আলফাডাঙ্গায় ভাতিজা খুনের আড়াই মাস পর চাচাকেও কুপিয়ে হত্যা
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৪:৫০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ভাতিজা সুমন শেখ হত্যাকাণ্ডের আড়াই মাসের মাথায় এবার তার চাচা রবিউল শেখকেও (৫০) কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার রাতে বাড়ি ফেরার পথে উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ গ্রামে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় আরও তিনজন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন, যার ফলে এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
নিহত রবিউল শেখ আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ গ্রামের সাত্তার শেখের ছেলে। তিনি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা সদরের বাজারে একটি চায়ের দোকান চালাতেন। শনিবার রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে এই নৃশংস হামলার শিকার হন তিনি।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাতে বাড়ি ফেরার সময় কাশিয়ানী-আলফাডাঙ্গা সড়কের মালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত রবিউল ও তার সঙ্গীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা রবিউলকে চারদিক থেকে ঘিরে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। একপর্যায়ে তার হাত ও পা বিচ্ছিন্ন করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই রবিউলের মৃত্যু হয়।
এই হামলায় মুক্তার বিশ্বাস (৫০), লিটন খান (৪০) ও হৃদয় শেখ (২০) নামের আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে, যার মধ্যে মুক্তার বিশ্বাসের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
পূর্বশত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। এর আগে গত ২৬ জুন বড়ভাগ গ্রামের কলেজছাত্র সুমন শেখকে খুন করা হয়, যিনি নিহত রবিউলের ভাতিজা ছিলেন। সুমন হত্যাকাণ্ডের আসামিরা জামিনে মুক্তি পেয়ে বাদী পক্ষকে হুমকি দিচ্ছিল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে।
আলফাডাঙ্গা থানার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল আমিন এবং ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) মাসুদুজ্জামান জানিয়েছেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও দ্রুত গ্রেফতার করতে পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে।
১১২ বার পড়া হয়েছে