সাপের কামড়ে অসুস্থ সাপুড়িয়া, চিকিৎসা শেষ না হতেই হাসপাতাল ত্যাগ
সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬ ৮:১৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় গোখরা সাপের কামড়ে আহত সাপুড়িয়া ইমরান হোসেন (৩৮) চিকিৎসা শেষ না করেই হাসপাতাল থেকে স্বেচ্ছায় ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্ন ও সামাজিক সমালোচনার কারণে লোকলজ্জায় তিনি হাসপাতাল ছেড়েছেন বলে জানিয়েছেন।
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার সাপুড়িয়া ইমরান হোসেন গোখরা সাপের কামড়ে আহত হওয়ার পর কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে চিকিৎসা পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে তিনি চিকিৎসকের কাছ থেকে স্বেচ্ছায় ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি চলে যান।
ইমরান হোসেন বলেন, তিনি বর্তমানে সুস্থ আছেন। চিকিৎসকের অনুমতি নিয়েই বাড়িতে ফিরেছেন। তবে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা না নিয়ে হাসপাতাল ছাড়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, সাংবাদিকেরা এসে বারবার একই প্রশ্ন করছিলেন—‘ওঝা হয়ে সাপের কামড় খেয়ে কেন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন?’ কেউ কেউ তাঁকে ভণ্ড প্রমাণের চেষ্টা করছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এসব কারণে লোকলজ্জায় হাসপাতাল ছেড়ে বাড়ি চলে এসেছেন। বাকি চিকিৎসা বাড়ি থেকেই শেষ করবেন বলে জানান তিনি।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ইকবাল হাসান জানান, শনিবার রাতেই ইমরান চিকিৎসকের কাছে ছুটির আবেদন করেছিলেন। রোববার আবারও ছাড়পত্র চাইলে প্রয়োজনীয় ওষুধ লিখে তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ডা. ইকবাল হাসান বলেন, বর্তমানে ইমরানের শারীরিক অবস্থা ভালো। তবে হাসপাতাল ছাড়ার কারণ হিসেবে তিনি জানিয়েছেন, একজন সাপুড়িয়া হয়েও সাপের কামড়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকা তাঁর কাছে বিব্রতকর মনে হয়েছে।
তিনি সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেন, সাপে কাটলে ওঝা বা ঝাড়ফুঁকের ওপর নির্ভর করে সময় নষ্ট করা উচিত নয়। দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ভেড়ামারা উপজেলার গোলাপনগর ইউনিয়নের বাগগাড়ি পাড়া এলাকায় সাপ ধরতে গিয়ে কামড়ের শিকার হন ইমরান হোসেন। তিনি উপজেলার হিড়িমাদিয়া গোরস্থান পাড়ার মোশারফ হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমিরুল ইসলামের বাড়িতে সাপ উদ্ধারের জন্য যান ইমরান। এর আগে ১৬ জুলাই ওই বাড়ির ছেলে সম্রাট (২২) সাপের কামড়ে মারা যান। সম্রাট পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পরদিন আবার বাড়িতে সাপ দেখা দিলে আতঙ্কিত পরিবারের সদস্যরা ইমরানকে খবর দেন।
ইমরান জানান, বাড়ির উঠান থেকে প্রথমে তিনটি বাচ্চা সাপ উদ্ধার করেন তিনি। পরে মাটির গর্ত থেকে একটি বড় গোখরা সাপ বের করে ধরার চেষ্টা করেন। সাপটি বের করার প্রায় দেড় মিনিট পর অসাবধানতাবশত তাঁর হাঁটুর ওপরে কামড় দেয়।
আহত অবস্থায় স্থানীয় দুই যুবক তাঁকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। ইমরান নিজেকে সাপুড়িয়া ও ওঝা হিসেবে পরিচয় দেন এবং বিভিন্ন স্থান থেকে সাপ ধরার ভিডিও নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে থাকেন।
১৩২ বার পড়া হয়েছে