সর্বশেষ

জাতীয়

এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটিতে গ্যাস সংকট, ভোগান্তিতে দেশ

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬ ৬:৫৩ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবাসিক, শিল্প, বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাতে গ্যাস সংকট তীব্র হয়েছে। অনেক এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় গ্যাসের চুলা জ্বলছে না, অন্যদিকে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের।
ভোগান্তিতে ঢাকা

মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে অবস্থিত এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় সারাদেশে গ্যাস সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আবাসিক, শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিবহন—সব খাতেই।

তিতাস গ্যাসের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান জানান, তিতাসের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ১৯০ কোটি ঘনফুট। দুর্ঘটনার আগে প্রতিদিন প্রায় ১৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ পাওয়া গেলেও বর্তমানে তা কমে প্রায় ১২০ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। ফলে বিভিন্ন খাতে গ্যাস সরবরাহ সীমিত করতে হয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক এলাকায় দিনের বেলায় চুলা জ্বলছে না বলেই অভিযোগ করেছেন গ্রাহকেরা। ফলে অনেকে রাতে রান্না করছেন, আবার কেউ কেউ বৈদ্যুতিক ওভেন বা বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন।

পরিবহন খাতেও সংকটের প্রভাব স্পষ্ট। রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, কোথাও ‘গ্যাস নেই’ নোটিশ টাঙানো রয়েছে, আবার কোথাও গ্যাসের চাপ এত কম যে একটি গাড়িতে গ্যাস ভরতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সময় লাগছে। এর ফলে স্টেশনগুলোর সামনে দীর্ঘ যানবাহনের সারি তৈরি হয়েছে।

হাজীপাড়া এলাকার একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক সিরাজুল ইসলাম মৃধা বলেন, গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত কিছুটা গ্যাসের চাপ থাকলেও দিনের বেলায় তা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নেমে আসে। গ্যাসের চাপ ৫ পিএসআইয়ের নিচে নেমে গেলে কার্যকরভাবে গাড়িতে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হয় না।

সিএনজি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর বলেন, অনেক এলাকায় গ্যাসের চাপ ১ থেকে ২ পিএসআইয়ে নেমে এসেছে। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক গ্রাহক পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না। একই সঙ্গে ঢাকা জেলা সিএনজি চালক সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম জানান, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে অনেক চালক দৈনিক আয়ের লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ করতে পারছেন না।

রাজধানীর বাইরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলাতেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অনেক সিএনজি স্টেশনে স্বাভাবিক ১২ থেকে ১৫ পিএসআইয়ের পরিবর্তে মাত্র ১ থেকে ২ পিএসআই চাপ পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের অধিকাংশ সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ কার্যত বন্ধ রয়েছে।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) সূত্রে জানা গেছে, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণ নির্ধারণে কাজ চলছে। স্থানীয় প্রকৌশলীরা সমস্যার উৎস নিশ্চিত করতে না পারায় বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী আনা হচ্ছে। তাদের পরিদর্শনের পর মেরামতকাজের সময়সীমা এবং গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে কতদিন লাগতে পারে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

১৬০ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন