নরসিংদীতে শীতলাবাড়ি মন্দিরের ভুয়া কমিটি গঠন: টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬ ১১:২৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
নরসিংদী পৌর শহরের ঐতিহাসিক শীতলাবাড়ি মন্দিরের বৈধ কমিটি সচল থাকা সত্ত্বেও ভুয়া কমিটি গঠন করে সরকারি অনুদানের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে পূজা উদযাপন ফ্রন্টের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
শীতলাবাড়ি মন্দিরটি সুদীর্ঘকাল ধরে সরকারি নিয়মনীতি মেনে পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমান কমিটির সভাপতি সুশীল চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক অখিল দাস সোনালী ব্যাংক নরসিংদী শাখার মাধ্যমে মন্দিরের হিসাব পরিচালনা করছেন। হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের নিবন্ধিত এই মন্দিরে হঠাৎ করেই বিভেদ সৃষ্টি করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের।
অভিযোগ উঠেছে, জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব দীপক কুমার বর্মণ প্রিন্স সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করেন যে, শীতলাবাড়ি মন্দিরের কোনো বৈধ কমিটি নেই। এই অজুহাতে তিনি নিজে সভাপতি হয়ে নিজের স্বজনদের সদস্য করে একটি ভুয়া কমিটি গঠন করেন এবং টিআর প্রকল্পের সরকারি অনুদানের জন্য আবেদন করেন।
এই ভুয়া কমিটিতে তুষার দাস নামের এক ব্যক্তির স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগও উঠেছে। ভুক্তভোগী তুষার দাস জানান, তাকে না জানিয়েই ওই কমিটিতে তার নাম ব্যবহার করা হয়েছে এবং জাল সই দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে তিনি নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে ভুয়া কমিটির মাধ্যমে মন্দিরের উন্নয়নকাজের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি অনুদানের ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে তোলপাড় শুরু হয়। চাপের মুখে দীপক কুমার বর্মণ মন্দির কমিটির কাছে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন এবং বাকি ২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলে জানান।
এদিকে শুধু মন্দিরের টাকাই নয়, ওএমএস ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়া এবং বিভিন্ন মন্দিরের নতুন কমিটি গঠন করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দীপক কুমার বর্মণ অনেকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা বর্তমানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
মন্দিরের উপদেষ্টা ও নরসিংদী জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হারুন অর রশিদ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, মন্দিরটির কমিটি দীর্ঘদিনের। কাগজপত্রের মাধ্যমেই এর সত্যতা প্রমাণিত হবে, মুখে বললেই কমিটি অবৈধ হয়ে যায় না।
১১৭ বার পড়া হয়েছে