সর্বশেষ

জাতীয়

জবাবদিহিতা নিশ্চিতে বাংলাদেশে মেটা-গুগলের কার্যালয় দাবি

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬ ৪:২৯ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপতথ্য, মানহানিকর কনটেন্ট এবং সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে মেটা ও গুগলের মতো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় কার্যালয় স্থাপনের দাবি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে বিদ্যমান আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা থেকেই যাবে।

দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে কয়েক কোটি মানুষ নিয়মিত ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছেন। এর পাশাপাশি ভুয়া তথ্য, গুজব, মানহানিকর প্রচার, ব্ল্যাকমেইল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বিভ্রান্তিকর ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাও বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করছেন।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, এসব প্ল্যাটফর্মে আপত্তিকর বা আইনবিরোধী কনটেন্ট সরাতে বাংলাদেশ সরকারকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে হয়। স্থানীয়ভাবে সরাসরি কনটেন্ট অপসারণ বা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা সীমিত হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সময় লাগে। ফলে ক্ষতিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এ অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার রোধে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গুজব, অপতথ্য, মানহানিকর কনটেন্ট এবং এআই-নির্ভর বিভ্রান্তিকর ছবি, ভিডিও ও অডিও প্রতিরোধে আইনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে।

তবে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, শুধু আইন সংশোধন করলেই সমস্যার পূর্ণ সমাধান হবে না। তাঁদের মতে, মেটা, গুগলসহ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বাংলাদেশে স্থানীয় কার্যালয় বা দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধিত্ব না থাকলে আইনি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা কঠিন হবে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে স্থানীয় আইন ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় আনতে কঠোর নীতিমালা গ্রহণ করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণ, তথ্য সুরক্ষা এবং আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের জরিমানার বিধান রয়েছে। এসব ব্যবস্থার ফলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হচ্ছে।

তাঁদের মতে, বাংলাদেশও একই ধরনের কার্যকর নীতিমালা গ্রহণ করতে পারে। পাশাপাশি স্থানীয় কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে সাইবার অপরাধ, অপপ্রচার, ভুয়া তথ্য এবং অনলাইন হয়রানি মোকাবিলা আরও সহজ হবে।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের স্বাধীন ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় ও জবাবদিহিতামূলক কাঠামো গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি।

১৪১ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন