দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে সুন্দরবনে মুক্ত হলো বাঘিনী, লাগানো হলো রেডিও কলার
রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬ ১১:২১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সুন্দরবনে শিকারিদের পাতা হরিণ ধরার ফাঁদে আটকে গুরুতর আহত হওয়া একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে দীর্ঘ ছয় মাসের নিবিড় চিকিৎসা শেষে অবশেষে বনে অবমুক্ত করা হয়েছে। রবিবার সকালে পূর্ব সুন্দরবনের আন্ধারমানিক এলাকায় এই বাঘিনীকে মুক্ত করা হয়, যার গতিবিধি পর্যবেক্ষণে যুক্ত করা হয়েছে আধুনিক রেডিও কলার।
বাঘিনীটিকে অবমুক্ত করার সময় আন্ধারমানিক বনাঞ্চলে উপস্থিত ছিলেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলামসহ বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাদের উপস্থিতিতেই খাঁচা খুলে বাঘটিকে গভীর বনে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের সড়কিখাল সংলগ্ন এলাকায় শিকারিদের পাতা হরিণ ধরার ফাঁদে বাঘটি আটকে পড়ে। ফাঁদের কবলে পড়ে বাঘিনীটির সামনের বাম পা মারাত্মকভাবে জখম হয়েছিল। দীর্ঘ সময় অভুক্ত থাকায় বাঘটি শারীরিকভাবে নিস্তেজ হয়ে পড়ে এবং স্বাভাবিকভাবে চলাচলের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
আহত বাঘটিকে উদ্ধার করে খুলনার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের উদ্ধার কেন্দ্রে পাঠানো হয়। সেখানে বিশেষ মেডিকেল বোর্ড গঠন করে শুরু হয় চিকিৎসা। দীর্ঘ ছয় মাস ধরে চলে এর নিবিড় পরিচর্যা ও প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার।
বাঘটির প্রধান চিকিৎসক ও গাজীপুর সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি অফিসার ডা. হাতেম সাজ্জাদ মো. জুলকারনাইন জানান, নিবিড় চিকিৎসায় বাঘিনীটি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ ও চটপটে হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো কোনো অসুস্থ বাঘকে উদ্ধার ও চিকিৎসা দিয়ে পুনরায় বনে অবমুক্ত করা সম্ভব হলো, যা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে এক মাইলফলক।
পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, বাঘটির গতিবিধি ও আচরণ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে শরীরে রেডিও কলার পরানো হয়েছে। এছাড়া তার বিচরণ এলাকায় বিশটি বিশেষ ক্যামেরা ট্র্যাপ স্থাপন করা হবে, যার মাধ্যমে তার স্বাভাবিক গতিবিধি নিয়মিত নজরে রাখা হবে।
১৪০ বার পড়া হয়েছে