পটুয়াখালীতে টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে মাছের ঘের, সাগরে নিখোঁজ ৮ জেলে
বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬ ১১:২০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে পটুয়াখালীর উপকূলজুড়ে টানা ভারী বর্ষণে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। রেকর্ড বৃষ্টিপাতে জেলার বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে তলিয়ে গেছে অসংখ্য মাছের ঘের ও ফসলি জমি। একই সঙ্গে উত্তাল সাগরে মাছ ধরতে না পেরে চরম বিপাকে পড়েছেন উপকূলের হাজার হাজার জেলে ও ঘাট শ্রমিক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল থেকে শুরু হওয়া টানা মুষলধারে বৃষ্টিতে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী, দশমিনা, কলাপাড়া ও বাউফল উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। আকস্মিক এই জলাবদ্ধতায় ভেসে গেছে শত শত পুকুর ও মাছের ঘেরের চাষ করা মাছ। এছাড়া উঠতি আমন ধানের বীজতলা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে উত্তাল রয়েছে বঙ্গোপসাগর। প্রাণহানি ও ট্রলার ডুবির আশঙ্কায় জেলেরা গভীর সমুদ্রে যেতে পারছেন না। সম্প্রতি কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে তিনটি ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ১৩ জেলের মধ্যে ৫ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনও ৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন কলাপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা।
মহিপুর মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাজু আহমেদ রাজা জানান, সমুদ্র অত্যন্ত উত্তাল থাকায় আলীপুর ও মহিপুর মৎস্য বন্দরে হাজার হাজার মাছ ধরার ট্রলার নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে এসেছে। তবে ইলিশের ভরা মৌসুমেও সাগরে যেতে না পারায় ঘাট ও আড়তের হাজার হাজার দিনমজুর ও শ্রমিক বর্তমানে সম্পূর্ণ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জেলেদের জীবনের সুরক্ষায় তৎপর রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। কুয়াকাটা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মনিরুজ্জামান জানান, জেলেরা যেন কোনোভাবেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল সাগরে না যান, সে জন্য উপকূলের বিভিন্ন ঘাটে নিয়মিত মাইকিং ও সতর্কতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে বলেও জানান তিনি।
১১৭ বার পড়া হয়েছে