সর্বশেষ

আন্তর্জাতিক

অগ্ন্যুৎপাতে ইন্দোনেশিয়ার ৮ বিমানবন্দর বন্ধ, লাখো যাত্রীর ভোগান্তি

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৯:৩৯ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ইন্দোনেশিয়ার আনাক ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত থেকে ছড়িয়ে পড়া ছাইয়ের কারণে দেশটির আটটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। এতে ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন এবং ১ হাজার ৫৫৮টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। জাকার্তার সুকর্ণ-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও বহু যাত্রী আটকা পড়েছেন।

ইন্দোনেশিয়ার জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থিত আনাক ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরি থেকে গত শুক্রবার গভীর রাতে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। এরপর আগ্নেয় ছাই আশপাশের বিস্তীর্ণ আকাশে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। পরিস্থিতির কারণে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা বিবেচনায় দেশটির আটটি বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়।

স্থানীয় সময় রোববার সকালে প্রথমে জাকার্তার সুকর্ণ-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। পরে লামপুং ও পশ্চিম জাভা প্রদেশের যাতায়াতে ব্যবহৃত বিমানবন্দরসহ আরও সাতটি বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়। সোমবার সকাল পর্যন্ত এসব বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

ইন্দোনেশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী দুদি পুরওয়াগান্ধী বলেছেন, আবহাওয়ার পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে বিমান চলাচল স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আগ্নেয় ছাইয়ের কারণে অনেক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫৫৮টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। এতে ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি যাত্রী দুর্ভোগে পড়েছেন।

বিমানবন্দর বন্ধের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে সিঙ্গাপুর থেকে আসা ও সিঙ্গাপুরগামী ফ্লাইটে। পাশাপাশি দোহা, সিডনি ও কুয়ালালামপুরসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইট চলাচলও ব্যাহত হয়েছে।

সুকর্ণ-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকা পড়া যাত্রীদের অনেককে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে কেউ কেউ বিমানবন্দরের ভেতর মেঝেতেই ঘুমিয়ে সময় কাটিয়েছেন।

ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূকম্পনবিষয়ক সংস্থা বিএমকেজির তথ্য অনুযায়ী, অগ্ন্যুৎপাতের ছাই জাভা দ্বীপের দিকে প্রায় ২০ হাজার ফুট বা ৬ হাজার মিটার উচ্চতায় এবং সুমাত্রা দ্বীপের দিকে প্রায় ৫০ হাজার ফুট বা ১৫ হাজার মিটার উচ্চতায় ছড়িয়ে পড়েছে। জাভার বানটেন প্রদেশের কিছু এলাকাতেও ছাইয়ের উপস্থিতি দেখা গেছে।

আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার তথ্য বলছে, আনাক ক্রাকাতোয়ায় সর্বশেষ অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে স্থানীয় সময় রোববার রাত ৮টা ২৩ মিনিটে।

আগ্নেয় ছাইয়ের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বাইরে চলাচলের সময় মানুষকে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় জাকার্তা ও লামপুংয়ের কয়েকটি স্কুলে দূরশিক্ষা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। আনাক ক্রাকাতোয়া নামের অর্থ ‘ক্রাকাতোয়ার সন্তান’। ১৮৮৩ সালে ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতে পুরোনো ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যায়। ওই অগ্ন্যুৎপাতের পর সৃষ্ট একাধিক সুনামিতে ৩৬ হাজারের বেশি মানুষ মারা যান।

১০৮ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
আন্তর্জাতিক নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন