সর্বশেষ

সারাদেশ

কুমারখালী–পান্টি সড়কে দুর্ভোগ, চার বছরেই বেহাল ১২ কিলোমিটার পথ

নুর আলম দুলাল, কুষ্টিয়া
নুর আলম দুলাল, কুষ্টিয়া

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬ ১:৫৩ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার কুমারখালী শহর থেকে পান্টি বাজার পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক এখন খানাখন্দে ভরা। বৃষ্টির পানিতে গর্তগুলো আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন কয়েক লাখ মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, অতিরিক্ত ওজনের বালুবাহী ট্রাক ও ভারী যানবাহনের কারণে সংস্কারের চার বছরের মধ্যেই সড়কটি নষ্ট হয়ে গেছে।
কুমারখালী–পান্টি সড়কে দুর্ভোগ

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের চারটি ইউনিয়নের মানুষের উপজেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম কুমারখালী–পান্টি সড়ক। যদুবয়রা, পান্টি, চাঁদপুর ও বাগুলাট ইউনিয়নের বাসিন্দারা প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করেন। পাশাপাশি ঝিনাইদহ ও মাগুরার কিছু এলাকার মানুষও এ পথ দিয়ে যাতায়াত করেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। কোথাও কোথাও গর্তে বৃষ্টির পানি জমে পুকুরের মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, যদুবয়রা জয়বাংলা বাজার মোড়, যদুবয়রা পশুহাটের সামনে এবং জোতমোড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় এলাকার সড়কে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এসব স্থানে পানি ও কাদার কারণে ছোট যানবাহন চলাচল করছে ঝুঁকি নিয়ে। এর মধ্যেই নিয়মিত চলছে বালুবাহী ১০ চাকার ট্রাক ও ড্রাম ট্রাক।

জোতমোড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহমুদ শরীফ বলেন, বিদ্যালয়ের সামনে দীর্ঘদিন ধরে বড় গর্ত রয়েছে। বৃষ্টি হলে সেখানে পানি জমে যায়। ট্রাক চলাচলের সময় কাদাপানি ছিটকে শিক্ষার্থীদের পোশাক ও বইখাতা নষ্ট হয়। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তি বাড়ছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অহনা খাতুন জানায়, বড় ট্রাক যাওয়ার সময় গর্তের কাদা পানি ছিটকে পড়ে। এতে স্কুলে আসা-যাওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ে। ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ হলে নিরাপদে চলাচল করা সম্ভব হবে।

স্থানীয় ভ্যানচালক আনোয়ার হোসেন বলেন, সড়কের প্রায় পুরো অংশই ভাঙা। আগে যেখানে ২০ মিনিট লাগত, এখন সেখানে ৪০ মিনিট সময় লাগে। গর্তে পড়ে ভ্যানের চাকা, টায়ার ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে।

যদুবয়রা গ্রামের ভ্যানচালক মনিরুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টির সময় সড়কের গর্তগুলো পানিতে ভরে যায়। অনেক সময় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে। তাঁর অভিযোগ, ছোট আকারের গ্রামীণ সড়কে অতিরিক্ত ওজনের বালুবাহী ট্রাক চলাচলের কারণেই দ্রুত সড়ক নষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জোয়াদ আলী বলেন, বড় বড় বালুবাহী ট্রাকের চাপ সামলাতে না পেরে সড়কটি ভেঙে গেছে। এখন মানুষ বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। দ্রুত ভারী যানবাহন বন্ধ করে সড়ক সংস্কারের দাবি জানান তিনি।

যদুবয়রা জয়বাংলা বাজার কমিটির আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম বলেন, চার-পাঁচটি ইউনিয়নের মানুষের জন্য এই সড়ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। তাই দ্রুত সড়ক সংস্কার ও অবৈধ ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ করা প্রয়োজন।

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী মো. নাজমুল হক বলেন, সড়কটির ধারণক্ষমতা ১০ টন। কিন্তু সেখানে ২৫ থেকে ৩০ টন ওজনের বালুবাহী ট্রাক চলাচল করছে। এ কারণে সংস্কারের কয়েক বছরের মধ্যেই সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে আগামী অর্থবছরে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তবে অতিরিক্ত ওজনের যানবাহন চলাচলের বিষয়টি জানা নেই বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার। তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১১৭ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন