সর্বশেষ

জাতীয়

পাহাড় ধসে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি সরিয়ে বাড়ি করে দেবে সরকার : দুর্যোগমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০৮ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
পাহাড় ধসে প্রতিবছর প্রাণহানি বন্ধ করতে পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। সরকারি জমিতে তাঁদের জন্য ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানান তিনি।

সংসদে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবানসহ বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় সাম্প্রতিক পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সরকার। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের স্থায়ীভাবে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২২তম দিনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান। সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

মন্ত্রী জানান, সাম্প্রতিক পাহাড় ধসে চট্টগ্রামে পাঁচজন, কক্সবাজারে ১৯ জন, রাঙামাটিতে একজন এবং বান্দরবানে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্গত মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে বিপুলসংখ্যক আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।

এর মধ্যে চট্টগ্রামে ৪১টি, কক্সবাজারে ৬৪০টি, রাঙামাটিতে ২১টি, খাগড়াছড়িতে ১৩৫টি এবং বান্দরবানে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, শিশু খাদ্য এবং নিয়মিত খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাঠপর্যায়ে প্রচার ও মাইকিং কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, গত ৭ জুলাই দুর্গত জেলাগুলোর জন্য প্রথম দফায় প্রতিটি জেলায় ১০ লাখ টাকা করে জিআর ক্যাশ এবং ২০০ মেট্রিক টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রামের জন্য ২৫ লাখ টাকা, কক্সবাজারের জন্য ২০ লাখ টাকা এবং রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের জন্য ১০ লাখ টাকা করে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে চট্টগ্রামে ৩০০ মেট্রিক টন, কক্সবাজারে ২৫০ মেট্রিক টন এবং রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে ২০০ মেট্রিক টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব ত্রাণ তহবিল থেকে প্রতিটি জেলায় ২০ লাখ টাকা করে বিশেষ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী বলেন, পাহাড়ের নিচে বা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসের কারণে প্রতিবছর যে প্রাণহানি হচ্ছে, তা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা জরুরি। সরকারের হাতে থাকা খাস জমি ও আবাসন মন্ত্রণালয়ের জমি ব্যবহার করে ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের নিরাপদ এলাকায় পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি এ কাজে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সহযোগিতা চেয়ে বলেন, জনপ্রতিনিধিরা যদি জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করেন এবং তাদের সরিয়ে নিতে সহায়তা করেন, তাহলে সরকার প্রয়োজনীয় ঘর নির্মাণসহ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে প্রস্তুত।

মন্ত্রী আরও জানান, পাহাড়ি এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। ভবিষ্যতে পাহাড় ধসে যেন আর কোনো প্রাণহানি না ঘটে, সে জন্য সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

১১৭ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন