কোনো ধরনের উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না সরকার: সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬ ৩:৫১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার কোনো ধরনের চরমপন্থা বা উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, এ বিষয়ে সরকার বিরোধী দলের সহযোগিতা পাবে। একই সঙ্গে দেশে যাতে আর কোনোভাবে ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এবং বাংলাদেশ কোনো তাঁবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত না হয়, সে জন্য জাতীয় ঐক্য অটুট রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন। বুধবার শেষ হওয়া বাজেট অধিবেশনটি গত ৭ জুন শুরু হয়েছিল। ২৬ কার্যদিবসের এই অধিবেশনে ৩০ জুন জাতীয় বাজেট পাস হয় এবং মোট ১০টি বিল অনুমোদন করা হয়।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উগ্রবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা এবং একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে সরকার কাজ করবে।
তারেক রহমান বলেন, সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতভিন্নতা থাকলেও জাতীয় স্বার্থের অনেক বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে। উগ্রবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিরোধী দলের সহযোগিতা পাওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হতে দেওয়া হবে না, যেখানে চরমপন্থা বা উগ্রবাদের জায়গা তৈরি হয়। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামেও যেন মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সংসদ নেতা বলেন, সংসদীয় ব্যবস্থায় বিরোধী দলের সঙ্গে মতপার্থক্য থাকবে, তবে তা শত্রুতায় রূপ নেওয়া উচিত নয়। প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের পরিবর্তে ন্যায়পরায়ণতার রাজনীতি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের পুনরুত্থান ঠেকাতে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ যেন কোনোভাবেই তাঁবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত না হয়, এ বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব রয়েছে।
অর্থনীতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের পরিকল্পনা করছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সম্পদ তৈরিকে সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, ব্যবসা-বাণিজ্যের বাধা দূর করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দুর্নীতি দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পেশাদার প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার কথাও জানান তিনি।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে জনগণের পাশে থাকার চেষ্টা করছে সরকার। ভবিষ্যতে এসব সুবিধাকে একটি সমন্বিত ‘ইউনিভার্সেল কার্ড’-এর আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
শিক্ষা খাতের উন্নয়ন নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
সংসদের কার্যক্রম প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সংসদে প্রাণবন্ত আলোচনা ও মতের ভিন্নতা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে, যেখানে রাষ্ট্র ও সরকার হবে জবাবদিহিমূলক, অর্থনীতি হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং নাগরিকদের জীবন হবে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ।
১৩৯ বার পড়া হয়েছে