শেষ মুহূর্তেই নাটকীয় প্রত্যাবর্তন আর্জেন্টিনার, অবাক বিশ্ব!
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬ ৯:২৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ম্যাচের ৮৫ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। তবে শেষ পাঁচ মিনিটে দুই গোল করে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। লিওনেল মেসির দুটি অ্যাসিস্টে গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজ। ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ স্পেন।
বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে দারুণ নাটকীয় এক জয় তুলে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল। অবাক হয়ে দেখলো বিশ্ব।
গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে মরগান রজার্সের ক্রস থেকে নাহুয়েল মোলিনাকে ফাঁকি দিয়ে গোল করেন অ্যান্থনি গর্ডন। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল গর্ডনের দ্বিতীয় গোল।
গোল হজমের পর একের পর এক পরিবর্তন এনে আক্রমণের গতি বাড়ান আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। নিকো গঞ্জালেস, রদ্রিগো ডি পল, নিকোলাস ওতামেন্দি, গঞ্জালো মন্টিয়েল এবং পরে লাউতারো মার্তিনেজকে মাঠে নামিয়ে ম্যাচে নতুন গতি আনেন তিনি।
এরপর একের পর এক সুযোগ তৈরি করতে থাকে আর্জেন্টিনা। ৬৯ মিনিটে লিওনেল মেসির ক্রস থেকে নিকো গঞ্জালেসের হেড দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। ৭৬ মিনিটে রদ্রিগো ডি পলের ক্রস থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসে। পরের মিনিটেও গঞ্জালেসের আরেকটি হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
অন্যদিকে ৭২ মিনিটে গোলদাতা অ্যান্থনি গর্ডনকে তুলে অতিরিক্ত ডিফেন্ডার নামিয়ে রক্ষণাত্মক কৌশল নেয় ইংল্যান্ড। পাঁচ ডিফেন্ডারের এই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত দলটির জন্য সুবিধা বয়ে আনতে পারেনি। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যায় আর্জেন্টিনার দখলে।
৮৫ মিনিটে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। কর্নার থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে বল পেয়ে নিখুঁত পাস দেন লিওনেল মেসি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে বাঁকানো শটে জর্ডান পিকফোর্ডকে পরাস্ত করেন এনজো ফার্নান্দেজ।
এই অ্যাসিস্টের মাধ্যমে টানা ১১টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল অথবা অ্যাসিস্ট করার অনন্য কীর্তি গড়েন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
সমতায় ফেরার পরও আক্রমণ থামায়নি আর্জেন্টিনা। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আবারও মেসির পাস থেকে গোল করেন বদলি স্ট্রাইকার লাউতারো মার্তিনেজ। বক্সে ভেসে আসা বল শক্তিশালী হেডে জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।
গোল হজমের পর ইভান টনি ও মার্কাস রাশফোর্ডকে মাঠে নামিয়ে শেষ চেষ্টা করে ইংল্যান্ড। তবে আর্জেন্টিনার সংগঠিত রক্ষণ ভেদ করতে পারেনি থ্রি লায়ন্সরা। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে মেতে ওঠে আর্জেন্টিনা, আর হতাশায় মাঠ ছাড়ে ইংল্যান্ড।
অন্য সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে আগেই ফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্পেন। ফলে শিরোপার লড়াইয়ে এবার মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল স্পেন।
ট্যাগ
মেটা ডেসক্রিপশন
বাংলা SEO কী-ওয়ার্ড
১১৯ বার পড়া হয়েছে