সংসদে ফিরে আবেগাপ্লুত হয়ে বক্তব্য দেন মির্জা আব্বাস
শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২:০৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
দীর্ঘ ২০ বছর পর জাতীয় সংসদে ফিরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস। দীর্ঘদিন বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রথমবার বক্তব্য দেন তিনি। বক্তব্যের একপর্যায়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে থেমে যান প্রবীণ এই রাজনীতিক।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। হুইলচেয়ারে বসে অধিবেশনে বক্তব্য দেন মির্জা আব্বাস।
সংসদে বক্তব্যের শুরুতে মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করেন তিনি। একই সঙ্গে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, ২০০৬ সালের পর আবারও জাতীয় সংসদে একজন সংসদ সদস্য হিসেবে দাঁড়িয়ে কথা বলার সুযোগ পাওয়া তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম আবেগপূর্ণ ও স্মরণীয় মুহূর্ত। দীর্ঘ বিরতির পর সংসদে ফিরতে পারাকে তিনি আনন্দ ও গর্বের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।
নিজের শারীরিক অবস্থা তুলে ধরে তিনি জানান, প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস ধরে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। নির্বাচনের পর একটি দলীয় রাজনৈতিক সভায় অংশ নেওয়ার সময় তিনি গুরুতর স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় থাকতে হয়েছে।
মির্জা আব্বাস বলেন, চিকিৎসা পুরোপুরি শেষ না হলেও এবং শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া সত্ত্বেও জনগণের প্রতি ভালোবাসা, আবেগ ও দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি সংসদে উপস্থিত হয়েছেন।
নিজের অসুস্থতার সময়ে বিভিন্ন পর্যায় থেকে পাওয়া সহযোগিতা ও খোঁজখবরের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। মির্জা আব্বাস বলেন, তাঁর অসুস্থতার খবর পেয়ে ডেপুটি স্পিকার তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও তাঁর শারীরিক অবস্থার নিয়মিত খোঁজ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডেপুটি স্পিকারের মানবিক আচরণের কথা স্মরণ করে মির্জা আব্বাস বলেন, বিষয়টি তাঁকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। তাঁর মতে, এটি শুধু একজন অসুস্থ মানুষের প্রতি সহমর্মিতা নয়, সংসদীয় গণতন্ত্রের একটি মানবিক দৃষ্টান্তও।
বক্তব্যের একপর্যায়ে সংসদীয় রাজনীতির উদ্দেশ্য নিয়েও নিজের মত তুলে ধরেন মির্জা আব্বাস। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, রাজনীতি শুধু দলীয় পার্থক্য বা রাজনৈতিক সংঘাতের বিষয় নয়; এর মূল লক্ষ্য মানুষের সেবা করা।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় সংসদ শুধু বিতর্কের জায়গা নয়, এটি সাধারণ মানুষের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
মির্জা আব্বাস নিজের দ্রুত পূর্ণ সুস্থতার জন্য দোয়া চান। সুস্থ হয়ে নির্বাচনী এলাকার পাশাপাশি দেশের মানুষের জন্য জীবনের বাকি সময় নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করে যেতে চান বলেও জানান তিনি।
অসুস্থতার সময়ে তাঁকে দেখতে যাওয়া, খোঁজ নেওয়া এবং তাঁর জন্য দোয়া ও প্রার্থনা করা সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক সহকর্মী ও দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিএনপির এই নেতা।
বক্তব্যের শেষ দিকে মির্জা আব্বাস বলেন, দীর্ঘ বিরতির পর সংসদে ফিরে তিনি মানুষের কাছে এবং মানুষের সেবায় কাজ করতে এসেছেন। দেশ ও জাতির কল্যাণে জীবনের বাকি সময় কাজ করার সুযোগের জন্য তিনি দলমত–নির্বিশেষে সবার কাছে দোয়া চান।
১১৮ বার পড়া হয়েছে