সর্বশেষ

মতামত

জুলাই অভ্যুত্থান কার সম্পত্তি? গণতন্ত্র নাকি মৌলতন্ত্রের?

মনজুর এহসান চৌধুরী
মনজুর এহসান চৌধুরী

বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬ ৮:৪৬ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়েছে। একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার ছয় মাসও পূর্ণ হয়নি। এই স্বল্প সময়ে দেশের ভগ্ন অর্থনীতি, দুর্নীতি, এবং বিভিন্ন খাতের অনিয়ম মেরামত করতে সময় লাগবে—এটি স্বাভাবিক। কিন্তু সময় দেওয়ার আগেই রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার এক অপচেষ্টা চলছে। কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী নিজেকে জুলাই অভ্যুত্থানের “নায়ক-হিরো” দাবি করে দেশে মব সৃষ্টি, অস্থিতিশীলতা, এবং গণতন্ত্রবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

জামায়াতে ইসলাম উপকাশ্যে দাবি করে বেড়ায় যে তাদের নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, তাই তারা ২০২৪ এর অভ্যুত্থানের প্রকৃত নায়ক। অথচ সত্য হলো, ১৯৭১ এর স্বাধীনতা সংগ্রাম যেমন শুধু আওয়ামী লীগের একার সম্পত্তি নয়—এদেশের আপামর জনগণ সেই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে বিজয় অর্জন করেছিল। ঠিক তেমনি, জুলাই অভ্যুত্থানও কোনো একক দলের “বাপ-দাদার সম্পত্তি” নয়। এটি ছিল লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষের আন্দোলন, যারা রাজপথে নেমেছিল শাসনতন্ত্রের পরিবর্তনের দাবিতে।

যদি জুলাই অভ্যুত্থান কারও সম্পদ হয়ে থাকে, তবে জনগণের রায় তা স্পষ্ট করে দিয়েছে। ২০২৪ পরবর্তী নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পেয়ে ২০২৬ সরকার গঠন করেছে। অতএব, এই আন্দোলন বিএনপিরই রাজনৈতিক সম্পদ। কিন্তু জামায়াত ও এনসিপি এই আন্দোলনকে নিজেদের পক্ষে নিতে যে অপচেষ্টা করছে, তা ধান্দাবাজি ছাড়া কিছু নয়। তারা জনগণের কাছ থেকে রাজনৈতিকভাবে ধিক্কৃত হয়েছে, তবুও মিথ্যা দিয়ে, বেহেশত-দোযখের লোভ দেখিয়ে, ধর্ম বেচে ভোট চুরি করে ৭০টি আসন জিতেছে।

বাংলাদেশের সরল-সাদা জনগণ পরকালের সুখ-স্বাচ্ছন্দের লোভ দেখিয়ে ভোট দিয়েছিল। এখন তারা বুঝতে পারছে যে তারা কাদের ভোট দিয়েছে। এই দলগুলো কীভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করছে, মব তৈরি করছে, এবং গণতন্ত্রের নামে মৌলতন্ত্র চালাচ্ছে—তা সবার চোখে পড়ছে।

গত দুই দিনে হবিগঞ্জ, মেহেরপুরের গাংনী, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এনসিপি নেতা-কর্মীদের যে আচরণ দেখা গেছে—“কুষ্পুত্র” লেখা, অশালীন স্লোগান, এবং ৫ জন নেতার হাস্যকর প্রতিবাদ—তা মানুষের কাছে হাসির খোরাকে পরিণত হয়েছে। তারা ভুলে যাচ্ছে যে ২০২৪ এর আন্দোলনে কোনো রাজনৈতিক দলের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছিল না। এটি ছিল জনগণের আন্দোলন, জনগণের বিজয়।

জামায়াতের গণতন্ত্রবিরোধী চরিত্র সবার জানা। গণতান্ত্রিক দল হিসেবে নিবন্ধন নিয়ে তারা মৌলবাদী চর্চা করে। দলীয় গঠনতন্ত্রে গণতন্ত্রের কোনো অস্তিত্ব নেই। কোরআন-হাদিসের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ভয়-ভীতি তৈরি করে তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধন করে। এটি গণতন্ত্র নয়, এটি মৌলতন্ত্র।

এনসিপির তরুণ নেতাদের অহংকারী মনোভাবও উদ্বেগজনক। সিনিয়র নেতাদের প্রতি অশালীন আচরণ, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অবমাননা—এইসব কিছুই গ্রহণযোগ্য নয়। মনে রাখতে হবে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বাবা জিয়াউর রহমান ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযুদ্ধে জেড ফোর্সের প্রধান, এবং প্রথম শ্রেণীর মুক্তিযোদ্ধা। তাঁর সন্তান বা পরিবারের প্রতি কটুক্তি অগ্রহণযোগ্য।

আমার স্পষ্ট বক্তব্য: একটি রাজনৈতিক দল গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় এসেছে। তাদের যদি কোনো মৌলিক ভুল থাকে, আমরা অবশ্যই রাজপথে তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলব। কিন্তু যখন কোনো মৌলিক ভুল নেই, অথচ ভুল খুঁজে খুঁজে বের করে দেশকে অস্থিতিশীল করা হচ্ছে—তখন আমরা তাদের কখনোই সমর্থন করতে পারি না।

৫ বছরের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সরকার মাত্র ৬ মাসে কোনো জনবিরোধী বা গণতন্ত্রবিরোধী কাজ করেনি। তবুও অযথা অশ্লীল ও অবাস্তব দাবি উপস্থাপন করে সারা বাংলাদেশে মবের রাজত্ব গঠনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি বাংলাদেশের জন্য ধ্বংসাত্মক। জামায়াত ও এনসিপির এই জোট গণতন্ত্রের নামে মৌলবাদী তন্ত্র চালাচ্ছে, যা প্রতিরোধ করা জরুরি।
 
গণতন্ত্র রক্ষায় আমাদের সচেতন থাকতে হবে। ২০২৪ এর আন্দোলন আমাদের সকলের অর্জন, কারো একার সম্পত্তি নয়। এটি ১৯৭১ এর বিপক্ষে নয়, বরং ১৯৭১ এর চেতনার ধারাবাহিকতা। এই সত্যকে রক্ষা করতে হবে, দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিরোধ করতে হবে। জনগণ এখন বুঝতে শিখেছে—মিথ্যার ভিত্তিতে গড়া রাজনীতি টিকে থাকতে পারে না।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

১৪৫ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
মতামত নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন