খুলনার কুখ্যাত সন্ত্রাসী ‘শুটার আরমান’ গ্রেপ্তার, উদ্ধার ভারী অস্ত্র ও গুলি
সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৭:৩৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
খুলনার কুখ্যাত ‘আরমান বাহিনী’র প্রধান ও শীর্ষ সন্ত্রাসী মো. আরমান হোসেন দিপু ওরফে শুটার আরমানকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৬। সোমবার সকালে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। অভিযানে তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি শটগান এবং বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-৬-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক নিস্তার আহমেদ জানান, খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর, খালিশপুর, আড়ংঘাটা ও দিঘলিয়াসহ আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার করে আসছিল আরমান বাহিনী। এই বাহিনীর প্রধান দিপু স্থানীয় মহলে ‘শুটার আরমান’ নামে পরিচিত এবং তার বাড়ি দৌলতপুরের দেয়ানা এলাকায়।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এই সন্ত্রাসী চক্রের সদস্যরা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ওপর চরম অত্যাচার চালাত। তারা বিভিন্ন বিদেশি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করত। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়াসহ প্রাণনাশের হুমকি দিত আরমানের সহযোগীরা।
র্যাবের অভিযানে আরমানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার সহযোগীদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি শটগান ও ১২ রাউন্ড শটগানের গুলি জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দিপু স্বীকার করেছে যে, গত ১৭ জুন দৌলতপুরের একটি মসজিদে প্রবেশ করে দুই মুসল্লিকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছিল সে।
পুলিশ ও র্যাবের রেকর্ড অনুযায়ী, খুলনার বিভিন্ন থানায় আরমান হোসেন দিপুরের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা ও হত্যাচেষ্টার মামলা রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মামুন মোল্লা, মায়াজান মুনা, কালা রানী, ঘাটুরা রাজিব, যুবদল নেতা রাশু এবং মনিরুল ইসলাম রনি হত্যা মামলা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, দিপুর গ্রেপ্তারের মাধ্যমে খুলনার একটি বড় সন্ত্রাসী চক্রের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এই বাহিনীর অন্য সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে এবং খুলনার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
১২০ বার পড়া হয়েছে