দুর্যোগে জীবন রক্ষাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, মাঠপ্রশাসনকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬ ১১:০২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
দেশজুড়ে অতিবৃষ্টিজনিত জলাবদ্ধতা ও দুর্যোগ পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন, সম্পদ এবং জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে মাঠপ্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত ত্রাণ, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে।
রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে দেশের আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), সিভিল সার্জন এবং মাঠপ্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল সভায় এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তিনি সভায় যুক্ত হন।
প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ জানান, অতিবৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতা, ক্ষয়ক্ষতি, উদ্ধার কার্যক্রম, আশ্রয়কেন্দ্রের পরিস্থিতি, ত্রাণ বিতরণ এবং চিকিৎসাসেবার অগ্রগতি নিয়ে সভায় বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। বিভিন্ন জেলার কর্মকর্তারা নিজ নিজ এলাকার সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগকালে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষাই প্রশাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় পানি, শিশুখাদ্য, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।
একই সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা, পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ সুবিধা সচল রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিশেষভাবে নারী, শিশু, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং গর্ভবতী নারীদের স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশও দেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, দুর্যোগের সুযোগ নিয়ে কোনো অসাধু চক্র যেন চুরি, ডাকাতি, মজুতদারি, ত্রাণ আত্মসাৎ বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে।
ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দেন।
সভায় দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি, স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রম, বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত উদ্ধার অভিযান, নদ-নদীর পানির স্তর এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়মিত পর্যবেক্ষণের বিষয়েও আলোচনা হয়।
চট্টগ্রাম থেকে যুক্ত কর্মকর্তারা জানান, সেখানে জলাবদ্ধতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে সিলেট অঞ্চলে মনু নদের বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। অন্যদিকে রংপুর বিভাগে নতুন করে জলাবদ্ধতার আশঙ্কার কথাও তুলে ধরা হয়।
এসব তথ্য পর্যালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী সম্ভাব্য সব ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি জোরদার, প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে জনগণের পাশে থাকার নির্দেশ দেন।
১১৪ বার পড়া হয়েছে