সর্বশেষ

জাতীয়

বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সিএনজির গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব পেট্রোবাংলার

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬ ৬:১০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ভর্তুকির চাপ কমাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও যানবাহনে ব্যবহৃত সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস (সিএনজি)-এর দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে পেট্রোবাংলা। সংস্থাটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ করা গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটার ১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ টাকা এবং সিএনজির দাম ৪৩ টাকা থেকে প্রায় ৬৫ টাকা করার প্রস্তাব জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগে পাঠিয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)-এর দাম বৃদ্ধি, আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং সরকারের ভর্তুকির চাপ কমানোর লক্ষ্যেই গ্যাসের দাম বাড়ানোর এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পেট্রোবাংলার প্রস্তাব বর্তমানে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রস্তাবটি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে পাঠানো হবে। এরপর বিইআরসি নিয়ম অনুযায়ী গণশুনানি করবে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত, ব্যয় বিশ্লেষণ ও আর্থিক বিষয় পর্যালোচনা করে গ্যাসের নতুন দাম নির্ধারণ করা হবে।

দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী গ্যাসের দাম নির্ধারণ বা পরিবর্তনের চূড়ান্ত ক্ষমতা বিইআরসির হাতে। পেট্রোবাংলা বা গ্যাস বিতরণকারী কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব সরাসরি কার্যকর হয় না। কমিশনের অনুমোদনের পরই নতুন দাম কার্যকর করা হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবার মূলত বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সিএনজি খাতের গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আবাসিক, বাণিজ্যিক ও বিদ্যমান শিল্প গ্রাহকদের জন্য নতুন করে দাম বাড়ানোর কোনো প্রস্তাব এখন পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।

এর আগে ২০২৫ সালের এপ্রিলে নতুন শিল্পে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটার ৩০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ টাকা করা হয়। একই বছরের নভেম্বরে সার কারখানায় ব্যবহৃত গ্যাসের দাম ১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৯ টাকা ২৫ পয়সা করা হয়েছিল।

এদিকে গ্যাসের মূল্যের পাশাপাশি বিতরণ মাশুল বাড়ানোর আবেদন করেছে বিভিন্ন গ্যাস বিতরণ কোম্পানি। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি প্রতি ঘনমিটারে বিতরণ মাশুল ৩৭ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১ টাকা ২১ পয়সা করার প্রস্তাব দিয়েছে। পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি ২৪ পয়সা থেকে ৪১ পয়সা, বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ৩০ পয়সা থেকে ৯০ পয়সা করার আবেদন করেছে।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি দুটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে। অনুমোদিত সিস্টেম লস ৫ শতাংশ বিবেচনায় প্রতি ঘনমিটারে ৩৫ পয়সা এবং ২ শতাংশ বিবেচনায় ১ টাকা ৪ পয়সা বিতরণ মাশুল নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলোর দাবি, বর্তমান মাশুল দিয়ে পরিচালন ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান অপরিচালন আয় ব্যবহার করে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন লোকসান চলতে থাকলে এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকট আরও বাড়তে পারে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বাড়ায় গ্যাস সংগ্রহের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিভিন্ন উৎস থেকে কেনা গ্যাসের গড় ক্রয়মূল্য ছিল প্রতি ঘনমিটার ৩১ টাকা ৬৫ পয়সা। বিপরীতে গড় বিক্রয়মূল্য ছিল ২৩ টাকা ৬৩ পয়সা। ফলে প্রতি ঘনমিটারে প্রায় ৮ টাকা ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও হরমুজ প্রণালির অস্থিরতার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ সময়ে গ্যাসের গড় ক্রয়মূল্য ছিল প্রতি ঘনমিটার ২৭ টাকা ৬৪ পয়সা। এপ্রিল থেকে জুন সময়ে তা বেড়ে ৪৫ টাকা ৭৯ পয়সায় দাঁড়ায়। আগের দামে গ্যাস বিক্রি করায় ওই সময়ে প্রতি ঘনমিটারে ঘাটতি বেড়ে হয় ২১ টাকা ৮২ পয়সা।

এ কারণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পেট্রোবাংলার মোট আর্থিক ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে সরকার ভর্তুকি দিয়েছে প্রায় ১৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

দেশীয় ও আন্তর্জাতিক—দুই উৎস থেকেই গ্যাস সংগ্রহ করে পেট্রোবাংলা। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সিলেট গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি ও বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি থেকে প্রতি ঘনমিটার গ্যাস কেনা হয় প্রায় ১ টাকায় এবং বাপেক্স থেকে ৪ টাকায়। অন্যদিকে বিদেশি কোম্পানি ও আমদানি করা এলএনজির ক্ষেত্রে ব্যয় কয়েক গুণ বেশি।

একসময় দেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে প্রতিদিন প্রায় ২৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হলেও মজুত কমে যাওয়ায় বর্তমানে তা নেমে এসেছে প্রায় ১৬৫ কোটি ঘনফুটে। গত অর্থবছরে মোট গ্যাস সরবরাহের প্রায় ৩০ শতাংশ এসেছে আমদানির মাধ্যমে এবং ৭০ শতাংশ এসেছে দেশীয় উৎস থেকে।

পেট্রোবাংলার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তখন মোট গ্যাসের প্রায় ৭০ শতাংশই আমদানির ওপর নির্ভরশীল হতে পারে এবং দেশীয় উৎসের অবদান নেমে আসতে পারে ৩০ শতাংশে।

জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানো ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে গ্যাসের দাম ও ভর্তুকির চাপ কমানো কঠিন। পর্যাপ্ত অনুসন্ধান কার্যক্রম না হওয়ায় দেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের গতি কমেছে।

১৯৯৫ সালের জাতীয় জ্বালানি নীতিতে প্রতিবছর অন্তত চারটি অনুসন্ধান কূপ খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমছে এবং শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও নতুন সংযোগে চাপ তৈরি হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু আমদানিনির্ভরতা বাড়িয়ে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করা হলে ভবিষ্যতে গ্যাসের দাম ও ভর্তুকির চাপ আরও বাড়তে পারে। তাই দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

১১৭ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন