে বের হয়ে নিজেদের সাংবিধানিক ও অর্থনৈতিক অধিকারের বিষয়ে সচেতন প্রতিরোধ গড়ে তুলবে, ততক্ষণ বিপ্লব-উত্তর রাষ্ট্র কাঠামো কেবল ক্ষমতার রূপক হাতবদলের প্রতীক হয়েই থাকবে—জনতার কাঙ্ক্ষিত মুক্তির দলিল হয়ে উঠতে পারবে না।

 
লেখক : নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক।

১২১ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
মতামত নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন